the-daily-dhaka-dialogue-logo
বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬
the-daily-dhaka-dialogue-logo

বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্কে নতুন মাত্রা, আলোচনায় জ্বালানি ও বিনিয়োগ নিয়ে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সাথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ফোনালাপ

দেশে চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় মালয়েশিয়ার সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ বিষয়ে মঙ্গলবার (২৮ জুলাই, ২০২৬) বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন তিনি। একই সঙ্গে চিঠির মাধ্যমেও বাংলাদেশের জরুরি প্রয়োজনের কথা জানানো হয়েছে।ফোনালাপে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের বিদ্যমান গ্যাস সংকট তুলে ধরে মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি প্রতিষ্ঠান PETRONAS-এর মাধ্যমে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহে সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি বলেন, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জরুরি ভিত্তিতে এলএনজি সরবরাহ অত্যন্ত প্রয়োজন।জবাবে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে সংকট মোকাবিলায় পাশে থাকার আশ্বাস দেন। তিনি জানান, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে এ বিষয়ে একটি সিদ্ধান্ত জানানো হবে।দুই প্রধানমন্ত্রীর আলোচনায় বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়। বিশেষ করে জ্বালানি ও বিনিয়োগ খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ নিয়ে তারা বিস্তারিত আলোচনা করেন।এ সময় উভয় নেতা অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়েও মতবিনিময় করেন। আলোচনায় মালয়েশিয়ার টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠান Axiata-র চলমান বিনিয়োগের অগ্রগতি এবং বন্দর উন্নয়ন খাতে MMC Port-এর সঙ্গে সম্ভাব্য কৌশলগত সহযোগিতার বিষয়ও উঠে আসে। এসব উদ্যোগ বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে এবং উভয় দেশের জন্য নতুন বিনিয়োগ ও বাণিজ্যিক সুযোগ সৃষ্টি করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

about 2 hours ago
বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্কে নতুন মাত্রা, আলোচনায় জ্বালানি ও বিনিয়োগ নিয়ে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সাথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ফোনালাপ

বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও অবকাঠামো উন্নয়নে জাপানের সহযোগিতা আরও জোরদারের আহ্বান জানালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপদেষ্টা UNO Yoshimasa (উনো ইয়োশিমাসা)।মঙ্গলবার (২৮ জুলাই, ২০২৬) দুপুর সাড়ে ১২টায় বাংলাদেশ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এ সাক্ষাতে বাংলাদেশ ও জাপানের কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও সুদৃঢ় করা, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানি ভাষায় দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী, কৃষিশ্রমিক ও গাড়িচালক নিয়োগে জাপানের উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, প্রশিক্ষিত ও ভাষাদক্ষ জনশক্তি জাপানের শ্রমবাজারের চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ আরও বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে প্রতিষ্ঠিত শিল্প পার্কের মতো দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নতুন শিল্প পার্ক গড়ে তুলতে সরকার সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করবে।বৈঠকে আগামী ১৬ ডিসেম্বর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের উদ্বোধন, চলমান এমআরটি (ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট) প্রকল্পের অগ্রগতি এবং বাংলাদেশ-জাপান অবকাঠামোগত সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়েও আলোচনা হয়।উভয় পক্ষই দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং দক্ষ মানবসম্পদ গঠনে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

about 4 hours ago
বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও অবকাঠামো উন্নয়নে জাপানের সহযোগিতা আরও জোরদারের আহ্বান জানালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

বঙ্গভবনে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করলেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ

ডেস্ক রিপোর্টঃভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ, বীর বিক্রম বঙ্গভবনে তাঁর আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করেছেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর এদিনই তিনি প্রথমবারের মতো বঙ্গভবনে রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমে অংশ নেন।আজ মঙ্গলবার (২৮ জুলাই, ২০২৬) সকাল সোয়া ১১টার দিকে তিনি বঙ্গভবনে পৌঁছালে প্রধান ফটক-২-এ প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট (পিজিআর)-এর একটি সুসজ্জিত অশ্বারোহী দল তাঁকে অভ্যর্থনা জানায় এবং গার্ড অব অনার প্রদানের স্থানে নিয়ে যায়।পরে পিজিআর-এর একটি চৌকস দল ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতিকে রাষ্ট্রীয় গার্ড অব অনার প্রদান করে।গার্ড অব অনার শেষে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এ এস এম বাহাউদ্দিন, জনবিভাগের সচিব খান মো. নূরুল আমিন, প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম এবং সহকারী সামরিক সচিব ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ রাইসুল ইসলাম বঙ্গভবনের অক্টাগনে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতিকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।এর মধ্য দিয়ে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বঙ্গভবনে তাঁর আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব ও রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমের সূচনা করেন।

about 6 hours ago
বঙ্গভবনে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করলেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ

কূটনৈতিক সম্প্রীতি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারে কনস্যুলার কোরের সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত

বাংলাদেশে কর্মরত কনস্যুলার কোর (Consular Corps in Bangladesh-CCB)-এর উদ্যোগে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সম্মানে এক বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৭ জুলাই, ২০২৬) রাতে রাজধানীতে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে দেশি-বিদেশি কূটনীতিক, অনারারি কনসাল, সরকারের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী নেতা এবং উন্নয়ন সহযোগীরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং সাংস্কৃতিক বিনিময় আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।কনস্যুলার কোরের নির্বাহী কমিটির আয়োজনে অনুষ্ঠিত সংবর্ধনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, নারী ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর। এছাড়া বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার, মিশনপ্রধান, অনারারি কনসাল, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি, সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী এবং উন্নয়ন সহযোগীরা অনুষ্ঠানে যোগ দেন।স্বাগত বক্তব্যে কনস্যুলার কোর ইন বাংলাদেশের (সিসিবি) সভাপতি ও মঙ্গোলিয়ার অনারারি কনসাল জেনারেল নাসরীন ফাতেমা আওয়াল বলেন, বৈচিত্র্যের মধ্যকার ঐক্যই কনস্যুলার কোরের সবচেয়ে বড় শক্তি। বিভিন্ন দেশ, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতিনিধিত্ব করলেও সবার লক্ষ্য এক—বাংলাদেশ এবং বিশ্বের মধ্যে স্থায়ী বন্ধন ও কার্যকর সহযোগিতা গড়ে তোলা। তিনি বলেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কনস্যুলার কোর একটি সাধারণ ফোরাম থেকে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারে পরিণত হয়েছে এবং এখন অর্থনৈতিক কূটনীতি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।নাসরীন ফাতেমা আওয়াল বলেন, বর্তমান বিশ্বে অর্থনৈতিক কূটনীতির গুরুত্ব বহুগুণে বেড়েছে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যে ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণ নতুন নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। এ সুযোগ কাজে লাগাতে কনস্যুলার কোরের সদস্যরা বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং শিল্প সহযোগিতা বৃদ্ধিতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন। একই সঙ্গে সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক জোরদার করার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি আস্থা ও সহযোগিতার ভিত্তি আরও শক্তিশালী করা সম্ভব।প্রধান অতিথির বক্তব্যে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, অনারারি কনসালরা কেবল আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব পালন করেন না; তারা বাংলাদেশকে বিশ্বের কাছে তুলে ধরার গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। তিনি কনস্যুলার কোরের সদস্যদের বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও বাণিজ্যের সম্ভাবনা তুলে ধরা, প্রযুক্তি ও শিক্ষা খাতে অংশীদারিত্ব বৃদ্ধি, উদীয়মান অঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগ সম্প্রসারণ, জনগণের পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদার এবং বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি বিশ্বে তুলে ধরার আহ্বান জানান।তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার "Bangladesh First" নীতিকে সামনে রেখে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে এবং বিদেশি বিনিয়োগ, নতুন রপ্তানি বাজার, উন্নত প্রযুক্তি, পর্যটন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং জলবায়ু সহনশীলতায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে কাজ করছে। এসব লক্ষ্য অর্জনে কনস্যুলার কোরের সদস্যদের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি উল্লেখ করেন।অনুষ্ঠানে নাসরীন ফাতেমা আওয়াল কনস্যুলার কোরের সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক অনুমোদন পাওয়ার তথ্য জানান। তিনি বলেন, চূড়ান্ত অনুমোদন মিললে ক্যারিয়ার কূটনীতিক ও সাবেক অনারারি কনসালদেরও সংগঠনের সদস্যপদ দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে, যা সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করবে।তিনি আরও জানান, অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক আয়োজন রাখার পরিকল্পনা থাকলেও দেশের বন্যাদুর্গত মানুষের প্রতি সম্মান ও সংহতি প্রকাশের অংশ হিসেবে তা স্থগিত করা হয়েছে। এ সময় তিনি বন্যাকবলিত পরিবারগুলোর জন্য দোয়া ও সহমর্মিতা প্রকাশ করেন।অনুষ্ঠানে সিসিবির সহ-সভাপতি শাহাব সাত্তার (সাইপ্রাস) ও শাখাওয়াত হোসেন (পর্তুগাল), মহাসচিব কাজী শাহ মুজাক্কের আহমাদুল হক ইশমাম (ক্রোয়েশিয়া) এবং কোষাধ্যক্ষ মাসুদ জামিল খান (আয়ারল্যান্ড) বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠান শেষে অতিথিদের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ মতবিনিময় ও নেটওয়ার্কিং অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজকদের মতে, এ ধরনের আয়োজন বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে সহযোগিতা, বন্ধুত্ব এবং অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব আরও জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

about 7 hours ago
কূটনৈতিক সম্প্রীতি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারে কনস্যুলার কোরের সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত

কনস্যুলার কোরকে বিনিয়োগ ও বাণিজ্যের দূত হওয়ার আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের

বাংলাদেশে কর্মরত কনস্যুলার কোর (Consular Corps in Bangladesh-CCB)-এর সদস্যদের বিনিয়োগ, বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি বলেন, কনস্যুলার কোরের সদস্যরা শুধু আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব পালনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নন; বরং তারা বাংলাদেশকে বিশ্বের কাছে ইতিবাচকভাবে তুলে ধরতে এবং নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। সোমবার (২৭ জুলাই, ২০২৬) রাতে বাংলাদেশে কর্মরত কনস্যুলার কোরের (সিসিবি) নির্বাহী কমিটির আয়োজনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সম্মানে অনুষ্ঠিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রীয় ও কূটনৈতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার, মিশনপ্রধান, অনারারি কনসাল, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি, সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী নেতা ও উন্নয়ন সহযোগীরা অংশ নেন। উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, নারী ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর।পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কনস্যুলার কোরের সদস্যদের প্রতি পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যাশা তুলে ধরে বলেন, তারা যেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও বাণিজ্যের সুযোগ বিশ্বে তুলে ধরেন, প্রযুক্তি, শিক্ষা, উদ্ভাবন ও দক্ষ জনশক্তি উন্নয়নে অংশীদারিত্ব গড়ে তোলেন, বিশেষ করে আফ্রিকাসহ উদীয়মান অঞ্চলের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পৃক্ততা সম্প্রসারণে সহায়তা করেন, জনগণের সঙ্গে জনগণের (People-to-People) সম্পর্ক আরও জোরদার করেন এবং বিশ্বের কাছে বাংলাদেশের প্রকৃত ইতিবাচক চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সবসময় কনস্যুলার কোরের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে কাজ করবে, প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা ও সমন্বয় দেবে এবং বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিটি আন্তরিক উদ্যোগের সফলতা নিশ্চিত করতে সহযোগিতা করবে।শামা ওবায়েদ বলেন, অনারারি কনসালদের ভূমিকা কখনোই কেবল আনুষ্ঠানিক নয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তারা বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও মানবিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্যও তাদের অবদান বাস্তব পরিবর্তন আনতে পারে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার "Bangladesh First" নীতিকে সামনে রেখে জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা এবং জনগণের কল্যাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পরিচালনা করছে। বাংলাদেশ অধিকতর বিদেশি বিনিয়োগ, নতুন রপ্তানি বাজার, উন্নত প্রযুক্তি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে অংশীদারিত্ব, পর্যটন সম্প্রসারণ এবং জলবায়ু সহনশীলতায় বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতা চায়। এসব লক্ষ্য অর্জনে অনারারি কনসালরা সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র চিহ্নিত করে উপযুক্ত অংশীদারদের সংযুক্ত করতে এবং দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।তিনি বলেন, বাংলাদেশ কেবল একটি বৃহৎ ভোক্তা বাজার নয়; এখানে রয়েছে তরুণ ও পরিশ্রমী কর্মশক্তি, উদ্যমী উদ্যোক্তা, সম্প্রসারিত উৎপাদনভিত্তি এবং দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংযোগস্থলে কৌশলগত অবস্থান। ফলে বাংলাদেশ বিনিয়োগ, উৎপাদন, লজিস্টিকস ও আঞ্চলিক সংযোগের জন্য একটি আকর্ষণীয় গন্তব্য। তিনি বলেন, বাংলাদেশে বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও দক্ষতা যেমন স্বাগত, তেমনি বাংলাদেশের ব্যবসায়ী, পেশাজীবী ও উদ্ভাবকদেরও বৈশ্বিক বাজারে অবদান রাখার সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। এ ধরনের অংশীদারিত্ব অবশ্যই পারস্পরিক লাভজনক হওয়া উচিত।অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে কনস্যুলার কোর ইন বাংলাদেশ (সিসিবি)-এর সভাপতি ও মঙ্গোলিয়ার অনারারি কনসাল জেনারেল নাসরীন ফাতেমা আওয়াল বলেন, কনস্যুলার কোরের সভাপতি হিসেবে উপস্থিত থাকতে পারা তাঁর জন্য গভীর গর্ব ও সম্মানের। তিনি বলেন, ভিন্ন ভিন্ন দেশ, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতিনিধিত্ব করলেও সবার লক্ষ্য এক—বাংলাদেশ ও বিশ্বের মধ্যে স্থায়ী সেতুবন্ধন গড়ে তোলা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সিসিবি একটি সাধারণ ফোরাম থেকে বাংলাদেশের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভে পরিণত হয়েছে এবং আধুনিক কূটনীতির জটিল বাস্তবতায় সদস্যদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়ে আসছে।পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের প্রশংসা করে নাসরীন ফাতেমা আওয়াল বলেন, কিশোরী বয়স থেকেই তিনি শামা ওবায়েদকে চেনেন এবং তখনই তাঁর নেতৃত্বগুণ ও দৃঢ় ব্যক্তিত্বের পরিচয় পেয়েছিলেন। আজ তাঁকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে দেখে তিনি গর্বিত এবং ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও বিশ্বের জন্য তাঁর আরও গুরুত্বপূর্ণ অবদান থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বে অর্থনৈতিক কূটনীতির গুরুত্ব আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও বাণিজ্য সম্প্রসারণ নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি করেছে। তাই কনস্যুলার কোরের সদস্যদের দায়িত্ব হবে বাণিজ্য অংশীদারিত্ব বৃদ্ধি, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং প্রযুক্তি ও শিল্পখাতে সহযোগিতা আরও জোরদার করা। একই সঙ্গে তিনি বলেন, টেকসই কূটনীতির ভিত্তি হলো সাংস্কৃতিক ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক। পারস্পরিক সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধা ও বোঝাপড়া যত বাড়বে, ততই আস্থা ও দীর্ঘস্থায়ী সহযোগিতার ভিত্তি শক্তিশালী হবে।নাসরীন ফাতেমা আওয়াল জানান, কনস্যুলার কোরের সংবিধান সংশোধনের জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে প্রাথমিক অনুমোদন পাওয়া গেছে। চূড়ান্ত অনুমোদনের পর ক্যারিয়ার কূটনীতিক ও সাবেক অনারারি কনসালদের সংগঠনের সদস্যপদ দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে, যা সংগঠনের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করবে। তিনি আরও জানান, অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক আয়োজন রাখার পরিকল্পনা থাকলেও দেশের বন্যাদুর্গত মানুষের প্রতি সংহতি ও সম্মান জানিয়ে তা স্থগিত করা হয়েছে। বন্যাকবলিত পরিবারগুলোর জন্য দোয়া ও শুভকামনা জানিয়ে তিনি তাদের দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সিসিবির সহ-সভাপতি শাহাব সাত্তার (সাইপ্রাস) ও শাখাওয়াত হোসেন (পর্তুগাল), মহাসচিব কাজী শাহ মুজাক্কের আহমাদুল হক ইশমাম (ক্রোয়েশিয়া) এবং কোষাধ্যক্ষ মাসুদ জামিল খান (আয়ারল্যান্ড)। আয়োজকরা জানান, এই সংবর্ধনা কূটনৈতিক সম্প্রদায়, সরকার, অনারারি কনসাল, ব্যবসায়ী ও উন্নয়ন সহযোগীদের মধ্যে অর্থবহ সংলাপ ও নেটওয়ার্কিংয়ের সুযোগ সৃষ্টি করেছে এবং বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে কনস্যুলার কোরের ভূমিকা আরও সুদৃঢ় করেছে।

about 9 hours ago
কনস্যুলার কোরকে বিনিয়োগ ও বাণিজ্যের দূত হওয়ার আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের

আজকের শিশুরাই গড়বে আগামীর সমৃদ্ধ বাংলাদেশ: নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের সমাপনীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ডেস্ক রিপোর্টঃপ্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, “আজকের শিশুরা যদি আগামী দিনে নিজেদেরকে সঠিকভাবে গড়ে তুলতে পারে, তবেই ভবিষ্যতে একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।” তিনি বলেন, দেশের শিশু-কিশোরদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের পাশাপাশি ক্রীড়াকে পেশা ও জীবিকার অন্যতম সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে।সোমবার (২৭ জুলাই ২০২৬) বিকেলে রাজধানীর বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে ‘ক্রীড়া হলে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত কিশোর-কিশোরীদের বৃহৎ ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৫-২০২৬’-এর জাতীয় পর্যায়ের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন ইভেন্টে বিজয়ী কিশোর-কিশোরীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। এর আগে তিনি মাঠ প্রদক্ষিণ করে গ্যালারিতে উপস্থিত শিশু-কিশোরদের শুভেচ্ছার জবাব দেন এবং তাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। এ সময় শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে পুরো স্টেডিয়াম।প্রধানমন্ত্রী বালিকা বিভাগের ফুটবল ফাইনাল এবং বালক ও বালিকাদের ১০০ মিটার স্প্রিন্ট প্রতিযোগিতা উপভোগ করেন। পরে শিক্ষার্থীদের পরিবেশিত মনোজ্ঞ ডিসপ্লেও উপভোগ করেন।সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ক্রীড়াকে পেশা ও জীবিকার মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আয়োজিত ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৫-২০২৬’-এর প্রথম আসর গত ২ মে সিলেট জেলা স্টেডিয়াম থেকে শুরু হয়। ‘স্বপ্নের পথে, বিজয়ের সাথে’ স্লোগানে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় উপজেলা ও জেলা পর্যায় থেকে ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার খুদে ক্রীড়াবিদ আটটি ডিসিপ্লিনে অংশ নেয়। আয়োজকরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ দেশের শিশু-কিশোরদের ক্রীড়া প্রতিভা বিকাশে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে উঠবে।যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম।অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং মহিলা ও শিশু এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

about 23 hours ago
আজকের শিশুরাই গড়বে আগামীর সমৃদ্ধ বাংলাদেশ: নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের সমাপনীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনে শেষ পর্যন্ত ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ হবে: অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী

ডিপ্লোম্যাটিক ডেস্কঃচট্টগ্রামের আনোয়ারায় নির্মাণাধীন চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনে (সিইআইজেড) শেষ পর্যন্ত ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি বিনিয়োগ হবে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, এই প্রকল্প শুধু আনোয়ারা নয়, পুরো চট্টগ্রামের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং শিল্পায়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।সোমবার (২৭ জুলাই, ২০২৬) দুপুরে চট্টগ্রামের আনোয়ারার বেলচূড়া এলাকায় বাংলাদেশ-চীন অর্থনৈতিক অঞ্চলের উন্নয়নকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।অর্থমন্ত্রী বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, সিইআইজেডে এই বিনিয়োগ সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।তিনি বলেন, “আমরা ১ কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছি। এই অর্থনৈতিক অঞ্চলে ১ লাখেরও বেশি মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। বর্তমানে ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা থাকলেও অবকাঠামোসহ সব বিনিয়োগ মিলিয়ে শেষ পর্যন্ত এ অঞ্চলে ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি বিনিয়োগ হবে।”আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আরও বলেন, এই অর্থনৈতিক অঞ্চলের সুফল শুধু আনোয়ারায় সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং পুরো চট্টগ্রামের অর্থনীতিতে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। এখানে শক্তিশালী সাপ্লাই চেইন, বিভিন্ন সেবাখাত এবং কর্মীদের জন্য আবাসন সুবিধা গড়ে উঠবে।তিনি বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে শুধু শিল্পকারখানাই নয়, আবাসন, পরিবহন, লজিস্টিকস, সেবাখাত এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্যও নতুন ব্যবসায়িক সুযোগ সৃষ্টি হবে। ফলে দক্ষিণ চট্টগ্রামের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি সঞ্চার হবে।অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন।এসময় আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন, চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ কর্পোরেশনের (সিআরবিসি) প্রেসিডেন্ট, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন, সিইআইজেডের চেয়ারম্যান ওয়াং বেনচিয়ান, সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজাম এবং চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক।

Jul 27, 2026
চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনে শেষ পর্যন্ত ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ হবে: অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী

বাংলাদেশ-চীন অর্থনৈতিক অঞ্চল শিল্প বিপ্লব ও কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ডিপ্লোম্যাটিক ডেস্কঃস্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, চট্টগ্রামের আনোয়ারায় কর্ণফুলী নদীর পূর্ব তীরে 'চায়না অর্থনৈতিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন' (সিইআইজেড)-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশের শিল্প খাতে এক নতুন ও ঐতিহাসিক যুগের সূচনা হয়েছে। বাংলাদেশ ও গণচীন সরকারের (জি-টু-জি) যৌথ উদ্যোগে এবং 'বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ'-এর নীতিমালার আলোকে গৃহীত এই প্রকল্পটি দেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, বৈচিত্র্যময় শিল্পায়ন এবং বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে।মন্ত্রী আজ সোমবার (২৭ জুলাই, ২০২৬) চট্টগ্রামের আনোয়ারায় সিইআইজেড-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো বক্তৃতা করেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। সভাপতির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ও বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী।প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও সহজীকরণে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এরই অংশ হিসেবে চীন-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চলে সরকারের নীতিগত সহায়তার মাধ্যমে অবকাঠামো ও শিল্প স্থাপনে প্রায় ১ বিলিয়ন (১০০ কোটি) মার্কিন ডলারের বিশাল বিনিয়োগ অর্জিত হতে যাচ্ছে। তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীদের দ্রুত ও সহজ সেবা প্রদান নিশ্চিতে সরকার খুব শীঘ্রই শতভাগ কার্যকর ‘সিঙ্গেল উইন্ডো সার্ভিস’ চালুর পাশাপাশি পুঁজিবাজার ও মূলধনী খাতে কৌশলগত বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তিনি আরো বলেন, শিল্পায়নের পাশাপাশি শ্রমিকদের আবাসন, আধুনিক জীবনযাত্রার মান এবং পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করা বর্তমান সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। তিনি আনোয়ারা শিল্পাঞ্চলে দেশীয় শিল্পের বিকাশ, সাপ্লাই চেইন জোরদারকরণ এবং দক্ষ জনবল তৈরির লক্ষ্যে একটি আধুনিক ‘স্কিল ডেভেলপমেন্ট সেন্টার’ স্থাপনে চায়নিজ অংশীদারদের প্রতি আহ্বান জানান।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, "আজকে আনোয়ারার এই ঊর্বর মাটিতে সিইআইজেড-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মধ্য দিয়ে আমরা কেবল এক কোদাল মাটিই তুলছি না, বরং বাংলাদেশের শিল্প রূপান্তরের এক নতুন অধ্যায়ের শুভ সূচনা করছি।" তিনি উল্লেখ করেন, দুই দেশের পারস্পরিক বিশ্বাস, গভীর বন্ধুত্বের সুদৃঢ় ভিত্তি এবং যৌথ সনদের আলোকে গৃহীত এই জি-টু-জি প্রকল্পটির মাধ্যমে দু'দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছালো।প্রকল্পটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরো জানান, প্রায় ৭৭৬ একর (৩১৪.৩৯ হেক্টর) এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এই বৃহৎ প্রকল্পের মাধ্যমে কেবল চট্টগ্রাম অঞ্চলেই ৩৬ হাজারেরও বেশি মানুষের প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থান তৈরি হবে, যা স্থানীয় যুবসমাজের ভাগ্যোন্নয়নে এক অভূতপূর্ব প্রভাব ফেলবে। তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল শিল্পের পাশাপাশি এই অঞ্চলে বায়ো-ফার্মাসিউটিক্যালস, ফুড অ্যান্ড বেভারেজ প্রসেসিং এবং চামড়াজাত পণ্যের মতো উচ্চ-মূল্যের শিল্প প্রতিষ্ঠিত হবে, যা বাংলাদেশের রপ্তানি খাতকে আরও বৈচিত্র্যময় ও শক্তিশালী করবে।ভৌগোলিক ও লজিস্টিক দিক থেকে সিইআইজেড অত্যন্ত সুবিধাজনক স্থানে অবস্থিত উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এটি কর্ণফুলী টানেল থেকে মাত্র ৭০০ মিটার, শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ৬ কিলোমিটার এবং চট্টগ্রাম বন্দর থেকে মাত্র ১২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এন-১ জাতীয় মহাসড়কের সাথে সরাসরি যুক্ত হওয়ায় এর পণ্য পরিবহন ব্যবস্থা হবে অত্যন্ত সহজ ও দ্রুত। তিনি বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এখানে আন্তর্জাতিক মানের সেন্ট্রাল এফলুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (সিইটিপি) ও পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো নির্মাণ করা হচ্ছে, যা টেকসই শিল্পায়নের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।বিনিয়োগকারীদের সার্বিক নিরাপত্তার আশ্বাস দিয়ে মন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সিইআইজেড-এর সার্বিক নিরাপত্তা, নিরবচ্ছিন্ন পরিবহন করিডোর এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বদা প্রস্তুত থাকবে। একই সাথে বেজা-এর 'ওয়ান-স্টপ সার্ভিস (OSS)'-এর মাধ্যমে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এড়িয়ে দ্রুত অনুমোদন ও গ্যাস-বিদ্যুতের মতো পরিষেবা নিশ্চিত করে একটি সহজ ও সমৃদ্ধ বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির দৃঢ় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন তিনি।বক্তব্যের শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই বৃহৎ কর্মযজ্ঞ সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য বেজা, চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশন (সিআরবিসি), ঢাকাস্থ চীনা দূতাবাস এবং বিশেষ করে আনোয়ার ও চট্টগ্রামের সর্বস্তরের জনগণকে ধন্যবাদ জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই শিল্প অঞ্চলটি বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার স্থায়ী অর্থনৈতিক ও বন্ধুত্বের এক টেকসই সেতু হিসেবে কাজ করবে।অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত Yao Wen (ইয়াও ওয়েন), চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) আসনের সংসদ সদস্য সারোয়ার জামাল নিজাম এবং চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশন (সিআরবিসি)-এর ভাইস চেয়ারম্যান Li Changgui। স্বাগত বক্তব্য রাখেন Bangladesh CEIZ Company Ltd (BCCL) এর চেয়ারম্যান Wang Benqian. এছাড়া অনুষ্ঠানে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

Jul 27, 2026
বাংলাদেশ-চীন অর্থনৈতিক অঞ্চল শিল্প বিপ্লব ও কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

চাইনিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন (CEIZ)-এর নির্মাণকাজ শুরু

ডিপ্লোম্যাটিক ডেস্কঃচট্টগ্রামের আনোয়ারায় প্রতিষ্ঠিতব্য চাইনিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন (CEIZ)-এর নির্মাণকাজের উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে আজ সোমবার (২৭ জুলাই, ২০২৬)।প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে প্রায় ১.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ আকৃষ্ট হবে এবং প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এক লক্ষেরও বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। চট্টগ্রামকে একটি আধুনিক শিল্প ও লজিস্টিক হাব হিসেবে গড়ে তোলা এবং বাংলাদেশ-চীন অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে CEIZ একটি মাইলফলক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত মহামান্য ইয়াও ওয়েন (Yao Wen) এবং বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) আশিক চৌধুরী।মাননীয় ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন এবং চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজামও অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। এ সময় চট্টগ্রামের স্থানীয় সংসদ সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্প অঞ্চল (CEIZ) প্রকল্পের ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশনের (CRBC) ভাইস প্রেসিডেন্ট Li Changgui এবং বাংলাদেশ CEIZ কোম্পানি লিমিটেডের (BCCL) চেয়ারম্যান Wang Benqian-ও অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। এছাড়া বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতের বিদ্যমান ও সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীসহ প্রায় ৭০ জন চীনা ব্যবসায়িক প্রতিনিধি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে কয়েকটি সাব-লিজ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, CEIZ-এর ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টারের উদ্বোধন করা হয় এবং বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে CEIZ-এর নির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিক সূচনা করা হয়।চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশনের (CRBC) ভাইস প্রেসিডেন্ট লি চাংগুই বলেন, “আজকের গ্রাউন্ডব্রেকিংয়ের মধ্য দিয়ে প্রকল্পটি নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করল, যার সঙ্গে যুক্ত হলো নতুন দায়িত্ব ও প্রত্যাশা। সিইআইজেড-এর নির্মাণ ও পরিচালনা এগিয়ে নিতে সিআরবিসি সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে। দ্বিপাক্ষিক শিল্প সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের একটি আকর্ষণীয় গন্তব্য এবং পারস্পরিক লাভজনক সহযোগিতার একটি মডেল জোন হিসেবে সিইআইজেডকে গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য। দুই দেশের অভিন্ন উন্নয়নে আমরা আরও বড় অবদান রাখতে চাই।”বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত এইচ.ই. ইয়াও ওয়েন বলেন, “চট্টগ্রামে চাইনিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনের আজকের গ্রাউন্ডব্রেকিং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের ফলাফল বাস্তবায়নের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এই নতুন ঐতিহাসিক সূচনালগ্নে চীন বাংলাদেশের সঙ্গে হাত মিলিয়ে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বকে আরও এগিয়ে নিতে, কৌশলগত সমন্বয় গভীর করতে এবং বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে প্রস্তুত। দুই দেশের নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ ঐকমত্যকে উন্নয়নের বাস্তব সুফলে রূপ দিতে আমরা একসঙ্গে কাজ করতে চাই।”মাননীয় অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “আমাদের সবার লক্ষ্য একটিই—বিনিয়োগ। দেশের উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়ার প্রধান চালিকাশক্তি হবে বিনিয়োগ। চাইনিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনের আজকের অগ্রগতি তাই সরকারের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।”মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, “দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের প্রতি আমাদের বার্তা স্পষ্ট: বাংলাদেশ ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত, এবং আমরা এ বিষয়ে আন্তরিক। আজকের গ্রাউন্ডব্রেকিং শুধু নির্মাণকাজের সূচনা নয়; এটি বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে একটি দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক সেতুবন্ধনের ভিত্তি। আমরা একসঙ্গে এমন একটি জোন গড়ে তুলতে চাই, যা নতুন মানদণ্ড স্থাপন করবে, টেকসই প্রবৃদ্ধি এগিয়ে নেবে এবং আগামী প্রজন্মের জন্য সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ তৈরি করবে।”বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেন, “জুন মাসে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বেইজিং ও দালিয়ান সফরের পর ৩০টির বেশি চীনা কোম্পানি এই জোনে প্রায় অর্ধ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। বাংলাদেশে সাধারণত একটি কারখানা স্থাপন বা প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিতে ছয় মাস থেকে এক বছর সময় লেগে যায়। আমরা ইতোমধ্যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, আগামী তিন মাসের মধ্যে এমন একটি প্রক্রিয়া চালু করা হবে, যার মাধ্যমে ব্যবসা শুরুর কাজ ১৪ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশে বহু দশকের অভিজ্ঞতার তুলনায় এটি একটি বাস্তব ও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন।”বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে শিল্প, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হিসেবে CEIZ প্রায় ৮০০ একর জমির ওপর গড়ে উঠছে। জিটুজি (Government-to-Government) উদ্যোগের আওতায় বাস্তবায়িত এই অর্থনৈতিক অঞ্চলটি বাংলাদেশে বৃহৎ পরিসরের চীনা বিনিয়োগ আকর্ষণ, রপ্তানিমুখী শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আধুনিক শিল্প অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ২০১৬ সালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বাংলাদেশ সফরের সময় দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের ধারাবাহিকতায় এ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়।গত ১৭ জুন ২০২৬ তারিখে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি CEIZ বাস্তবায়নের জন্য গঠিত Bangladesh CEIZ Company Limited-এর সঙ্গে Development Agreement এবং Land Lease Agreement অনুমোদন করে। এ কোম্পানিতে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) ৩০ শতাংশ এবং China Road and Bridge Corporation (CRBC) ৭০ শতাংশ শেয়ার ধারণ করবে। বেজার অংশ হিসেবে অধিগ্রহণকৃত ভূমির ৫০ বছরের লিজমূল্য ইকুইটি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং ডেভেলপার তাদের অংশ নগদ মূলধন হিসেবে বিনিয়োগ করবে, যা জোনের অভ্যন্তরীণ উন্নয়ন, অবকাঠামো নির্মাণ ও পরিচালনায় ব্যবহৃত হবে।CEIZ-এ বিশ্বমানের শিল্প পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে “Supporting Infrastructure Project for Chinese Economic and Industrial Zone” গত ১৬ জুন ২০২৬ তারিখে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) কর্তৃক অনুমোদিত হয়েছে।প্রায় ৪,১৮৯ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পের আওতায় নির্মাণ করা হবে ১,২৩৫ মিটার দীর্ঘ জেটি লিংক রোড, ১,১৮১ মিটার দীর্ঘ চার লেন সড়ক, ২০,০০০ ডেডওয়েট টন ধারণক্ষমতার বহুমুখী জেটি, ২৫ এমএলডি ক্ষমতাসম্পন্ন সেন্ট্রাল ইফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (CETP), ৪.২৪ এমএমসিএফডি ক্ষমতাসম্পন্ন গ্যাস ট্রান্সমিশন লাইন ও ডিস্ট্রিক্ট রেগুলেটিং স্টেশন (DRS), ২০,৩০৪ ঘনমিটার ধারণক্ষমতার পানি সংরক্ষণাগার, ৬০ টন প্রতিদিন ক্ষমতাসম্পন্ন সলিড ওয়েস্ট কালেকশন স্টেশন, প্রায় ১২ কিলোমিটার সীমানা প্রাচীর এবং দুটি ৩৩/১১ কেভি সাবস্টেশন।উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) অনুযায়ী প্রকল্পের মোট ব্যয় প্রায় ৪,১৮৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রায় ২,৪৬৭ কোটি টাকা বৈদেশিক ঋণ সহায়তা এবং প্রায় ১,৭২২ কোটি টাকা বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন থেকে ব্যয় করা হবে। বৈদেশিক অর্থায়নের অংশ চীনের এক্সিম ব্যাংকের Preferential Buyer’s Credit (PBC) সুবিধার আওতায় প্রাপ্তির প্রস্তাব রয়েছে।এই অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে CEIZ-এ শিল্প স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিবহন ও জেটি সুবিধাসহ আন্তর্জাতিক মানের সকল সহায়ক অবকাঠামো নিশ্চিত হবে। ইতোমধ্যে পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে বেজা, চট্টগ্রাম ওয়াসা (CWASA) এবং CRBC-এর মধ্যে ত্রিপক্ষীয় চুক্তিও স্বাক্ষরিত হয়েছে।প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল জানুয়ারি ২০২৭ থেকে ডিসেম্বর ২০৩১ পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। কর্ণফুলী টানেল, চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর এবং শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছাকাছি হওয়ায় ভৌগোলিকভাবে এই অঞ্চলটির অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।উল্লেখ্য, এই প্রকল্পটি নির্বাচনী ইশতেহার ২০২৬-এর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সহায়ক হবে। বিশেষত তৃতীয় অধ্যায় “অর্থনীতির পুনর্গঠন ও পুনরুদ্ধার”-এর অধীন (ক) কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সর্বাধিক প্রাধান্য, (খ) বিনিয়োগ ও বৈদেশিক প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ এবং (গ) অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও শিল্পপার্কের সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণের সঙ্গে এটি সরাসরি সামঞ্জস্যপূর্ণ।এছাড়াও প্রকল্পটি নির্বাচনী ইশতেহার ২০২৬-এর চতুর্থ অধ্যায় “অঞ্চলভিত্তিক সুষম উন্নয়ন”-এর অধীন “চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে প্রতিষ্ঠা” লক্ষ্য বাস্তবায়নের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ, যেখানে চট্টগ্রাম অঞ্চলকে কর্মসংস্থানের একটি উল্লেখযোগ্য কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে।

Jul 27, 2026
চাইনিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন (CEIZ)-এর নির্মাণকাজ শুরু

লাইসেন্স ফিরে পেল আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

ডেস্ক রিপোর্টঃরাজধানীর মগবাজারের আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল তিনটি শর্তে পুনরায় লাইসেন্স ফিরে পেয়েছে। সোমবার (২৭ জুলাই, ২০২৬) স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরীর সই করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছিল। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করলে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় বিষয়টি পুনঃতদন্তের জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে।গত ১৫ জুলাই তদন্ত কমিটিকে তিন কর্মদিবসের মধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। কমিটি সরেজমিনে তদন্ত শেষে প্রতিবেদন দাখিল করে। প্রতিবেদনটি সন্তোষজনক বিবেচিত হওয়ায় সরকার হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিলের আদেশ প্রত্যাহার করেছে।তবে হাসপাতালটির কার্যক্রম পুনরায় চালুর অনুমতি তিনটি শর্তে দেওয়া হয়েছে। শর্তগুলো হলো—দ্য মেডিকেল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ (রেগুলেশন) অর্ডিন্যান্স, ১৯৮২-এর সব বিধান কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে।লাইসেন্সের শর্ত অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংখ্যক ডিউটি চিকিৎসক ও নার্স দ্রুত নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।ভবিষ্যতে লাইসেন্সের কোনো শর্ত লঙ্ঘিত হলে সরকার ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবে।এর মাধ্যমে আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল শর্তসাপেক্ষে আবারও কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি পেল।

Jul 27, 2026
লাইসেন্স ফিরে পেল আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

সংবিধান অনুযায়ী যথাসময়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

ডেস্ক রিপোর্টঃস্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশের সংবিধান ও নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী যথাসময়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।সোমবার (২৭ জুলাই, ২০২৬) সকাল সাড়ে ১০টায় রংপুর নগরীর টার্মিনাল এলাকায় বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি)-এর বিভাগীয় কার্যালয়ের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে মির্জা ফখরুল বলেন, “রাষ্ট্রপতি নির্বাচন যথাসময়ে হবে। দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া হবে।”বিআরডিবির নতুন বিভাগীয় কার্যালয়ের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Jul 27, 2026
সংবিধান অনুযায়ী যথাসময়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

দেশের ৩৪ টুথপেস্ট ব্র্যান্ডের ২৬টিতে মিলল ক্ষতিকর মাইক্রোপ্লাস্টিক

ডেস্ক রিপোর্টঃবাংলাদেশের টুথপেস্ট বাজার নিয়ে উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ করেছে পরিবেশ বিষয়ক গবেষণা সংস্থা এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (এসডো)। সংস্থাটির এক বছরব্যাপী গবেষণায় দেশে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত ৩৪টি টুথপেস্ট ব্র্যান্ডের মধ্যে ২৬টিতে মানবস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। গবেষণায় প্রতি ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে সর্বনিম্ন ২০টি থেকে সর্বোচ্চ ৩২০টি পর্যন্ত প্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে। বিশেষভাবে উদ্বেগের বিষয় হলো, শিশুদের জন্য তৈরি কয়েকটি জনপ্রিয় টুথপেস্টেও এ ধরনের ক্ষতিকর উপাদান শনাক্ত হয়েছে।রোববার (২৬ জুলাই, ২০২৬) রাজধানীর লালমাটিয়ায় এসডোর কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করা হয়। গবেষণায় দেশজুড়ে ২ হাজার ৭৬০ জন ভোক্তার ওপর জরিপ পরিচালনার পাশাপাশি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের এনভায়রনমেন্টাল হেলথ অ্যান্ড ইকোটক্সিকোলজি ল্যাবরেটরিতে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়। পরীক্ষায় স্টিরিওমাইক্রোস্কোপি এবং ফুরিয়ার ট্রান্সফর্ম ইনফ্রারেড স্পেকট্রোস্কোপি (এফটিআইআর) প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়।গবেষণা অনুযায়ী, পরীক্ষাধীন বাংলাদেশে উৎপাদিত ২৫টি টুথপেস্টের মধ্যে ২২টিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। এছাড়া ভারতে উৎপাদিত ৫টির মধ্যে ১টি, থাইল্যান্ডে উৎপাদিত ২টির মধ্যে ১টি এবং ভিয়েতনামে উৎপাদিত ২টি ব্র্যান্ডের উভয়টিতেই মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি ধরা পড়ে। শিশুদের জন্য তৈরি ৬টি বিশেষ টুথপেস্টের মধ্যে ৪টিতে ক্ষতিকর প্লাস্টিক কণা শনাক্ত হওয়ায় বিষয়টি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।পরীক্ষার ফলাফলে দেখা গেছে, প্রতি ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে সবচেয়ে বেশি ৩২০টি মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে মেডিপ্লাস ফ্লুরাইড জেলে। এছাড়া ক্লোজ আপ রেড হট ও ক্লোজ আপ মেন্থল ফ্রেশে ১৬০টি করে, কুডুমু আল্ট্রা শিল্ড ফর্মুলা (স্ট্রবেরি)-তে ১৪০টি, সিগন্যাল গ্রিন টি-তে ১২০টি, পেপসোডেন্ট অ্যাডভান্স সল্ট ও হিমালয়া কমপ্লিট কেয়ারে ১০০টি করে এবং সেনসোডাইন ফ্রেশ মিন্টে ৮০টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে।শিশুদের টুথপেস্টের মধ্যে কুডুমু আল্ট্রা শিল্ড ফর্মুলায় ১৪০টি, মেরিল বেবি স্ট্রবেরিতে ৬০টি, মেরিল বেবি অরেঞ্জে ৪০টি এবং পেপসোডেন্ট কিড অরেঞ্জে ২০টি মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে। তবে গবেষণায় কিছু ব্র্যান্ডে কোনো মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়নি। এর মধ্যে রয়েছে দেশীয় ব্র্যান্ড জেনফ্রেশ, প্যারাস্যুট জাস্ট ফর বেবি (ম্যাঙ্গো), ক্লোজ আপ রেড হট জিংক ফ্রেশ টেকনোলজি এবং আমদানিকৃত কুডুমু অরেঞ্জ।

Jul 27, 2026
দেশের ৩৪ টুথপেস্ট ব্র্যান্ডের ২৬টিতে মিলল ক্ষতিকর মাইক্রোপ্লাস্টিক

দীর্ঘ এক বছর পর পুনরায় চালু হলো বিমান বাংলাদেশের ঢাকা-নারিতা সরাসরি ফ্লাইট

ডেস্ক রিপোর্টঃদীর্ঘ এক বছরেরও বেশি সময় বন্ধ থাকার পর পুনরায় চালু হয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ঢাকা-নারিতা সরাসরি ফ্লাইট। সরকারের প্রত্যাশা, এই রুট পুনরায় চালুর মাধ্যমে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিক্ষা, পর্যটন এবং জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগ আরও জোরদার হবে।সোমবার (২৭ জুলাই) মধ্যরাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আয়োজিত ঢাকা-নারিতা রুটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম, এমপি বলেন, ভবিষ্যতে এই রুট আর বন্ধ করার প্রশ্নই আসে না। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, এবার রুটটি লাভজনক হবে। ইতোমধ্যে উদ্বোধনী ফ্লাইটের পাশাপাশি ফিরতি ও পরবর্তী ফ্লাইটগুলোর বুকিংও সম্পন্ন হয়েছে, যা জাপানপ্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ সৃষ্টি করেছে।মিট অ্যান্ড গ্রিট অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, “আজকের ঢাকা-নারিতা ফ্লাইট আমাদের সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফসল। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত।”তিনি আরও বলেন, ঢাকা-নারিতা সরাসরি ফ্লাইট পুনরায় চালুর মাধ্যমে বাংলাদেশ ও জাপানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে এবং দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।অনুষ্ঠানে বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রাশিদুজ্জামান মিল্লাত, এমপি বলেন, জাপানে বসবাসরত প্রায় ৪৫ হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী, শ্রমিক ও অভিবাসীদের সুবিধার কথা বিবেচনায় রেখে এই ফ্লাইট পুনরায় চালু করা হয়েছে। ভবিষ্যতের চাহিদা বিবেচনায় শুধু বোয়িং নয়, বিমান বহরে এয়ারবাসের উড়োজাহাজও যুক্ত করা হবে, যাতে এই রুটের কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ করা যায়।প্রতিমন্ত্রী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা স্মরণ করে বলেন, ১৯৮০ সালে উড়োজাহাজের স্বল্পতা থাকা সত্ত্বেও তিনি বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে ঢাকা-নারিতা রুট চালু করেছিলেন। আজ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় সেই ফ্লাইট আবারও যাত্রীসেবার জন্য পুনরায় চালু করা হলো।অনুষ্ঠান শেষে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী জাপানগামী যাত্রীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং ফিতা কেটে আনুষ্ঠানিকভাবে ফ্লাইটটির উদ্বোধন করেন।উল্লেখ্য, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ২০২৫ সালের ১ জুলাই বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ঢাকা-নারিতা সরাসরি ফ্লাইট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। প্রায় এক বছর পর পুনরায় চালু হওয়া এই রুটের উদ্বোধনী ফ্লাইট বিজি-৩৭৬ সোমবার রাত ২টা ২৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে জাপানের নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। সরকারের আশা, এই রুট পুনরায় চালুর মাধ্যমে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও জনসম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে।

Jul 27, 2026
দীর্ঘ এক বছর পর পুনরায় চালু হলো বিমান বাংলাদেশের ঢাকা-নারিতা সরাসরি ফ্লাইট
বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্কে নতুন মাত্রা, আলোচনায় জ্বালানি ও বিনিয়োগ নিয়ে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সাথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ফোনালাপ
বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্কে নতুন মাত্রা, আলোচনায় জ্বালানি ও বিনিয়োগ নিয়ে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সাথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ফোনালাপ
সরকার খাল খননের সাথে দখল ও দূষণ প্রতিরোধেও কাজ করছে: পানি সম্পদ মন্ত্রী
সরকার খাল খননের সাথে দখল ও দূষণ প্রতিরোধেও কাজ করছে: পানি সম্পদ মন্ত্রী
বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী করতে চায় বাংলাদেশ-চীন সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ
বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী করতে চায় বাংলাদেশ-চীন সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ
বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও অবকাঠামো উন্নয়নে জাপানের সহযোগিতা আরও জোরদারের আহ্বান জানালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও অবকাঠামো উন্নয়নে জাপানের সহযোগিতা আরও জোরদারের আহ্বান জানালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
বঙ্গভবনে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করলেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ
বঙ্গভবনে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করলেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ
কূটনৈতিক সম্প্রীতি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারে কনস্যুলার কোরের সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত
কূটনৈতিক সম্প্রীতি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারে কনস্যুলার কোরের সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত
সর্বাধিক আলোচিত
আরও দেখুন
বাংলা সংবাদ
বাংলা সংবাদ
বাংলা সংবাদ
বাংলা সংবাদ
বাংলা সংবাদ
বাংলা সংবাদ
বাংলা সংবাদ
বাংলা সংবাদ
বাংলা সংবাদ
বাংলা সংবাদ
বাংলা সংবাদ
বাংলা সংবাদ
বাংলা সংবাদ
বাংলা সংবাদ