আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
বাংলাদেশে অবস্থিত নেপাল দূতাবাসের উদ্যোগে শুক্রবার (২৭ মার্চ, ২০২৬) সন্ধ্যায় নেপালি সেনাবাহিনীর ২৬৩তম রেইজিং ডে যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে কূটনৈতিক, সামরিক ও বেসামরিক বিভিন্ন পর্যায়ের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারী বলেন, এই দিনটি নেপালের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়কে স্মরণ করিয়ে দেয়, যা দেশটিকে একটি সার্বভৌম, ঐক্যবদ্ধ ও আধুনিক রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার পথে এগিয়ে নিয়েছে। তিনি নেপালি সেনাবাহিনীকে সাহস, অটল নিষ্ঠা ও দেশের প্রতি সেবার এক উজ্জ্বল প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে সামরিক সহযোগিতার ক্রমবর্ধমান অগ্রগতির কথা তুলে ধরে বলেন, নিয়মিত বিনিময়, প্রশিক্ষণ সহযোগিতা, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং যৌথ মহড়ার মাধ্যমে দুই দেশের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হয়েছে।

স্বাগত বক্তব্যে সামরিক অ্যাটাশে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল Anjan Keshar Khatri নেপালি সেনাবাহিনীর স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। তিনি জাতীয় উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় বাহিনীর অবদানের বিষয়েও আলোকপাত করেন। পাশাপাশি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে নেপালি সেনাবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান Waker-Uz-Zaman। তিনি নেপালি সেনাবাহিনীকে বাহ্যিক হুমকি মোকাবিলার পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় একটি ‘প্রতিরক্ষার প্রাচীর’ হিসেবে উল্লেখ করে প্রশংসা করেন। তিনি বাংলাদেশ ও নেপালের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে বিদ্যমান ‘দৃঢ় ও বন্ধুত্বপূর্ণ’ সম্পর্কের প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতে এ সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা, ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও মিশন প্রধান, বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, প্রতিরক্ষা অ্যাটাশেরা, ব্যবসায়ী ও সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ এবং ঢাকায় বসবাসরত নেপালি সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।











