রাশিয়ায় যাত্রা শুরুর আগে পাসপোর্ট ও ভিসা গ্রহণ করলেন রাশিয়ান গভর্মেন্ট স্কলারশিপপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা


রাশিয়ান গভর্মেন্ট স্কলারশিপ বিজয়ী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের নিয়ে একটি বিশেষ সভার আয়োজন করেছে রাশিয়ান হাউস ঢাকা। সভায় সফল স্কলারশিপপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা রাশিয়ার ভিসাসহ পাসপোর্ট গ্রহণ করেন, যা রাশিয়ায় তাদের শিক্ষাজীবন শুরুর ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
এ আয়োজনে রাশিয়ায় যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া স্কলারশিপ বিজয়ী, রাশিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী, রাশিয়ায় একাডেমিক ও পেশাগত অভিজ্ঞতা অর্জনকারী ব্যক্তিবর্গ এবং বর্তমানে অধ্যয়নরত স্কলারশিপপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা (অনলাইনের মাধ্যমে) একত্রিত হন। নতুন যাত্রা শুরু করতে যাওয়া শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিজেদের অভিজ্ঞতা ও ব্যবহারিক পরামর্শ শেয়ার করাই ছিল এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।
![]() |
![]() |
![]() |
![]() |
অনুষ্ঠানের শুরুতে রাশিয়ান হাউস ঢাকার পরিচালক অ্যালেক্সান্দ্রা এ. খলেভনায়া স্বাগত বক্তব্য দেন। এরপর বক্তব্য রাখেন আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ ও রাশিয়ার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। তাঁদের মধ্যে ছিলেন সোভিয়েত অ্যালুমনি অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (SAAB)-এর নির্বাহী কমিটির সদস্য প্রফেসর ড. মো. নাসিম আক্তার; SAAB-এর ১৪তম নির্বাহী কমিটির সাধারণ সম্পাদক স্থপতি তানিয়া আতিক; ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অল্টারনেটিভ-এর সহকারী অধ্যাপক এবং RUDN বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক ড. বারেক কায়সার; মস্কোর এন. এন. ব্লোখিন ন্যাশনাল মেডিকেল রিসার্চ সেন্টার অব অনকোলজির অনকোপ্লাস্টিক অ্যান্ড রিকনস্ট্রাক্টিভ ব্রেস্ট সার্জন এবং পিরোগভ রাশিয়ান ন্যাশনাল রিসার্চ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক ড. মাহমুদুল হাসান; এবং RUDN বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৬ সালের স্নাতক ও রাশিয়ান নিউক্লিয়ার এডুকেশন অ্যাম্বাসেডর এরাদাতুদ্দিনিয়াত।
আমন্ত্রিত বক্তারা রাশিয়ায় তাঁদের পড়াশোনা, জীবনযাপন এবং পেশাগত উন্নয়নের নিজস্ব অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। এতে স্কলারশিপপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়জীবন, নতুন পরিবেশে খাপ খাইয়ে নেওয়া, একাডেমিক সুযোগ-সুবিধা এবং আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার গড়ার অভিজ্ঞতা সম্পর্কে সম্যক ধারণা পান।
প্রোগ্রামের একটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল বর্তমানে রাশিয়ার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ। তাঁরা রাশিয়া থেকে অনলাইনে যুক্ত হন এবং দেশ ছাড়ার পূর্বপ্রস্তুতি, শিক্ষার্থীদের জীবনধারা, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ, আবাসনব্যবস্থা, পড়াশোনা এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য উপলব্ধ সুযোগগুলোর সর্বোচ্চ ব্যবহারের বিষয়ে নানা মূল্যবান পরামর্শ শেয়ার করেন।
এই সরাসরি মতবিনিময়ের মাধ্যমে নতুন স্কলারশিপপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা ইতোমধ্যে একই পথ অতিক্রম করা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পরামর্শ পাওয়ার সুযোগ পান এবং রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর তাঁদের জন্য কী ধরনের অভিজ্ঞতা অপেক্ষা করছে, সে সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা অর্জন করেন।
স্কলারশিপপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের কাছে ভিসাসহ পাসপোর্ট ফিরে পাওয়া কেবল একটি প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া নয়—এটি রাশিয়ায় তাঁদের নতুন শিক্ষাগত ও ব্যক্তিগত অধ্যায়ের শুভসূচনা।
রাশিয়ান হাউস ঢাকা সকল স্কলারশিপপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সফল যাত্রা, ফলপ্রসূ অধ্যয়ন এবং রাশিয়ায় একটি স্মরণীয় অভিজ্ঞতার জন্য শুভকামনা জানায়।















