ডিপ্লোম্যাটিক ডেস্কঃ
ঢাকায় অবস্থিত কসোভো প্রজাতন্ত্রের দূতাবাস রবিবার (১৯ এপ্রিল, ২০২৬) ১৮তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে এক সংবর্ধনার আয়োজন করে। এ অনুষ্ঠানে সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, কূটনীতিক, ব্যবসায়ী, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং কসোভোর বন্ধুদের উপস্থিতিতে এক বর্ণাঢ্য পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। সংবর্ধনার আয়োজন করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত কসোভোর রাষ্ট্রদূত লুলজিম প্লানা।

অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রদূত পল্লানা তার বক্তব্যে স্বাধীনতার পর থেকে কসোভোর উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, গত প্রায় দুই দশকে কসোভো গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান গঠন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি, ডিজিটাল গভর্ন্যান্স উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জন করেছে।

তিনি বাংলাদেশকে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের জন্য অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচন দেশের গণতান্ত্রিক পরিপক্বতার প্রমাণ। নবনির্বাচিত সরকার ও সকল রাজনৈতিক দলের প্রতি কসোভোর শুভকামনা জানিয়ে তিনি দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
রাষ্ট্রদূত তার দীর্ঘ বক্তব্যে কসোভোর স্বাধীনতার ইতিহাস, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সমন্বয় প্রচেষ্টা এবং বৈশ্বিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় কসোভোর অবস্থান তুলে ধরেন। একইসঙ্গে তিনি বাংলাদেশকে ২০১৭ সালে কসোভোর স্বাধীনতা স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান।
বাংলাদেশ ও কসোভোর মধ্যকার সম্পর্কের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে তিনি জানান, ইতোমধ্যে দুই দেশের মধ্যে একাধিক সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে দ্বিপাক্ষিক পরামর্শ, কূটনৈতিক প্রশিক্ষণ এবং কূটনৈতিক ও অফিসিয়াল পাসপোর্টধারীদের জন্য ভিসা অব্যাহতি। এছাড়া শিক্ষা খাতে চারটি MoU স্বাক্ষরের মাধ্যমে একাডেমিক বিনিময় জোরদার হয়েছে।
কসোভো ডিপ্লোম্যাটিক একাডেমি ২০২০ সাল থেকে বাংলাদেশি নবীন কূটনীতিকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছে। ২০২৪ সালে চালু হওয়া কসোভো স্কলারশিপ প্রোগ্রামের মাধ্যমে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
মানবিক সহায়তার ক্ষেত্রেও সহযোগিতার দৃষ্টান্ত রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকটে কসোভো বাংলাদেশকে সহায়তা দিয়েছে এবং কক্সবাজারে শিশুদের শিক্ষাসামগ্রী প্রদানে একটি স্থানীয় এনজিওর সঙ্গে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
সাংস্কৃতিক বিনিময়ের দিকেও জোর দিয়ে তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক সম্পর্ক আরও গভীর করতে ইতোমধ্যে “Kosovo Film Days” এবং বিভিন্ন চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের শিক্ষার্থীরা কসোভোর গান পরিবেশন করেন, যা সাংস্কৃতিক বন্ধনের প্রতীক হিসেবে প্রশংসিত হয়।

অন্যদিকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী জাহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বাংলাদেশ ও কসোভো উভয় দেশই সংগ্রাম, আত্মত্যাগ ও সার্বভৌমত্ব অর্জনের অভিন্ন অভিজ্ঞতা বহন করে। এই ঐতিহাসিক সাদৃশ্য দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার দৃঢ় ভিত্তি তৈরি করেছে।

তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিক্ষা, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি এবং জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগ আরও সম্প্রসারণের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি বাংলাদেশের নতুন সরকারের পক্ষ থেকে কসোভোর সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

মন্ত্রী তার বক্তব্যে কসোভোর স্বাধীনতার ইতিহাসের প্রশংসা করে বলেন, ২০০৮ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি কসোভোর স্বাধীনতা ঘোষণা ছিল একটি জাতির দীর্ঘ সংগ্রামের সফল পরিণতি। তিনি কসোভোর গত ১৮ বছরের উন্নয়ন, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালীকরণ এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সম্পৃক্ততার প্রশংসা করেন।
বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পারস্পরিক সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বে খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন এবং টেকসই উন্নয়নের মতো বিষয়গুলোতে সম্মিলিতভাবে কাজ করা প্রয়োজন।
শেষে তিনি বলেন, “বাংলাদেশ ও কসোভোর বন্ধুত্ব আরও সুদৃঢ় হোক এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক আরও গভীর হোক।”
অনুষ্ঠানের শেষে কসোভো দূতাবাস বাংলাদেশ সরকার, জনগণ, কূটনৈতিক মহল এবং উপস্থিত সকল অতিথির প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।











