বাংলাদেশ-ভারত যৌথ উদ্যোগে উৎপাদনের ওপর জোর দিলেন ভারতীয় হাইকমিশনার


বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও গতিশীল করতে বন্ধ থাকা সীমান্ত হাট পুনরায় চালু, স্থলবন্দরগুলোকে পূর্ণ সক্ষমতায় কার্যকর করা এবং স্থলপথে সুতা আমদানির ওপর বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
সোমবার (২৪ আগস্ট, ২০২৬) সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের সঙ্গে ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ, ব্যবসায়িক প্রতিবন্ধকতা দূর করা এবং নতুন বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টির বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে।

বৈঠক শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বর্তমানে প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলারের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য রয়েছে। তবে গত দেড় বছরে কিছু প্রতিবন্ধকতা তৈরি হওয়ায় বাণিজ্যিক কার্যক্রমে কিছুটা ধীরগতি এসেছে। এসব সমস্যা চিহ্নিত করে ভবিষ্যতে দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্ক আরও সহজ ও কার্যকর করার বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।
তিনি বলেন, চীনের পর ভারত বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার। দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। বৈঠকে স্থলবন্দরগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় কার্যকর করা, বন্ধ থাকা সীমান্ত হাট পুনরায় চালু এবং স্থলপথে সুতা আমদানির ওপর বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সহযোগিতা বাড়াতে একটি যৌথ টাস্কফোর্স গঠন এবং ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয়েও প্রস্তাব এসেছে। এর মাধ্যমে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি, ব্যবসায়িক সম্পর্ক সম্প্রসারণ এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে গতি আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভারতীয় হাইকমিশনারের উদ্যোগে আগামী দিনে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা নতুন মাত্রা পাবে।
বৈঠকে ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিষয়ে কিছু মতপার্থক্য থাকলেও সাধারণ মানুষ উন্নয়ন ও অগ্রগতি চায়। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যতের জন্য বাংলাদেশ ও ভারতকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারত দুটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ। কেউ বড় বা ছোট নয়; সবাই সমান। এই সমতার ভিত্তিতেই দুই দেশকে কাজ করে যেতে হবে।
অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে হাইকমিশনার বলেন, অর্থনৈতিক সম্পর্ক শক্তিশালী হলে অন্যান্য ক্ষেত্রেও সহযোগিতা আরও বৃদ্ধি পাবে।
যৌথ উদ্যোগ ও উৎপাদনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত বিশ্বব্যাপী অত্যন্ত সফল। ভারত এই খাতে জিপার, মেশিনারি, বোতামসহ বিভিন্ন উপকরণ সরবরাহের মাধ্যমে সহযোগিতা করতে পারে। এর মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক নির্ভরতা আরও বাড়ানো সম্ভব।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে ‘Made in Bangladesh’ লেখা পোশাক দেখলে তিনি গর্ব অনুভব করেন। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে যৌথ উদ্যোগে তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন পণ্য উৎপাদনের সুযোগ রয়েছে। সীমান্ত পর্যায়েও যৌথ উদ্যোগে উৎপাদন করা যেতে পারে।
হাইকমিশনার বলেন, ‘Business to business’ সহযোগিতা আরও বাড়াতে হবে। রাজনীতি তার নিজস্ব গতিতে চলবে, কিন্তু ব্যবসা ও অর্থনীতির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করা দুই দেশের দায়িত্ব।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ও ভারত বিভিন্ন ক্ষেত্রে যৌথ বিনিয়োগ ও যৌথ উৎপাদনের উদ্যোগ নিতে পারে। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক বিশ্ববাজারে বিশেষভাবে সফল হওয়ায় এ খাতে দুই দেশের ব্যবসায়ীদের সহযোগিতার বড় সুযোগ রয়েছে।
দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি, যৌথ বিনিয়োগ ও উৎপাদনের নতুন ক্ষেত্র তৈরি এবং সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার মাধ্যমে বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্যিক সম্পর্ক আগামী দিনে আরও সম্প্রসারিত হবে বলে বৈঠকে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।











