May 23, 2026

শিরোনাম
  • Home
  • অন্যান্য খবর
  • ভূমি সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে: ভূমি প্রতিমন্ত্রী

ভূমি সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে: ভূমি প্রতিমন্ত্রী

Image

ডেস্ক রিপোর্টঃ

ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেছেন, ভূমি সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। এ লক্ষ্যে ভূমি সেবা প্রোভাইডারদের গতিবিধি মনিটরিং করা হবে।

বৃহস্পতিবার (২১ মে, ২০২৬) চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজ প্রাঙ্গণে চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রশাসন ও জেলা প্রশাসনের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত তিন দিনব্যাপী ‘ভূমিসেবা মেলা ২০২৬’-এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা সেবা প্রদানকারীদের বারবার জনসেবা প্রদানের বিষয়ে সচেতন করেছি। এখন আমাদের দেখা উচিত জনসেবা ঠিকমতো নিশ্চিত হচ্ছে কি না। এজন্য আমরা একটি ড্যাশবোর্ড তৈরি করেছি। ড্যাশবোর্ডটি ‘ভূমি দৃষ্টি’ নামে ভূমি সেবা প্রদানকারীদের গতিবিধি মনিটরিং করবে, যা ভূমি সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতায় যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে।

তিনি বলেন, এই ‘ভূমি দৃষ্টি’ অ্যাপটি প্রাথমিক পর্যায়ে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর জেলায় পাইলট প্রকল্প হিসেবে শুরু হবে। এর মাধ্যমে দায়িত্বশীল সেবকদের ট্র্যাকিং সিস্টেমের আওতায় আনা হবে।

তিনি এর কার্যপদ্ধতি ব্যাখ্যা করে বলেন, অফিসগুলোর কার্যাবলী জিও লোকেটিভভাবে স্পট নির্ধারণ করা হয়েছে। যখনই দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জিও লোকেটরি করা মোবাইল ফোন নিয়ে সংশ্লিষ্ট ভূমি সেবা প্রদান এলাকায় প্রবেশ করবেন, তখনই ‘ভূমি দৃষ্টি’ অ্যাপটিতে সবুজ সংকেত জ্বলে উঠবে। আবার যখন তিনি এলাকা ত্যাগ করবেন, তখন লাল সংকেত প্রদর্শিত হবে। এভাবেই সেবা প্রদানের মান নির্ণয় ও মনিটরিং করা সম্ভব হবে।

এর মাধ্যমে সেবার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অফিসে সেবা প্রদানকারীদের উপস্থিতি ও কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে পর্যবেক্ষণ করা যাবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

মীর হেলাল উদ্দীন আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকারের সর্বাত্মক চেষ্টা হচ্ছে সমাজের সুবিধাবঞ্চিতদের জীবনমান উন্নয়নের মাধ্যমে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়া। প্রান্তিক পর্যায় থেকে ভূমি সংক্রান্ত দুর্নীতি কমিয়ে এনে জনসেবা নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করছি।

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কৃষিজমি, বনভূমি ও জলাশয় কোনোভাবেই বিনষ্ট হতে দেওয়া হবে না। ল্যান্ড জোনিং পদ্ধতিতে নির্ধারিত জোন অনুযায়ী এসব সম্পদ সুরক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যা রিজার্ভ ফরেস্ট রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি ভূমি মামলা-মোকদ্দমা কমাতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি জানান।

ভূমি মন্ত্রণালয় ভূমি মেলার মাধ্যমে জনগণের সচেতনতা আগের তুলনায় অনেক বৃদ্ধি করেছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, গুটিকয়েক দুষ্টু ও অনৈতিক কাজের সাথে জড়িতদের কারণে পুরো ভূমি ব্যবস্থাপনাকে কোনোভাবেই কলঙ্কিত হতে দেওয়া হবে না।

তিনি বলেন, শুধু আইন প্রয়োগ করে মানুষের মনস্তত্ত্ব পরিবর্তন করা সম্ভব নয়; এজন্য চিন্তা-ভাবনায় পরিবর্তন আনতে হবে, সমাজে ইতিবাচক মানসিকতার বিকাশ ঘটাতে হবে।

প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, বর্তমানে দেশের ১৯৩টি ভূমিসেবা সহায়তা কেন্দ্রের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ নামমাত্র ফি দিয়ে অনলাইন ভূমিসেবা গ্রহণ করতে পারছেন। এসব কেন্দ্রের মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীও ডিজিটাল সেবার আওতায় আসছে।

তিনি বলেন, ভূমি সংক্রান্ত অধিকাংশ লেনদেন ইতোমধ্যে ই-পেমেন্ট ব্যবস্থার আওতায় এসেছে। পাশাপাশি কৃষিজমি ও বনভূমি সংরক্ষণে ডিজিটাল ল্যান্ড জোনিং সিস্টেম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার মাধ্যমে ভূমির শ্রেণি অনুযায়ী ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

ভূমি খাতে দুর্নীতি কমাতে সেবা সহজীকরণ ও দালালমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। প্রযুক্তির ব্যবহার ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে ভূমিসেবাকে আরও আধুনিক, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব করার কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।

ভূমিসেবা মেলার এবারের মূল প্রতিপাদ্য ছিল—

‘জনবান্ধব অটোমেটেড ভূমি ব্যবস্থাপনা, সুরক্ষিত ভূমি, সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ’।

অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী ১০ জন ভূমিহীনকে কৃষিখাসজমির বন্দোবস্তের কবুলিয়ত ও সেবা প্রত্যাশীদের হাতে খতিয়ান এবং কুইজ প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার ও সনদপত্র তুলে দেন।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সভাপতিত্বে এবং বাকলিয়া সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিফাত বিনতে আরার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচক ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দিন।

বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. মনিরুজ্জামান এবং চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক-অর্থ ও প্রশাসন) মো. ওয়াহিদুল হক চৌধুরী।

এছাড়াও বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. সাখাওয়াত জামিল সৈকত।

অনুষ্ঠানে বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ, বীর মুক্তিযোদ্ধা, সেবাগ্রহীতা এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, সার্কিট হাউজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত তিনদিনব্যাপী ভূমিসেবা মেলায় মোট ১২টি স্টলে ভূমি ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সেবা প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে ভূমিসেবা সংশ্লিষ্ট আবৃত্তি এবং ঐতিহ্যবাহী গম্ভীরা পরিবেশন করা হয়।

Scroll to Top