উড়োজাহাজ স্বল্পতা দূরীকরণে সরকার উড়োজাহাজ ক্রয়ের সময়োপযোগী উদ্যোগ নিয়েছেঃ বিমানমন্ত্রী


মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬) দুপুর ২টায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, এমপি।
বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহর সম্প্রসারণের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আমরা গত ৩০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ১৪টি বোয়িং ক্রয়ের চুক্তি স্বাক্ষর করেছিলাম। ৩০ এপ্রিল তারিখে স্বাক্ষরিত ক্রয় চুক্তির ‘Right to Purchase Additional Aircraft’-এর আলোকে গত ২৩ সেপ্টেম্বর, বুধবার নিউইয়র্কে অতিরিক্ত ১১টি বোয়িং ক্রয়ের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। নতুন স্বাক্ষরিত ১১টি এয়ারক্রাফটের মধ্যে ৫টি Boeing 787-10 (Wide Body) এবং ৬টি Boeing 737-8 Max (Narrow Body)। ৩০ এপ্রিল তারিখে স্বাক্ষরিত ক্রয় চুক্তি অনুযায়ী একই দরে সম্পূরক চুক্তি করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে মোট ২৫টি বোয়িং ক্রয়ের চুক্তি করা হলো। তন্মধ্যে ২টি B787-9, ১৩টি B787-10-সহ মোট ১৫টি Wide Body এবং ১০টি B737-8 Max Narrow Body। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ২০৩১ সালের নভেম্বরে প্রথম উড়োজাহাজ ডেলিভারি করা হবে এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে সর্বশেষ ডেলিভারি হবে। তবে আমরা ২০২৭-২৮ সালের মধ্যে অন্তত একটি বিমান ডেলিভারির জন্য অনুরোধ জানিয়েছি।
এছাড়াও এয়ারবাস থেকে ৪টি A350-900 (Wide Body) এবং ৬টি A321 Neo (Narrow Body) এয়ারক্রাফট ক্রয়ের লক্ষ্যে আলোচনা চলমান রয়েছে। আমরা টেকসই মিক্সড ফ্লিট তৈরির জন্য কাজ করছি।
ক্রয়পরিকল্পনা সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, যাত্রী চাহিদার আলোকে গঠিত বিমান-এর Network Fleet Planning, Aircraft Range ও যাত্রী ধারণক্ষমতা, ফ্লাইটপ্রতি সম্ভাব্য যাত্রী এবং সাপ্তাহিক ফ্রিকুয়েন্সি বিবেচনায় Wide Body এবং Narrow Body উড়োজাহাজের সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছে।
Wide Body উড়োজাহাজ মূলত মধ্যপ্রাচ্যের উচ্চ চাহিদার রুট এবং ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার দীর্ঘ রুটের জন্য এবং Narrow Body উড়োজাহাজ আঞ্চলিক ও স্বল্পদূরত্বের জন্য, যা বিমান-এর পুরোনো ৭৩৭-৮০০ উড়োজাহাজগুলোকেও প্রতিস্থাপন করবে।
আমরা বিমানের বহর সম্প্রসারণে ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের মডেল অনুসরণ করছি। একটি ছোট লিগ্যাসি ক্যারিয়ার থেকে এখন ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের বহরে ১৬৭টি উড়োজাহাজ রয়েছে, যেখানে আমাদের রাষ্ট্রীয় ক্যারিয়ারে রয়েছে মাত্র ১৯টি। আপনারা জানেন, ইথিওপিয়ার তুলনায় আমাদের জিডিপি বেশি এবং আমাদের বিমানবন্দরগুলোতে যাত্রী চাহিদাও বেশি।
বর্তমানে আমাদের মোট চাহিদার তুলনায় ২০ শতাংশের কিছু বেশি বিমান পরিবহন করতে পারছে। বাকি ৮০ শতাংশই বিদেশি এয়ারলাইন্সের দখলে। তাই উড়োজাহাজ স্বল্পতা দূরীকরণে সরকার উড়োজাহাজ ক্রয়ের সময়োপযোগী উদ্যোগ নিয়েছে। এখানে কোনো ভূরাজনৈতিক প্রভাব নেই।
ক্রয়ের মূল্য পরিশোধ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বিমান একটি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি। বিমানের নিজস্ব আয় ও উপযুক্ত অর্থায়নের মাধ্যমে ক্রয়ের মূল্য পরিশোধ করা হবে। ডেলিভারি ধাপে ধাপে হওয়ায় অর্থ পরিশোধও ধাপে ধাপে হবে।
বিমানের আর্থিক সক্ষমতা, রুট-আয় ও ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস বিবেচনায় নিয়েই পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। কাজেই সরাসরি বাজেটের ওপর চাপ পরিলক্ষিত হবে না।











