রপ্তানি বহুমুখীকরণে ঢাকায় বসছে ‘গ্লোবাল সোর্সিং এক্সপো–২০২৬’


বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণ, নতুন আন্তর্জাতিক বাজার অনুসন্ধান এবং দেশীয় উদ্যোক্তাদের সঙ্গে বৈশ্বিক ক্রেতাদের সরাসরি ব্যবসায়িক সংযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে আগামী ১৫ থেকে ১৭ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘গ্লোবাল সোর্সিং এক্সপো–ঢাকা ২০২৬’। রাজধানীর পূর্বাচলে বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টার (বিগ ওয়েভ)-এ তিন দিনব্যাপী এ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) আয়োজনে অনুষ্ঠিতব্য এ এক্সপোতে ১২টি খাতের পণ্য প্রদর্শনের পাশাপাশি ২০০টির বেশি স্টল স্থাপনের প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

এক্সপোর প্রস্তুতি উপলক্ষে রবিবার (১৮ অক্টোবর, ২০২৬) ঢাকায় আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ হাসান আরিফ বলেন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (এসএমই) আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ সৃষ্টি এবং বাংলাদেশের রপ্তানিযোগ্য পণ্য বিশ্বব্যাপী তুলে ধরতে এ এক্সপো একটি কার্যকর বাণিজ্যিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে। এ আয়োজনের মাধ্যমে দেশীয় উৎপাদক, রপ্তানিকারক ও উদ্যোক্তাদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সরাসরি যোগাযোগ বাড়বে এবং নতুন ব্যবসায়িক সম্ভাবনা তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

গত বছরের আটটি খাতের পরিবর্তে এবার ১২টি খাতকে অন্তর্ভুক্ত করে এক্সপোর পরিসর সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। এতে আন্তর্জাতিক ক্রেতা ও দেশীয় উদ্যোক্তাদের মধ্যে বিজনেস-টু-বিজনেস (B2B) বৈঠক, অনলাইন ম্যাচমেকিং, ব্যবসায়িক নেটওয়ার্কিং, সেমিনার এবং কারখানা পরিদর্শনের সুযোগ থাকবে। পাশাপাশি দেশীয় পণ্যের প্রচার ও আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণে ফ্যাশন শো এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হবে।
আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের অংশগ্রহণ উৎসাহিত করতে নিবন্ধিত ক্রেতাদের জন্য হোটেলে বিশেষ মূল্যছাড় এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে ভ্রমণের ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড়ের সুযোগ নিয়েও সভায় আলোচনা হয়। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে বিদেশি ক্রেতাদের অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং বাংলাদেশের রপ্তানিকারকদের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
মতবিনিময় সভায় বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠন ও খাতসংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি, নারী উদ্যোক্তা ও এসএমই প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ সম্প্রসারণ এবং মানসম্মত স্টল ও প্যাভিলিয়ন ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি মেলা-পরবর্তী সময়ে ব্যবসায়িক যোগাযোগ অব্যাহত রাখা এবং সম্ভাব্য ক্রয়াদেশ বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়েও মতামত তুলে ধরা হয়।
সভায় প্লাস্টিক, হিমায়িত খাদ্য, মৎস্য, পাট, আসবাবপত্র ও ওষুধসহ বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় রপ্তানি খাতগুলোর পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে তুলে ধরার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব খাতের রপ্তানি সক্ষমতা ও পণ্যের বৈচিত্র্য আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সামনে তুলে ধরতে পারলে নতুন বাজার সৃষ্টি এবং বিদ্যমান বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করার সুযোগ তৈরি হবে।











