ডিপ্লোমেটিক ডেস্ক:
বাংলাদেশে নিযুক্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) রাষ্ট্রদূত আব্দুল্লাহ আলী খাসিফ আল-হামুদী শনিবার (২৩ মে, ২০২৬) বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে আইন-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা, মানবপাচার প্রতিরোধ, বাংলাদেশ থেকে দক্ষ জনশক্তি—বিশেষ করে চালক ও মালী—রপ্তানি এবং তাদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা, বাংলাদেশে ইউএই’র বিনিয়োগ ও বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক আইনি সহায়তা চুক্তি (Mutual Legal Assistance Treaty) নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বাংলাদেশ থেকে প্রশিক্ষিত ও দক্ষ জনশক্তি ইউএইতে পাঠাতে সরকারের পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, দুই দেশ যৌথভাবে বাংলাদেশে ছয় মাস মেয়াদি আন্তর্জাতিক মানের ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ কোর্স চালু করতে পারে। এই প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্নকারীদের ইউএইতে দক্ষ চালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন, উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (জিসিসি) বা গালফভুক্ত দেশগুলোর জন্য একটি অভিন্ন ড্রাইভার প্রশিক্ষণ কোর্স চালুর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হবে বলেও তিনি রাষ্ট্রদূতকে আশ্বস্ত করেন।
বৈঠকে ইউএই রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাত অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ রাষ্ট্র। বর্তমানে প্রায় ২০ লাখ বাংলাদেশি অভিবাসী সুনামের সঙ্গে ইউএইতে কর্মরত রয়েছেন, যারা দুই দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন।
তিনি জানান, বর্তমানে ইউএইতে দক্ষ চালক ও মালীর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে এবং এসব খাতে বাংলাদেশ থেকে প্রশিক্ষিত জনশক্তি নিয়োগে দেশটি বিশেষভাবে আগ্রহী। এছাড়া ইউএই’র রাষ্ট্রীয় নীতিমালা অনুযায়ী, চালক নিয়োগের ক্ষেত্রে ছয় মাসের বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও সম্প্রসারণের মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, ইউএই’র বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় কোম্পানি বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি, সাইবার সিকিউরিটি ও অন্যান্য উদীয়মান খাতে বড় পরিসরে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
বৈঠকে মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমনে দুই দেশের যৌথ উদ্যোগ নিয়েও আলোচনা হয়। রাষ্ট্রদূত জানান, মানবপাচার মোকাবিলায় দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) চূড়ান্ত হয়েছে এবং তা স্বাক্ষরের জন্য প্রস্তুত রয়েছে।
জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রস্তাব দেন, মানবপাচার প্রতিরোধসহ সব ধরনের অপরাধ মোকাবিলায় দুই দেশের মধ্যে একটি বিস্তৃত ‘মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স ট্রিটি’ স্বাক্ষর করা যেতে পারে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ চুক্তি দুই দেশের আইনি ও নিরাপত্তা সহযোগিতাকে আরও সুদৃঢ় করবে।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক শাখার অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, রাজনৈতিক-১ শাখার যুগ্মসচিব রেবেকা খান, রাজনৈতিক-১ অধিশাখার উপসচিব বেগম মিনারা নাজমিনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।











