March 26, 2026

শিরোনাম
  • Home
  • জাতীয়
  • বিএনপি ক্ষমতায় এলে বিডিআরের নাম পুনর্বহাল, পিলখানা হত্যাকাণ্ডের দিন জাতীয় শোক দিবস ঘোষণার উদ্যোগ নেবে: তারেক রহমান

বিএনপি ক্ষমতায় এলে বিডিআরের নাম পুনর্বহাল, পিলখানা হত্যাকাণ্ডের দিন জাতীয় শোক দিবস ঘোষণার উদ্যোগ নেবে: তারেক রহমান

Image

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

জনগণের রায়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত বাংলাদেশ রাইফেলস (বিডিআর) নাম পুনর্বহাল করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। একই সঙ্গে সেনাবাহিনীর সঙ্গে আলোচনা করে ২০০৯ সালের পিলখানা হত্যাকাণ্ডের দিনটিকে শহীদ সেনা দিবস, অথবা সেনা হত্যাযজ্ঞ দিবস কিংবা জাতীয় শোক দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হবে বলেও জানান তিনি।

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) রাজধানীর রেডিসন ব্লু হোটেলে সশস্ত্র বাহিনীর সাবেক সদস্য ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সম্মানে আয়োজিত ‘স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের সুদৃঢ় আস্থা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তারেক রহমান। আলোচনা সভার আয়োজন করে বিএনপির সংসদ নির্বাচন-২০২৬ সশস্ত্র বাহিনী বিষয়ক উপকমিটি।

তারেক রহমান বলেন, ২০০৯ সালে পিলখানায় বিডিআর হত্যাকাণ্ডের পর পতিত ও পরাজিত ফ্যাসিস্ট শক্তি মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত বিডিআরের নাম পরিবর্তন করে দেয়, এমনকি বাহিনীর পোশাক ও রংও বদলে ফেলা হয়। তিনি বলেন, “আমি একটি ব্যক্তিগত অনুভূতি প্রকাশ করতে চাই—জনগণের রায়ে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে ইনশাল্লাহ বিডিআরের নাম পুনর্বহাল করা হবে।”

তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা আর না ঘটে, সে লক্ষ্যে সেনাবাহিনীর সঙ্গে আলোচনা করে পিলখানায় সেনা হত্যাকাণ্ডের দিনটিকে উপযুক্ত রাষ্ট্রীয় দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হবে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তারেক রহমান জানান, সাবেক জ্যেষ্ঠ সেনা কর্মকর্তারা সেনাবাহিনী সংক্রান্ত কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ তুলে ধরেছেন। এর মধ্যে জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ গঠন, সেনা আইনের কিছু বিধিমালা পরিমার্জন ও সংস্কারের প্রস্তাব রয়েছে। তিনি বলেন, “আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে জনগণের রায়ে বিএনপি ক্ষমতায় এলে সাবেক ও বর্তমান সেনা সদস্যদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা হবে। এই কমিটির সুপারিশ যাচাই-বাছাই করে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।”

একই সঙ্গে তিনি ওয়ান র‍্যাংক ওয়ান পে বাস্তবায়নের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, এটি বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারেও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে এবং ক্ষমতায় এলে দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে।

সেনাবাহিনীকে নিজের বৃহত্তর পরিবার হিসেবে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, সেনানিবাসেই তাঁর বেড়ে ওঠা। তিনি বলেন, “আমার মা মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া সব সময় বিশ্বাস করতেন, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য একটি শক্তিশালী সেনাবাহিনী অপরিহার্য। একজন সন্তান হিসেবে যেমন আমি আমার পিতাকে নিয়ে গর্ব করি, তেমনি একজন সেনা কর্মকর্তা হিসেবে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে শহীদ জিয়া সেনাবাহিনীকেও গর্বিত করেছেন বলে আমি বিশ্বাস করি।”

তিনি বলেন, স্বাধীনতাপ্রিয় জনগণের কাছে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং তার প্রতি যেমন জনগণের গর্ব রয়েছে, তেমনি বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীরও রয়েছে।

তারেক রহমান আরও বলেন, সেনাবাহিনীকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হলে বাহিনীর মূল দায়িত্ব ব্যাহত হয়। বিএনপি ক্ষমতায় এলে সেনাবাহিনীকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হবে না বলেও দৃঢ় অঙ্গীকার করেন তিনি। “বিএনপি অতীতেও সেনাবাহিনীর সম্মান ক্ষুণ্ন করেনি, ভবিষ্যতেও করবে না,” বলেন তিনি।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের উদ্দেশে মেজর (অব.) মিজানুর রহমান বলেন, জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী সবাইকে গণতান্ত্রিক পথে থেকে তারেক রহমানকে সমর্থন জানাতে হবে। তিনি গত ১৭ বছরে নিজের ওপর চালানো নির্যাতনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে একটি নিরাপদ বাংলাদেশের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে বিএনপি চেয়ারম্যানের প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) ফজলে এলাহী আকবর স্বাগত বক্তব্য রাখেন। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সাবেক এডিসি কর্নেল (অব.) হারুনুর রশিদ খান, মেজর (অব.) জামাল হয়দার, বিডিআরের সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদের সন্তান রাকিন আহমেদসহ সশস্ত্র বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সদস্যরা।

Scroll to Top