ডেস্ক রিপোর্টঃ
অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় সরকার সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণে কোথাও কোনো সমস্যা হয়নি। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর রমজান শুরু হয়েছে এবং যুদ্ধ শুরু হয়েছে। যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের সংকট দেখা দিয়েছে। কিন্তু জ্বালানি সংকট থাকা সত্ত্বেও এবার ঈদে পরিবহন সংকট হয়নি, পরিবহন ভাড়া বাড়েনি। মানুষ নির্বিঘ্নে বাড়ি যেতে এবং ফিরতে পেরেছে। এবার রমজানে দ্রব্যমূল্যও স্থিতিশীল ছিল। এবার গার্মেন্ট শ্রমিকদের বেতন নিয়ে অস্থিরতা তৈরি হয়নি। গার্মেন্ট ফ্যাক্টরি থেকে সঠিক সময়ে শ্রমিকদের বেতন দেওয়া হয়েছে, তাই কোনো সমস্যা তৈরি হয়নি।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ, ২০২৬) সচিবালয়ে আইএমএফের সফররত এশিয়া ও প্যাসিফিক বিভাগের পরিচালক কৃষ্ণা শ্রীনিবাসনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সঙ্গে ঋণ কর্মসূচি চলছে এবং কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে আলাপ-আলোচনা চলছে। কর্মসূচির বিপরীতে যেসব শর্ত রয়েছে, সেগুলো বাংলাদেশের অর্থনীতির পরিপ্রেক্ষিতে ক্রমান্বয়ে বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি বলেন, “সব একসঙ্গে করা যাবে না, আমাদের মতো করে করব।” এপ্রিল মাসে ওয়াশিংটনে আইএমএফের বসন্তকালীন বৈঠকে সকল বিষয়ে আলোচনা হবে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর আগের অর্থনীতির খারাপ অবস্থা আমরা পেয়েছি। ব্যাংকিং সেক্টর, শেয়ারবাজার খারাপ অবস্থায় আছে এবং কর-জিডিপি হারও অনেক কম। অর্থনৈতিক সংস্কার এবং বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের মাধ্যমে এসব সংকট উত্তরণ সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, আমরা সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি—যেমন ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড বিতরণ, কৃষি ঋণ মওকুফ ইত্যাদি—বাস্তবায়ন করছি। সেগুলো বাস্তবায়নের জন্য একটার পর একটা পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকেই অর্থনৈতিক কারণে অনেকগুলো উন্নয়ন প্রকল্প থমকে গেছে। আমরা এগুলো নিয়ে আলোচনা করেছি।
সংস্কারের মাধ্যমে অর্থনীতিকে একটি স্থিতিশীল জায়গায় নিয়ে যেতে হবে। এজন্য বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে ডিরেগুলেশন রিফর্মস, ব্যবসা সহজীকরণ, ব্যবসার খরচ কমানো ইত্যাদি বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, আগামী বাজেটেই এসবের প্রতিফলন থাকবে।











