ডিপ্লোম্যাটিক ডেস্কঃ
বাংলাদেশে ইতালির দূতাবাস ঢাকায় জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনে ইতালিয়ান প্রজাতন্ত্রের ৮০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করেছে। অনুষ্ঠানে সরকারের মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, কূটনীতিক, ব্যবসায়ী নেতা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী, সামরিক ও বেসামরিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। এছাড়া বাংলাদেশে কর্মরত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনার, কূটনৈতিক কোরের সদস্য, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি এবং ইতালীয় ও বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যরা অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

স্বাগত বক্তব্যে বাংলাদেশে ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো ১৯৪৬ সালের ২ জুন অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক গণভোটের কথা স্মরণ করেন, যার মাধ্যমে ইতালি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গ্রহণ করে প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে।
রাষ্ট্রদূত বলেন, “দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসস্তূপ এবং ফ্যাসিবাদের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে ইতালি আজ বিশ্বের অন্যতম উন্নত অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে। ইতালির অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে যে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা উন্নয়ন ও অগ্রগতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি।”

তিনি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক উন্নয়ন অগ্রগতির প্রশংসা করে বলেন, দেশের আধুনিকায়ন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির যাত্রায় ইতালি সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে আগ্রহী। বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অভিবাসন, বিমান চলাচল, প্রতিরক্ষা শিল্প, স্যাটেলাইট প্রযুক্তি, দুর্যোগ প্রস্তুতি, সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ-ইতালি বাণিজ্য সম্পর্ক জোরদারের লক্ষ্যে ‘বাংলাদেশি ইতালি চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (বিআইসিসিআই)’ প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেওয়া হয়। ইতালীয় দূতাবাসের পৃষ্ঠপোষকতায় ইতালীয় ও বাংলাদেশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের উদ্যোগে গঠিত এই সংগঠন দুই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণে নতুন ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।
নবগঠিত চেম্বার প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতা ও দিকনির্দেশনার জন্য বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরকে ধন্যবাদ জানান রাষ্ট্রদূত আলেসান্দ্রো এবং দুই দেশের ব্যবসায়ীদের এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।
প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে ইতালির খ্যাতনামা অ্যা ক্যাপেলা সংগীত দল ‘মেজ্জোটোনো’ ঢাকায় পরিবেশনা করে। এছাড়া তিনি জানান, আগামী জুলাই মাসে ভ্যাটিকান সিটিতে বাংলাদেশের সমসাময়িক শিল্পকর্মের একটি বিশেষ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পীদের কাজ প্রদর্শিত হবে।
বাংলাদেশ ও ইতালির জনগণের মধ্যে সম্পর্কের প্রসঙ্গ তুলে ধরে রাষ্ট্রদূত বলেন, ইতালিতে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটি দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের অন্যতম সেতুবন্ধন। সম্প্রতি সান মারিনোর বিপক্ষে বাংলাদেশের জাতীয় ফুটবল দলের জয় উপলক্ষে ইতালির বিভিন্ন শহর থেকে হাজারো প্রবাসী বাংলাদেশির সমর্থনও তিনি উল্লেখ করেন।
রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, বাংলাদেশ ও ইতালি উভয় দেশই অবাধ বাণিজ্য, কার্যকর বহুপাক্ষিকতা এবং নিরাপদ, বৈধ ও সুশৃঙ্খল অভিবাসনের পক্ষে কাজ করে যাচ্ছে। একইসঙ্গে তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের পরবর্তী সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্বাচিত হওয়ার জন্য অভিনন্দন জানান এবং বৈশ্বিক বিভিন্ন ইস্যুতে সহযোগিতা জোরদারে ইতালির সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে খ্যাতনামা ইতালীয় শেফ ক্রিস্টিয়ানো ভারোজ্জো অতিথিদের জন্য ঐতিহ্যবাহী ইতালীয় খাবার পরিবেশন করেন।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ও ইতালির দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও কূটনৈতিক সহযোগিতার ক্রমবর্ধমান সম্ভাবনা নতুন করে তুলে ধরা হয়।











