February 10, 2026

শিরোনাম
  • Home
  • জাতীয়
  • স্বল্প সময়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে যুগান্তকারী অগ্রগতি: উপদেষ্টা ফরিদা আখতার

স্বল্প সময়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে যুগান্তকারী অগ্রগতি: উপদেষ্টা ফরিদা আখতার

Image

নিজস্ব প্রতিবেদক:

অন্তর্বর্তী সরকারের স্বল্প সময়ের মধ্যেই মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে টেকসই উৎপাদন বৃদ্ধি, প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং প্রান্তিক খামারি ও জেলেদের স্বার্থরক্ষায় যুগান্তকারী অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার।

আজ মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) সকালে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে গৃহীত কার্যক্রম ও অর্জন তুলে ধরতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

উপদেষ্টা ফরিদা আখতার জানান, উৎপাদন ব্যয় কমাতে খামারিদের জন্য বিদ্যুৎ বিলে ২০ শতাংশ রিবেট এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে ১০০ কোটি টাকা ভর্তুকি প্রদানের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় ভিজিএফ সুবিধাপ্রাপ্ত নিবন্ধিত জেলেদের সংখ্যা ১৩ লাখ ২৬ হাজার ৪৮৬ জন থেকে বাড়িয়ে ১৫ লাখে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রথমবারের মতো সুন্দরবন ও হাওর এলাকার জেলেরা নিষেধাজ্ঞার সময় ভিজিএফ সুবিধার আওতায় আসছেন।

তিনি বলেন, ইলিশ সম্পদ সংরক্ষণে পদ্মা-মেঘনা অববাহিকায় ৬টি অভয়াশ্রম এবং বঙ্গোপসাগরে ৭ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা প্রজনন ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিলুপ্তপ্রায় দেশীয় মাছ সংরক্ষণে সারাদেশে ৬৬৯টি অভয়াশ্রম পরিচালিত হচ্ছে। এছাড়া হালদা নদীকে ‘মৎস্য হেরিটেজ’ ঘোষণা করা হয়েছে, যার ফলে নদীটি জাতীয় অর্থনীতিতে বছরে ৮০০ কোটি টাকার বেশি অবদান রাখছে। তবে কাপ্তাই হ্রদের সাতটি অভয়াশ্রমে মাছ উৎপাদন বাড়লেও অবৈধ দখল ও দূষণের কারণে লেকটি ঝুঁকির মুখে রয়েছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।

প্রাণিসম্পদ খাতে রোগ নিয়ন্ত্রণে সরকারের অগ্রগতির কথা তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, গবাদিপশুর পিপিআর নির্মূলে ৩ কোটি ৬১ লাখের বেশি এবং ক্ষুরারোগ নিয়ন্ত্রণে প্রায় ৪৬ লাখ ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া হাঁস-মুরগি ও গবাদিপশুর ১৭টি রোগের বিরুদ্ধে দেশে প্রায় ৫৭ কোটি ডোজ টিকা উৎপাদন করা হয়েছে।

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (AMR) প্রতিরোধে স্টুয়ার্ডশিপ গাইডলাইন ও স্ট্যান্ডার্ড ট্রিটমেন্ট গাইডলাইন চালু করা হয়েছে। একই সঙ্গে ‘জুনোটিক’ রোগ শনাক্তে একটি বিশেষায়িত ভেটেরিনারি পাবলিক হেলথ ল্যাবরেটরি স্থাপন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

আসন্ন রমজান মাসে সাধারণ মানুষের স্বস্তি নিশ্চিত করতে ২৬ দিনব্যাপী ভ্রাম্যমাণ বিক্রয়কেন্দ্রের মাধ্যমে সুলভ মূল্যে পণ্য বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে ড্রেসড ব্রয়লার প্রতি কেজি ২৪৫ টাকা, গরুর মাংস ৬৫০ টাকা, দুধ প্রতি লিটার ৮০ টাকা এবং ডিম প্রতি পিস ৮ টাকা দরে বিক্রি করা হবে। পর্যায়ক্রমে এসব বিক্রয়কেন্দ্রের সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও মন্ত্রণালয়ের সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করে উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেন, ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত কপ-৩০ (COP-30) সম্মেলনে প্রথমবারের মতো মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় অংশগ্রহণ করেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে যে তীব্র ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলায় সমন্বিত বৈশ্বিক ও জাতীয় উদ্যোগ প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, এতদিন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতকে ‘কৃষির উপখাত’ হিসেবে বিবেচনা করায় এটি বহু সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। তাই খাতটিকে ‘পূর্ণাঙ্গ খাত’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য প্রধান উপদেষ্টা ও পরিকল্পনা কমিশনে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

Scroll to Top