ডেস্ক রিপোর্টঃ
তারেক রহমান সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের দল ও মতের ঊর্ধ্বে থেকে দেশকে ধারণে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি একই সঙ্গে দেশের সার্বভৌমত্ব ও সংবিধানের মর্যাদা সমুন্নত রাখা, জনগণের আস্থা অটুট রাখা এবং সততা ও ত্যাগের মাধ্যমে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
রোববার (১২ এপ্রিল ২০২৬) সকালে ঢাকা সেনানিবাস-এ সশস্ত্র বাহিনীর দরবারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সশস্ত্র বাহিনী কোনো ব্যক্তি, পরিবার বা দলের সম্পত্তি নয়; এটি একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের শক্তি ও মর্যাদার প্রতীক। সংবিধানের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং জনগণের অবিচল আস্থাই বাহিনীর পথচলার মূল ভিত্তি হওয়া উচিত। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা প্রতিটি সদস্যের পবিত্র দায়িত্ব বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অতীতে বিভিন্ন সময়ে বাহিনীকে দুর্বল ও বিতর্কিত করার অপচেষ্টা হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী পিলখানা হত্যাকাণ্ড-এর প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ওই ঘটনার মাধ্যমে সেনাবাহিনী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল এবং পরবর্তীতেও নানা কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বাহিনীকে বিতর্কিত করার চেষ্টা হয়েছে।
সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নে জিয়াউর রহমান-এর অবদানের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, সেই সময়ের দেশপ্রেম ও শক্তিশালী মনোভাব ধরে রাখা জরুরি। ঐক্যবদ্ধ সশস্ত্র বাহিনী থাকলে বাংলাদেশকে পরাজিত করা সম্ভব নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণকে একটি বড় অর্জন হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের সশস্ত্র বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি অর্জন করেছে।
তিনি আরও বলেন, সশস্ত্র বাহিনী শুধু যুদ্ধকালীন শক্তি নয়; প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা এবং বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায়ও তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। এমন একটি বাহিনী গড়ে তুলতে হবে, যাদেরকে বহির্বিশ্ব সম্মান করবে এবং দেশের জনগণ আস্থায় রাখবে।
প্রধানমন্ত্রী পেশাদারিত্বের প্রশ্নে কোনো আপস না করার ওপর গুরুত্বারোপ করে বাহিনীকে সর্বদা উচ্চ আদর্শিক অবস্থানে থাকার আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ড. একেএম শামছুল ইসলাম (অব.), সেনাবাহিনী প্রধান ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান এম নাজমুল হাসান এবং বিমান বাহিনী প্রধান হাসান মাহমুদ খাঁনসহ সশস্ত্র বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
দরবারে প্রধানমন্ত্রী বাহিনীর পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা ও জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় অবদানের প্রশংসা করেন। বিশেষ করে ২০২৪ সালের আগস্ট পরবর্তী সময় থেকে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে বাহিনীর ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন।
প্রধানমন্ত্রী ভবিষ্যতে সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি, আধুনিকায়ন এবং জাতীয় উন্নয়নে আরও কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
দরবারে ঢাকায় অবস্থানরত সামরিক ও অসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থানরত সদস্যরা ভিডিও টেলিকনফারেন্সের মাধ্যমে এতে অংশগ্রহণ করেন।











