January 29, 2026

শিরোনাম
  • Home
  • আন্তর্জাতিক
  • বাংলাদেশ–আলজেরিয়া বাণিজ্য, শিক্ষা ও প্রযুক্তিতে অংশীদারত্ব আরও গভীর হবে: আলজেরিয়ার রাষ্ট্রদূত

বাংলাদেশ–আলজেরিয়া বাণিজ্য, শিক্ষা ও প্রযুক্তিতে অংশীদারত্ব আরও গভীর হবে: আলজেরিয়ার রাষ্ট্রদূত

Image

বাংলাদেশে অবস্থিত আলজেরিয়ান দূতাবাসে আজ বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর ২০২৫) মর্যাদাপূর্ণ ও সুশোভিত পরিবেশে পালিত হলো “১১ ডিসেম্বর, ১৯৬০-এর গণপ্রদর্শন” স্মরণে বিশেষ অনুষ্ঠান। আলজেরিয়ার স্বাধীনতা সংগ্রামের এই গুরুত্বপূর্ণ দিনের স্মরণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠান আলজেরিয়ান জনগণের আত্মত্যাগ ও ঔপনিবেশিকতার বিরুদ্ধে সংগ্রামের ইতিহাসকে গভীরভাবে তুলে ধরে।

অনুষ্ঠানের সূচনা হয় দূতাবাস প্রাঙ্গণে আলজেরিয়ার জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে, যা সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় গৌরবের এক শক্তিশালী প্রতীক। এরপর ১৯৬০ সালের ১১ ডিসেম্বরের গণপ্রদর্শনে জীবন উৎসর্গকারী শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়, যাদের বীরত্ব আজও নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে।

এরপর মাওলানা মোহাম্মদ আনোয়ারুল হক পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন এবং প্রদর্শনের শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া করেন। পরে মাওলানা মাসুদ আহমেদও আরেক দফা কোরআন তেলাওয়াত করেন।

অনুষ্ঠানে ভাষণ দেন বাংলাদেশে আলজেরিয়ার মহামান্য রাষ্ট্রদূত আব্দেলোয়াহাব সাইদানি। তিনি ১৯৬০ সালের ১১ ডিসেম্বরের গণপ্রদর্শনের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি স্মরণ করেন কিভাবে আলজেরিয়ান জনগণ ফরাসি ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে বীরত্বের সাথে রুখে দাঁড়িয়েছিল—যে সময় ফরাসি প্রেসিডেন্ট শার্ল দ্য গল আলজেরিয়া সফর করে তার “থার্ড ওয়ে” পরিকল্পনা প্রচার করছিলেন, যা আংশিক সার্বভৌমত্ব দিলেও প্রকৃত স্বাধীনতাকে অস্বীকার করেছিল।

রাষ্ট্রদূত সাইদানি বলেন, ফরাসি বাহিনীর অত্যাচার, গণগ্রেপ্তার ও হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে আন্দোলন দমিয়ে রাখার প্রচেষ্টা বরং আলজেরিয়াদের স্বাধীনতার প্রত্যয়কে আরও জোরদার করেছিল। এ নির্মম দমন-পীড়ন আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল এবং দেশটির স্বাধিকার আন্দোলনে জনগণকে আরও ঐক্যবদ্ধ করেছিল। জনগণের এই সম্মিলিত প্রতিরোধই শেষ পর্যন্ত আলজেরিয়ার স্বাধীনতা অর্জনে ভূমিকা রাখে।

তিনি আরও বলেন, ১১ ডিসেম্বর ১৯৬০-এর ঘটনাবলি শুধু আলজেরিয়ানদের ঐক্য সুসংহত করেনি, বরং জাতিসংঘের মাধ্যমে আলজেরিয়ার আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারকে স্বীকৃতি পেতে সহায়তা করেছে এবং শেষ পর্যন্ত ফ্রান্সকে আলোচনার টেবিলে বসতে বাধ্য করেছে।

রাষ্ট্রদূত সাইদানি জানান, আজকের আলজেরিয়া উদ্ভাবন, ঐক্য ও বহুমুখী অর্থনীতির মাধ্যমে অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির পথে অটলভাবে এগিয়ে চলেছে। তিনি বিশেষভাবে দেশের যুবসমাজকে ক্ষমতায়নের উদ্যোগসহ বিভিন্ন খাতে আলজেরিয়ার উন্নতির কথা উল্লেখ করেন এবং স্বাধীনতার জন্য জীবন উৎসর্গকারী শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ এবং আলজেরিয়ার স্বাধীনতা সংগ্রামের মধ্যে মিল তুলে ধরে তিনি বলেন—দুটি জাতিই মর্যাদা, স্বাধীনতা ও আত্মনিয়ন্ত্রণের মূল্যবোধে বিশ্বাস করে। তিনি বাণিজ্য, শিক্ষা, প্রযুক্তি এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও আলজেরিয়ার মধ্যে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর আহ্বান জানান এবং দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন।

অনুষ্ঠানের শেষে ১১ ডিসেম্বর ১৯৬০-এর গণপ্রদর্শনের ইতিহাস ও তাৎপর্য নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়, যেখানে স্বাধীনতার জন্য লড়াই করা বীরদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে সিভিল সোসাইটির গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ, বিভিন্ন খাতের সম্মানিত প্রতিনিধিরা, বাংলাদেশ স্কাউটস, দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিক এবং শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশে আলজেরিয়ার দূতাবাস দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে অবিরত কাজ করে যাচ্ছে। নানা আয়োজনের মাধ্যমে দূতাবাস পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সহযোগিতা বৃদ্ধির প্রচেষ্টাকে এগিয়ে নিচ্ছে।

Scroll to Top