ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল কোনো অবস্থাতেই ভোটের ফল প্রকাশ অযথা দীর্ঘায়িত হবে না : ইসি সচিব


নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল কোনো অবস্থাতেই অযথা দীর্ঘায়িত করা হবে না বলে আশ্বস্ত করেছেন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। তিনি বলেছেন, নির্বাচন কমিশন বর্তমানে ইলেকশন রেজাল্ট ম্যানেজমেন্ট নিয়ে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে এবং ফলাফল দ্রুত প্রকাশের জন্য সব ধরনের সুযোগ নিশ্চিত করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বিদেশি সাংবাদিকদের জন্য মিডিয়া সেন্টার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ইসি সচিব বলেন, “কে কত ভোট পেলেন—তা আমরা দ্রুত জানিয়ে দেব। পোস্টাল ব্যালটের কারণে ভোট গণনায় সামান্য বেশি সময় লাগতে পারে, তবে তা অস্বাভাবিক নয়। যতটুকু সময় প্রয়োজন, ঠিক ততটুকুই লাগবে—এর বেশি নয়। কোনো অবস্থাতেই ফল প্রকাশ অযথা দীর্ঘায়িত করা হবে না।”
তিনি আরও জানান, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন উপলক্ষে ২৯৯টি সংসদীয় আসনের সব ব্যালট পেপার ইতোমধ্যে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে এবং ভোটগ্রহণের চূড়ান্ত প্রস্তুতিও সম্পন্ন হয়েছে। এখন কেবল নির্ধারিত সময়ের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে।
আখতার আহমেদ বলেন, এবার একসঙ্গে দুটি ভোট অনুষ্ঠিত হবে—একটি সাধারণ নির্বাচন এবং অন্যটি গণভোট। “সাধারণ নির্বাচন রাজনৈতিক নেতৃত্ব নির্বাচনের জন্য, আর গণভোট সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের জন্য। তবে আমাদের এই যাত্রা খুব মসৃণ ছিল না। আমরা ধাপে ধাপে প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি,” বলেন তিনি।
ইসি সচিব আরও বলেন, জুলাইয়ের রক্তস্নাত বিপ্লবের অন্যতম বড় ম্যান্ডেট ছিল একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে অংশগ্রহণমূলক ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনের জন্য নির্বাচন কমিশন কাজ করেছে।
তিনি জানান, ভোটার তালিকায় অসংখ্য ত্রুটি ছিল, যা নির্বাচন কমিশন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সংশোধন করেছে। নতুন ও তরুণ ভোটারদের তালিকাভুক্ত করা হয়েছে এবং মৃত ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
সাংবাদিকদের উদ্দেশে আখতার আহমেদ বলেন, “আমাদের সত্যকে ধারণ করতে হবে এবং সব ধরনের অপতথ্য বর্জন করতে হবে। শুরুতে আমরা ভোটকেন্দ্রে সাংবাদিকদের মোবাইল ফোন বহনের বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিলাম। তবে মোবাইল এখন সাংবাদিকদের জীবনের অংশ হয়ে গেছে—এটি বিবেচনায় নিয়ে সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা হয়েছে।”
তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন একটি উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজন করতে চায় এবং এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।











