March 26, 2026

শিরোনাম
  • Home
  • রাজনীতি
  • আমরা দায়িত্ব পেলে দেশের প্রতিটি ইঞ্চিতে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করবো: জামায়াত আমীর ডা. শফিকুর রহমান

আমরা দায়িত্ব পেলে দেশের প্রতিটি ইঞ্চিতে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করবো: জামায়াত আমীর ডা. শফিকুর রহমান

Image

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দায়িত্ব পেলে পাঁচ বছরের মধ্যেই দেশের চেহারা পাল্টে যাবে। ৫৬ হাজার বর্গমাইলের বাংলাদেশে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করা হবে এবং দেশের প্রতিটি ইঞ্চি ভূমির সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে। তরুণ প্রজন্ম ও মা-বোনদের স্বপ্নের নতুন বাংলাদেশ পাঁচ বছরেই দৃশ্যমান হবে ইনশাআল্লাহ।

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) বিকেলে সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে সিলেট জেলা ও মহানগর জামায়াত আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের টাকা যারা চুরি করেছে, তারা দেশেই থাকুক বা বিদেশে—তাদের শান্তিতে থাকতে দেওয়া হবে না। চুরি করা টাকা উদ্ধার করে আনা হবে। তবে কেউ স্বেচ্ছায় টাকা ফেরত দিলে তা বিবেচনায় নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, সিলেট দেশের আধ্যাত্মিক রাজধানী। হযরত শাহজালাল (র.) জুলুমতন্ত্রের বিরুদ্ধে লড়াই করতে এসেছিলেন। আমরা তাঁরই উত্তরসূরি। গত ৫৪ বছর ধরে বাংলাদেশে জুলুমের রাজনীতি চলছে এবং সবচেয়ে বেশি জুলুমের শিকার হয়েছে জামায়াতে ইসলামী। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর জামায়াত কোনো প্রতিশোধের রাজনীতিতে যায়নি। মামলা-বাণিজ্যও করেনি। ব্যক্তিগতভাবে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হলে আইনের আশ্রয় নেওয়ার সুযোগ থাকবে।

জনসভা সম্পর্কে তিনি বলেন, বেলা আড়াইটায় আনুষ্ঠানিকভাবে জনসভার কার্যক্রম শুরু হলেও দুপুর থেকেই খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা মাঠে আসতে থাকেন। বিকেল ৩টার আগেই আলিয়া মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। আশপাশের সড়কেও বিপুল মানুষের উপস্থিতি দেখা যায়। এই জনসভায় প্রথমবারের মতো বিপুলসংখ্যক নারী অংশ নেন। তাদের জন্য আলাদা বসার ব্যবস্থা করা হয়। মঞ্চে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহত জুলাই যোদ্ধারাও উপস্থিত ছিলেন।

সিলেটের উন্নয়ন প্রসঙ্গে জামায়াত আমীর বলেন, খনিজ সম্পদে ভরপুর হলেও সিলেটবাসী তাদের ন্যায্য হিস্যা পায়নি। এখনও সব এলাকায় গ্যাস ও বিদ্যুৎ পৌঁছায়নি। নদীগুলো ধ্বংস করা হয়েছে। মদ, গাঁজা ও জুয়ার বিস্তার ঘটেছে। আমরা দায়িত্ব পেলে এসব বন্ধ করবো। কেবল নদী খনন নয়, নদীবান্ধব বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে। চাঁদাবাজি ও ঘুষের সংস্কৃতি সম্পূর্ণ বন্ধ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, সিলেট একটি প্রবাসী-অধ্যুষিত অঞ্চল হলেও এখানকার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কেবল নামেই আন্তর্জাতিক। পর্যাপ্ত আন্তর্জাতিক ফ্লাইট নেই। আমরা নামে নয়, কাজে সিলেট বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক রূপ দেবো। সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়কে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করা হবে। ঢাকা–সিলেট ছয় লেন মহাসড়কের ঝুলে থাকা কাজ দ্রুত শেষ করা হবে এবং ঢাকা–সিলেট রেলপথকে ডুয়েল গেজে রূপান্তর করে বুলেট ট্রেন চালু করা হবে।

কৃষি ও শ্রমজীবীদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কৃষকদের হাতে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম তুলে দেওয়া হবে, কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা হবে। জেলেদের হাতে জাল দেওয়া হবে—জাল যার, জলা তার। চা-বাগানের শ্রমিকদের সন্তানদের দায়িত্ব রাষ্ট্র নেবে।

নিজের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট নিয়ে বিতর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একদল মা-বোনদের সম্মান দিতে জানে না। আমার অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে অপমানজনক পোস্ট দেওয়া হয়েছিল। চোর ধরা পড়েছে, তবুও তারা চোরের পক্ষ নিচ্ছে। আমি তাদের ক্ষমা করে দিয়েছি।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “রাজার ছেলে রাজা হবে”—এই সংস্কৃতি আমরা বদলাতে চাই। যোগ্যতা থাকলে চা-শ্রমিকের সন্তানও যোগ্য স্থানে পৌঁছাতে পারবে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ন্যায্য বেতন-ভাতা নিশ্চিত করা হবে। এরপরও কেউ ঘুষ নিলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বক্তব্যের শেষাংশে তিনি বলেন, আমি এই সিলেটের সন্তান। আজ জামায়াতের আমীর হিসেবে নয়, আপনাদের একজন হিসেবে দাঁড়িয়েছি। আমাদের একবার সুযোগ দিন। আমরা দেশের মালিক হবো না, আপনাদের চৌকিদার হবো। তিনি দেশ সঠিক পথে পরিচালনার জন্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

জনসভা শেষে জামায়াত আমীর সিলেটের ৬টি ও সুনামগঞ্জের ৩টি আসনের জামায়াত ও জোট প্রার্থীদের হাতে দলীয় প্রতীক তুলে দিয়ে তাদের বিজয়ী করার আহ্বান জানান। জনসভায় জামায়াতের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দসহ ১১ দলীয় জোটের বিভিন্ন নেতাও বক্তব্য দেন।

Scroll to Top