আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (আইএমও)-এর দ্বিবার্ষিক অ্যাসেম্বলি অধিবেশন মঙ্গলবার লন্ডনে শুরু হয়েছে। ১৭৬টি সদস্য দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন এবারের অধিবেশনে। আগামী দুই বছরের জন্য ৪০ সদস্য বিশিষ্ট কাউন্সিল নির্বাচন অধিবেশনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এজেন্ডা, যেখানে বাংলাদেশ “ক্যাটাগরি–সি” আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।
বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন নৌপরিবহন বিষয়ক উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. সাখাওয়াত হোসেন। অধিবেশনের উদ্বোধনী সেশনে তিনি বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন।

অ্যাসেম্বলি চলাকালে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল পাকিস্তান ও বেলিজের মন্ত্রীপর্যায়ের প্রতিনিধিদের সাথে পৃথক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছে। উভয় বৈঠকই সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়।
পাকিস্তানের সঙ্গে বৈঠক –
পাকিস্তানের ফেডারেল মিনিস্ট্রি ফর মেরিটাইম অ্যাফেয়ার্সের মন্ত্রী মোহাম্মদ জুনায়েদ আনোয়ারের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে চট্টগ্রাম ও করাচি বন্দরের মধ্যে সামুদ্রিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন ও পাকিস্তান ন্যাশনাল শিপিং করপোরেশনের সহযোগিতা জোরদারসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে উপদেষ্টা ড. সাখাওয়াত হোসেন পাকিস্তানি মন্ত্রীকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান এবং পাকিস্তানি মন্ত্রীও পাল্টা আমন্ত্রণ প্রদান করেন। উভয় পক্ষ পারস্পরিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেন।

বেলিজের সঙ্গে বৈঠক –
বেলিজের পাবলিক ইউটিলিটিজ, এনার্জি ও লজিস্টিকস মন্ত্রী মিশেল চিবাটের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকটিও অত্যন্ত আন্তরিক পরিবেশে সম্পন্ন হয়। আলোচনায় জাহাজ পুনর্ব্যবহার, সামুদ্রিক বাণিজ্য এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। উপদেষ্টা চট্টগ্রামের বাংলাদেশ মেরিন একাডেমিতে ক্যারিবীয় অঞ্চলসহ ছোট দ্বীপরাষ্ট্রগুলোর মেরিন ক্যাডেটদের জন্য উন্মুক্ত বৃত্তির সুযোগ তুলে ধরেন। তিনি বেলিজের মন্ত্রীকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান, যা বেলিজের পক্ষ থেকে প্রশংসার সঙ্গে গ্রহণ করা হয়।
বাংলাদেশের সক্রিয় প্রচারণা –
অ্যাসেম্বলি জুড়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠান, বৈঠক ও নেটওয়ার্কিংয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ কাউন্সিল সদস্যপদ প্রার্থিতার পক্ষে সক্রিয় প্রচারণা চালাচ্ছে। আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক খাতে বাংলাদেশের ইতিবাচক অবদানও প্রতিনিধিদল বিভিন্ন ফোরামে তুলে ধরছে।











