January 29, 2026

শিরোনাম
  • Home
  • জাতীয়
  • বিজয় দিবসে ৫৪ পতাকা নিয়ে ৫৪ প্যারাট্রুপারের জাম্প: বিশ্বরেকর্ড গড়তে প্রস্তুত বাংলাদেশ

বিজয় দিবসে ৫৪ পতাকা নিয়ে ৫৪ প্যারাট্রুপারের জাম্প: বিশ্বরেকর্ড গড়তে প্রস্তুত বাংলাদেশ

Image

১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস ২০২৫ উদযাপনকে সামনে রেখে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। স্বাধীনতার ৫৪ বছর পূর্তি উদযাপনকে স্মরণীয় করে রাখতে বাংলাদেশ এ বছর গড়তে যাচ্ছে এক অনন্য বিশ্বরেকর্ড—৫৪ জন প্যারাট্রুপার ৫৪টি জাতীয় পতাকা হাতে প্যারাস্যুটিং করবেন। সশস্ত্র বাহিনীর এই যৌথ উদ্যোগটি গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে স্থান পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিজয় দিবসের মূল আয়োজন উপলক্ষে সোমবার (৮ ডিসেম্বর) প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় সব কার্যক্রম চূড়ান্ত করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক ই আজম এবং সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমানসহ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বিজয় দিবসের দিন সকাল ১১টা থেকে পুরাতন বিমানবন্দরে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর সমন্বয়ে ফ্লাই পাস্ট মহড়া অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ১১টা ৪০ মিনিটে “টিম বাংলাদেশ”-এর ৫৪ জন প্যারাট্রুপার জাতীয় পতাকা হাতে প্যারাস্যুটিং করবেন, যা জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। একইসঙ্গে দেশের অন্যান্য শহরেও সশস্ত্র বাহিনী, পুলিশ, বিজিবি ও আনসার বাহিনীর ব্যান্ড-শো এবং ফ্লাই পাস্ট মহড়া অনুষ্ঠিত হবে। মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় সারাদেশে তিন দিনব্যাপী বিজয়মেলার আয়োজন করবে এবং জেলা-উপজেলায় মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক রচনা, আবৃত্তি, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।

সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ১৫ ডিসেম্বর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজন করা হবে আ্যাক্রোবেটিক শো ও যাত্রাপালা “জেনারেল ওসমানী”; ১৬ ডিসেম্বর পরিবেশিত হবে বিজয় দিবসের গান এবং দেশের ৬৪ জেলায় নতুন প্রজন্মের কণ্ঠে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের গান। এ উপলক্ষে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক ই আজম বলেন, এবারের বিজয় দিবসে ধর্ম-বর্ণ-শ্রেণি নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে বড় আয়োজন করা হয়েছে। সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বলেন, এবারের আয়োজন নতুন প্রজন্মের জন্য হবে এক স্মরণীয় বিজয় উদযাপন, যা অতীতের সব উদযাপনকে ছাড়িয়ে যাবে।

বিজয় দিবস উপলক্ষে সরকারি ও বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও আলোকসজ্জাসহ প্রকাশ করা হবে তথ্য মন্ত্রণালয়ের বিশেষ ক্রোড়পত্র। সারাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিশেষ অনুষ্ঠান, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা, নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের জাহাজ জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত রাখা, ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য সিনেমা হলে বিনা টিকেটে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, জাদুঘর ও বিনোদনকেন্দ্রে শিশুদের বিনামূল্যে প্রবেশের সুযোগ রাখা হবে। পাশাপাশি মসজিদ, মন্দির, গির্জা, প্যাগোডাসহ সব উপাসনালয়ে শহিদদের আত্মার মাগফেরাত ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের সুস্বাস্থ্যের জন্য বিশেষ প্রার্থনা এবং বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠানে প্রীতিভোজের আয়োজন করা হবে। এবারের বিজয় দিবস তাই দেশের সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে হতে যাচ্ছে এক ঐতিহাসিক ও বর্ণিল উদযাপন।

Scroll to Top