April 11, 2026

শিরোনাম
  • Home
  • অর্থ ও বাণিজ্য
  • ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্য, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই কাঠামো নিয়ে কাজ করছে সরকার: অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী

ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্য, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই কাঠামো নিয়ে কাজ করছে সরকার: অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী

Image

ডেস্ক রিপোর্টঃ

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, সরকার দেশের অর্থনীতিকে একটি অগ্রসর, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই কাঠামোয় রূপ দিতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তিনি জানান, নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের পাশাপাশি ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে সরকার।

শুক্রবার (১০ এপ্রিল, ২০২৬) জাতীয় সংসদে কার্যপ্রণালী বিধির ৩০০ ধারা অনুযায়ী একটি বিস্তৃত বিবৃতি উপস্থাপনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, শক্তিশালী জনসমর্থন নিয়ে দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই সরকার অর্থনীতি স্থিতিশীল করা, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা পুনরুদ্ধার এবং সকল নাগরিকের জন্য সমতাভিত্তিক উন্নয়ন নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছে।

তিনি বলেন, “জনগণ আমাদের ওপর আস্থা রেখেছে, আর সেই আস্থার প্রতিদান হিসেবে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই অর্থনীতি গড়ে তোলা আমাদের দায়িত্ব।”

বক্তব্যে তিনি জিয়াউর রহমান-এর নেতৃত্বে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রবর্তন এবং অর্থনৈতিক মুক্তির যাত্রার কথা উল্লেখ করেন। পাশাপাশি খালেদা জিয়া-এর সময়ে পোশাকশিল্পের বিকাশ, বৈশ্বিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করা এবং মধ্যবিত্ত শ্রেণির বিস্তারের কথাও তুলে ধরেন।

অর্থমন্ত্রী জানান, ভ্যাট ব্যবস্থা প্রবর্তন, শুল্ক ও আমদানি কাঠামোর আধুনিকায়ন এবং বেসরকারি বিনিয়োগবান্ধব নীতির ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার স্বচ্ছতা, সততা ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে অর্থনীতি এগিয়ে নিতে কাজ করছে।

বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, সরকার একটি চ্যালেঞ্জপূর্ণ অর্থনীতি উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছে—যেখানে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক খাতে চাপ, বিনিয়োগের ধীরগতি এবং প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা বিদ্যমান। এ অবস্থায় অর্থনৈতিক গণতন্ত্রায়ন ও নিয়ন্ত্রণমুক্তির মাধ্যমে উন্নয়নের সুফল সবার কাছে পৌঁছে দেওয়াই সরকারের লক্ষ্য।

সামাজিক সুরক্ষা জোরদারে ৫০ লাখ ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু হয়েছে এবং ধাপে ধাপে সব পরিবারকে এর আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া কৃষক, জেলে ও প্রাণিসম্পদ খামারিদের জন্য কৃষক কার্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে এবং গ্রামীণ উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে আইসিটি খাত সম্প্রসারণ, যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়ন, ব্লু ইকোনমি, ইকো-ট্যুরিজম এবং আঞ্চলিক সৃজনশীল হাব গড়ে তুলে এক কোটি কর্মসংস্থান তৈরির পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। পাশাপাশি ‘ক্রিয়েটেড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

রাজস্ব খাতে স্বচ্ছতা ও অটোমেশন নিশ্চিত করে কর আদায় বাড়ানো এবং ঋণের ওপর নির্ভরতা কমানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে কর-জিডিপি অনুপাত ১৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে ব্যাংকিং খাতে সংস্কার, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আইনি কাঠামো শক্তিশালীকরণ এবং পুঁজিবাজার উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। এসএমই খাত শক্তিশালী করা এবং সহজ ঋণপ্রাপ্তি নিশ্চিত করলে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়বে বলে মত দেন তিনি।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের প্রভাব প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক তেল ও এলএনজির দাম দ্বিগুণের বেশি বেড়ে যাওয়ায় চলতি অর্থবছরের মার্চ-জুন সময়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে অতিরিক্ত ৩৬ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হচ্ছে, যা বাজেট ও বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় জ্বালানি সাশ্রয়, অফিস সময় কমানো, বিদ্যুৎ ব্যবহার সীমিতকরণ এবং বিকল্প জ্বালানি উৎস নিশ্চিত করার মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। বাজেট ঘাটতি মোকাবিলায় উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত সহায়তাও চাওয়া হচ্ছে।

বৈশ্বিক সংকটের মধ্যেও জনগণের ওপর চাপ কমাতে জ্বালানির দাম অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিচক্ষণ নীতি ও দক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব।

আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে স্থিতিশীলতা, স্বচ্ছতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।

শেষে তিনি আশা প্রকাশ করেন, জনগণ অতীতের সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় নিয়ে সরকারের সংস্কার কার্যক্রমে সমর্থন দেবে এবং একটি শক্তিশালী, টেকসই অর্থনীতি গড়ে তুলতে সহযোগিতা করবে।

Scroll to Top