May 25, 2026

শিরোনাম
  • Home
  • জাতীয়
  • সরকারের ১০০ দিনে ‘মানবিক ও জনমুখী রাজনীতির’ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে সরকার: মাহদী আমিন

সরকারের ১০০ দিনে ‘মানবিক ও জনমুখী রাজনীতির’ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে সরকার: মাহদী আমিন

Image

ডেস্ক রিপোর্টঃ

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেছেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার গত ১০০ দিনে মানবিক ও জনমুখী রাজনীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তিনি বলেন, দীর্ঘ দুঃশাসন ও রক্তস্নাত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশ গভীর সংকট কাটিয়ে জনগণের ক্ষমতায়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে।

সোমবার (২৫ মে, ২০২৬) বিকেল ৩টায় রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ‘করবী’ হলে সরকারের ১০০ দিন পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং।

মাহদী আমিন বলেন, চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে এবং ১৭ ফেব্রুয়ারি বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। সরকার গঠনের পর থেকেই অগ্রাধিকারভিত্তিক নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রতিটি মন্ত্রণালয়কে ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, সরকারের প্রথম মাসেই ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর মাধ্যমে নারীকেন্দ্রিক সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। এছাড়া ইমাম, মুয়াজ্জিন, খতিব ও অন্যান্য ধর্মীয় নেতাদের জন্য সম্মানি চালু, প্রিপেইড বিদ্যুৎ মিটারের অতিরিক্ত মাসিক চার্জ প্রত্যাহার এবং ক্ষুদ্র কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মাহদী আমিন বলেন, ‘কৃষক কার্ড’ চালুর মাধ্যমে কৃষি ব্যবস্থাপনাকে ডিজিটাল কাঠামোর আওতায় আনা হয়েছে। দেশজুড়ে খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে কৃষি, সেচ ও পানি ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে কৃষি ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনায় সম্ভাবনা তৈরিতে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, সরকার গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের সর্বোচ্চ স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে কাজ করছে। তবে বাকস্বাধীনতার নামে অপপ্রচার ও বিদ্বেষ ছড়ানো গণঅভ্যুত্থানের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মুখপাত্র জানান, ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৪ মে পর্যন্ত মন্ত্রিসভার ১০টি বৈঠকে ৬০টি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। এর মধ্যে ৩৭টি ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে এবং বাকিগুলো বাস্তবায়নাধীন রয়েছে।

ঈদুল আজহা সামনে রেখে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা ও ঈদ বোনাস পরিশোধ নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে সমন্বয় করছে বলেও জানান মাহদী আমিন। তিনি বলেন, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে বিশেষ ট্রেন ও নৌ-সার্ভিস চালু করা হয়েছে। নারীদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে ট্রেনে আলাদা কম্পার্টমেন্ট রাখা হয়েছে এবং ঈদের সাত দিন আগে থেকে বিশেষ মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, কোরবানির পশুর বর্জ্য দ্রুত অপসারণ, চামড়ার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ এবং সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি হজযাত্রীদের বিমানভাড়া কমানো সম্ভব হয়েছে।

মাহদী আমিন জানান, টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত ইকোনমিক করিডোর বাস্তবায়নের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। আগামী ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে উদ্বোধনের লক্ষ্য নিয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনালের কাজ এগিয়ে চলছে।

তরুণদের জন্য বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরে তিনি বলেন, বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য ব্যাংক গ্যারান্টি সুবিধা সম্প্রসারণ, বিমানবন্দর ও ট্রেনে হাই-স্পিড ফ্রি ওয়াই-ফাই চালু এবং ‘স্পোর্টস’ ও ‘নতুন কুঁড়ি’ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য খাতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, হামের টিকা এনে প্রায় শতভাগ শিশুকে টিকাদানের আওতায় আনা হয়েছে। পাশাপাশি মাতৃত্বকালীন ছুটি বৃদ্ধি এবং পর্যায়ক্রমে স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ নিশ্চিতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রী ভুক্তভোগী পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিতের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। ইতোমধ্যে এ ঘটনায় চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে।

এছাড়া মেহেরপুরে ৯ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের দায়ে ২৯ কার্যদিবসের মধ্যে এক আসামির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনাকে দ্রুত বিচার নিশ্চিতের বিরল নজির হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর মানবিক দিক তুলে ধরে মাহদী আমিন বলেন, এখন ভুক্তভোগীরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে যান না, বরং প্রধানমন্ত্রীই জনগণের দুয়ারে পৌঁছে যাচ্ছেন। তিনি মানুষের দুঃখ-কষ্টে পাশে দাঁড়াচ্ছেন এবং সহমর্মিতার হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশি পাসপোর্টে পুনরায় ‘ইসরায়েল ব্যতীত’ শব্দবন্ধ যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

মাহদী আমিন জানান, এস আলম গ্রুপের ৪ হাজার ২৬৪ কোটি টাকার স্থাবর সম্পদ জব্দ করা হয়েছে। বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে চুক্তিও স্বাক্ষরিত হয়েছে।

তিনি বলেন, গত মাসে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছে এবং মাসিক রেমিট্যান্স প্রায় ৩ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। পাশাপাশি প্রবাসী কার্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এছাড়া প্রায় দুই লাখ ফ্রিল্যান্সারকে রাষ্ট্রীয় পরিচয়পত্র প্রদান, বন্ধ কলকারখানা পুনরায় চালু এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ৬০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে মাহদী আমিন পবিত্র ঈদুল আজহার অগ্রিম শুভেচ্ছা জানান। পরে লিখিত বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, স্পিচ রাইটার এস এ এম মাহফুজুর রহমান, ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলাম রনি, মোস্তফা জুলফিকার হাসান, মো. সুজাউদ্দৌলা (সুজন মাহমুদ), শাহাদাৎ হোসেন স্বাধীনসহ প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের অন্যান্য সদস্যরা।

Scroll to Top