ইকো-ট্যুরিজম প্রসারে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব বাড়ানোর আহ্বান জানালেন পর্যটন মন্ত্রী


বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন গন্তব্য ও ট্যুরিজম হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠায় ইকো-ট্যুরিজমের উন্নয়ন এবং সরকারি-বেসরকারি খাতের সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম, এমপি।
বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে আগারগাঁওয়ের পর্যটন ভবনে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড আয়োজিত ‘ইকো-ট্যুরিজম প্রসারে সরকারি-বেসরকারি খাতের অংশীদারিত্ব ও সচেতনতা বৃদ্ধি’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী আফরোজা খানম বলেন, স্বাধীনতার ৫৫ বছর পার হলেও দেশের পর্যটন খাতে উন্নয়নের নজির তুলনামূলকভাবে কম। বর্তমান সরকার নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বাংলাদেশকে ট্যুরিজম হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করছে। সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র পাঁচ মাসের মধ্যেই পর্যটন খাতের উন্নয়নে বেশ কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশকে ট্যুরিজম হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠার যাত্রা সহজ হবে না। এ লক্ষ্য অর্জনে পর্যটন খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সহযোগিতা প্রয়োজন। সরকারি ও বেসরকারি খাতের মধ্যে তথ্যের ঘাটতি দূর করতে প্রতি মাসে বেসরকারি অংশীজনদের সঙ্গে বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
মন্ত্রী আরও বলেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্বোধন করা ‘এসডিজি ভিলেজ’—রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার মিতিঙ্গাছড়ি, খুলনার দাকোপ উপজেলার পানখালী এবং দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার নাফানগরসহ সম্ভাবনাময় গ্রামগুলোকে পর্যটন স্পট হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
দেশের ৬৪ জেলার পর্যটন সম্ভাবনাময় স্থানগুলো চিহ্নিত করে সেগুলোকে পরিকল্পিতভাবে উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
সেমিনারে গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন সচিব ফাহমিদা আখতার, এনডিসি। তিনি বলেন, পর্যটন খাতের উন্নয়নে তথ্যের ঘাটতি দূর করতে ইতোমধ্যে Tourism Satellite Account (TSA) প্রণয়নের কাজ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি ইকো-ট্যুরিজম নীতিমালা তৈরির কাজও এগিয়ে চলছে।
ফাহমিদা আখতার বলেন, অতীতে সমন্বয়হীনতার কারণে পর্যটন খাতের কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি। সরকারি ও বেসরকারি খাতের অংশীজনদের সহযোগিতা পাওয়া গেলে এ সমন্বয়হীনতা দূর করে পর্যটন খাতকে আরও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।
সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. আব্দুর রউফ, এনডিসি।
সেমিনারে বাংলাদেশে ইকো-ট্যুরিজমের গুরুত্ব, বর্তমান অবস্থা, সম্ভাবনা, উন্নয়নের চ্যালেঞ্জ, কর্মপরিকল্পনা এবং করণীয় বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেস্ট্রি অ্যান্ড উড টেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ওয়াসিউল ইসলাম।
সেমিনারে পর্যটন খাতের সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ, উদ্যোক্তা ও অংশীজনরা অংশ নেন।











