সিঙ্গাপুর–বাংলাদেশ সহযোগিতার বন্ধন আরও দৃঢ় করতে এসসিপি অ্যালামনাইদের মিলনমেলা অনুষ্ঠিত


সিঙ্গাপুরের ৬১তম জাতীয় দিবস উদযাপনের অংশ হিসেবে ঢাকায় সিঙ্গাপুর হাইকমিশন Singapore Cooperation Programme (SCP)-এর ৩৪তম বার্ষিকী উপলক্ষে এক অ্যালামনাই ডিনারের আয়োজন করেছে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট ২০২৬) রাজধানীর শেরাটন ঢাকায় অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে সিঙ্গাপুরে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া প্রায় ৭৫ জন বাংলাদেশি এসসিপি অ্যালামনাই অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশনের সামাজিক-অর্থনৈতিক অবকাঠামো বিভাগের সদস্য (সচিব) নাসরীন জাহান। বক্তব্যে তিনি বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের মধ্যে অব্যাহত সহযোগিতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তাদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং সহযোগিতামূলক অংশীদারত্ব জোরদারে Singapore Cooperation Programme-এর ইতিবাচক অবদানেরও প্রশংসা করেন।

অনুষ্ঠানে সিঙ্গাপুর হাইকমিশনের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স মিচেল লি বক্তব্য রাখেন। তিনি সক্ষমতা বৃদ্ধি ও জ্ঞান বিনিময়ের মাধ্যমে অংশীদার দেশগুলোর উন্নয়নে সিঙ্গাপুরের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে তিনি এসসিপি অ্যালামনাইদের ‘এসসিপির দূত’ হিসেবে তাদের নিজ নিজ ক্ষেত্রে অবদান রাখার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

মিচেল লি বলেন, সিঙ্গাপুরের ৬১তম জাতীয় দিবস এবং Singapore Cooperation Programme-এর ৩৪তম বার্ষিকী উদযাপনের এই সময়ে বাংলাদেশ–সিঙ্গাপুর সহযোগিতাকে আরও এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। ভবিষ্যতে আরও প্রশিক্ষণ, জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগ এবং বিভিন্ন অংশীদারত্বের মাধ্যমে দুই দেশের সহযোগিতা জোরদারের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

অনুষ্ঠানটি সিঙ্গাপুর ও বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক উদযাপনের পাশাপাশি বাংলাদেশের উন্নয়ন ও জনসেবায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা এসসিপি অ্যালামনাইদের সক্রিয় ও প্রাণবন্ত নেটওয়ার্ককে স্বীকৃতি দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে উঠে আসে।

১৯৯২ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে Singapore Cooperation Programme বিশ্বের ১৮০টিরও বেশি দেশের ১ লাখ ৬০ হাজারের বেশি সরকারি কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশের ২ হাজার ২০০ জনেরও বেশি সরকারি কর্মকর্তা বিভিন্ন সময়ে এসসিপির প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন।
অ্যালামনাই ডিনারে সাবেক প্রশিক্ষণার্থীরা দীর্ঘদিন পর একত্রিত হয়ে নিজেদের অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন এবং সিঙ্গাপুরে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান ও দৃষ্টিভঙ্গি কীভাবে তাদের পেশাগত জীবন ও জনসেবায় ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে, তা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে এসসিপির মাধ্যমে গড়ে ওঠা পেশাগত যোগাযোগ ও সহযোগিতার নেটওয়ার্ক আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।











