LDC উত্তরণসহ অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বেসরকারি খাতের সহযোগিতা চায় IIFC


দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও নীতি সংস্কার কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে বেসরকারি খাতের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছে ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ফ্যাসিলিটেশন কোম্পানি (IIFC)। বেসরকারি খাতের সঙ্গে সরকারের কার্যকর অংশীদারত্ব গড়ে তোলা, পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধি এবং ব্যবসায়ীদের চাহিদার সঙ্গে সরকারি উদ্যোগের সমন্বয় সাধন ছিল এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
গত ১৭ অক্টোবর ২০২৬, শনিবার ঢাকার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের মধুমতি হলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ERD) অধীনস্থ প্রতিষ্ঠান IIFC-এর উদ্যোগে ‘মিট অ্যান্ড গ্রিট’ শীর্ষক এ পরিচিতি ও মতবিনিময় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
IIFC-এর চেয়ারম্যান ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ERD) সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। এতে মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি, ঢাকা (MCCI), ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (DCCI) এবং ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (FICCI)-এর ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের পাশাপাশি IIFC-এর বোর্ড সদস্য, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন নিটওয়্যার খাতের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী নেতা, ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (FBCCI) প্রশাসক এবং IIFC-এর পরিচালক মো. ফজলুল হক। এ ছাড়া চামড়া ও পাদুকা শিল্পের ব্যবসায়ী নেতা, MCCI-এর সাবেক সভাপতি ও IIFC-এর পরিচালক সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর বক্তব্য দেন।
মতবিনিময় সভায় বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ পরিবেশের উন্নয়নে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেন। এর মধ্যে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, দক্ষতা উন্নয়ন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ, লজিস্টিকস ও পরিবহন অবকাঠামো, অর্থায়নের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং সরকারি সেবার মানোন্নয়ন উল্লেখযোগ্য।
এ ছাড়া স্বল্পোন্নত দেশের (LDC) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের ফলে সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং মেধাস্বত্ব অধিকার (Intellectual Property Rights) বিষয়ে সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন ব্যবসায়ী নেতারা। এসব ক্ষেত্রে কার্যকর সংস্কার ও সরকারি-বেসরকারি সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে আসে।
সভায় বেসরকারি খাতের সঙ্গে নিয়মিত ও কার্যকর পরামর্শ গ্রহণের পাশাপাশি যৌথভাবে উন্নয়ন প্রকল্প প্রণয়ন, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (PPP) মডেলে প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং যৌথ বিনিয়োগ সম্প্রসারণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, সরকারি নীতিনির্ধারণ ও উন্নয়ন পরিকল্পনায় বেসরকারি খাতের অভিজ্ঞতা ও বাস্তব চাহিদার প্রতিফলন ঘটানো গেলে বিনিয়োগ পরিবেশের উন্নয়ন, অবকাঠামোগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের পথ আরও সুগম হবে।
IIFC-এর এ উদ্যোগ সরকারি ও বেসরকারি খাতের মধ্যে যোগাযোগ, সহযোগিতা ও অংশীদারত্ব বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে আরও কার্যকর করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।











