January 30, 2026

শিরোনাম
  • Home
  • অন্যান্য খবর
  • ভুটানের চতুর্থ রাজার দূরদর্শী নেতৃত্ব ও ‘গ্রস ন্যাশনাল হ্যাপিনেস’-এর গুরুত্ব তুলে ধরলেন শিক্ষা উপদেষ্টা

ভুটানের চতুর্থ রাজার দূরদর্শী নেতৃত্ব ও ‘গ্রস ন্যাশনাল হ্যাপিনেস’-এর গুরুত্ব তুলে ধরলেন শিক্ষা উপদেষ্টা

Image

ঢাকাস্থ রয়েল ভুটান দূতাবাস মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর ২০২৫) রাজধানীর রেডিসন ব্লু ঢাকায় মহামান্য চতুর্থ ড্রুক গ্যালপো জিগমে সিঙ্গে ওয়াংচুকের ৭০তম জন্মবার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন করে। কূটনীতিক, সরকারি কর্মকর্তা, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও অতিথিদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি পরিণত হয় ভুটান-বাংলাদেশ বন্ধুত্ব ও সাংস্কৃতিক সম্প্রীতির এক বিশিষ্ট সমাবেশে।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সি. আর. আবরার। তিনি তার বক্তব্যে ভুটানের চতুর্থ রাজার দূরদর্শী নেতৃত্ব, মানবিক মূল্যবোধ এবং উন্নয়নদর্শনের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি বলেন, মহামান্য জিগমে সিঙ্গে ওয়াংচুক শুধু ভুটানের নয়, সমগ্র অঞ্চলের জন্যই এক অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তিত্ব। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তিনি মহামান্যের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও শুভেচ্ছা জানান। ড. আবরার উল্লেখ করেন, চতুর্থ রাজার প্রবর্তিত ‘গ্রস ন্যাশনাল হ্যাপিনেস’—যেখানে মানুষের সুখ, কল্যাণ ও সামাজিক সম্প্রীতি উন্নয়নের প্রধান ভিত্তি—বিশ্বের উন্নয়ন ধারণাকে নতুনভাবে ভাবতে শিখিয়েছে। তিনি স্মরণ করেন ১৯৭৪ সালে চতুর্থ রাজার ঐতিহাসিক ঢাকা সফরের কথা এবং উল্লেখ করেন যে ১৯৭১ সালে ভুটান ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে প্রথম স্বীকৃতি প্রদানকারী দেশ। তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশ একটি রূপান্তরযাত্রার মধ্য দিয়ে এগোচ্ছে এবং এই যাত্রায় বাংলাদেশ তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু ভুটানের সঙ্গে আরও গভীরভাবে কাজ করতে আগ্রহী।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ঢাকাস্থ ভুটান রাষ্ট্রদূত Ms. Dasho Karma Hamu Dorjee। তিনি উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, মাত্র ১৭ বছর বয়সে সিংহাসনে আরোহণ করা চতুর্থ রাজা তার ৩৪ বছরের শাসনামলে ভুটানের সামগ্রিক উন্নয়নে নিজেকে নিবেদন করেছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, মহামান্যের নেতৃত্বে ভুটান গ্রামীণ অবকাঠামো, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও জনগণের জীবিকা উন্নয়নের ক্ষেত্রে যুগান্তকারী অগ্রগতি অর্জন করে। পরিবেশ সংরক্ষণে চতুর্থ রাজা ছিলেন বৈশ্বিক অগ্রপথিক; তার সিদ্ধান্তে ভুটানের সংবিধানে অন্তত ৬০ শতাংশ বনভূমি সংরক্ষণের বাধ্যবাধকতা অন্তর্ভুক্ত হয় এবং আজ দেশটির বনভূমি প্রায় ৭০ শতাংশ। এর ফলে ভুটান বিশ্বের একমাত্র সত্যিকারের কার্বন-নেগেটিভ রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। তিনি আরও স্মরণ করিয়ে দেন, গণতন্ত্রে শান্তিপূর্ণ রূপান্তরও চতুর্থ রাজার ঐতিহাসিক অবদান, যা তিনি জাতির শান্তি ও স্থিতিশীলতার স্বার্থেই স্বেচ্ছায় উদ্যোগ নেন।

রাষ্ট্রদূত বলেন, ভুটান-বাংলাদেশ বন্ধুত্বের ভিত্তি অত্যন্ত দৃঢ় ও ঐতিহাসিক। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার প্রথম স্বীকৃতি থেকে শুরু করে ১৯৭৪ ও ১৯৮৪ সালে চতুর্থ রাজার ঢাকা সফর, ১৯৮৫ সালে ঢাকায় SAARC সম্মেলনে অংশগ্রহণ, বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক চুক্তি ও সাম্প্রতিক উচ্চ পর্যায়ের পারস্পরিক সফর—সবই দুই দেশের বন্ধুত্বকে আরও গভীর করেছে। তিনি ভুটানের “Gelephu Mindfulness City”–কে ভুটানের রূপান্তরমূলক ভবিষ্যৎ ভাবনার প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেন এবং দুই দেশের মধ্যে নতুন সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এরপর মহামান্য চতুর্থ রাজার ৭০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে কেক কেটে উদযাপন করা হয়। অতিথিরা দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব ও ভবিষ্যৎ সহযোগিতা আরও শক্তিশালী হবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

Scroll to Top