February 1, 2026

শিরোনাম
  • Home
  • রাজনীতি
  • আমরা আর কোনো ফ্যাসিবাদ দেখতে চাই না, দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে চাই: ডা. শফিকুর রহমান

আমরা আর কোনো ফ্যাসিবাদ দেখতে চাই না, দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে চাই: ডা. শফিকুর রহমান

Image

ডেস্ক রিপোর্টঃ

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশের মানুষ একটি বাস্তব ও ইতিবাচক পরিবর্তন দেখতে চায়। আগামী ১২ তারিখের পর ১৩ তারিখ থেকে যে পরিবর্তন আসবে, তা মানুষের সেই পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষার ওপর ভর করেই আসবে। আমরা আর কোনো আধিপত্যবাদ বা ফ্যাসিবাদ দেখতে চাই না। আমরা একটি মানবিক, ন্যায়ভিত্তিক ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে চাই।

শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টায় কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম পাইলট হাইস্কুল মাঠে ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা আর কোনো দুর্নীতিগ্রস্ত সরকার দেখতে চাই না। ১১-দলীয় জোট জনগণের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে বাংলাদেশ পরিচালনা করবে ইনশাআল্লাহ।”

চৌদ্দগ্রামের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “এই এলাকার প্রতি ইঞ্চি মাটি আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহেরকে চেনে। তাই তাঁকে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার কিছু নেই। আপনারা যদি সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহেরকে নির্বাচিত করেন, তাহলে কুমিল্লা থেকে একজন সিনিয়র মন্ত্রী পাবেন। এখন সিদ্ধান্ত আপনাদের।”

তিনি বলেন, “আমরা জামায়াতে ইসলামীর বিজয় চাই না; আমরা ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চাই। চৌদ্দগ্রামে ১১ দলের প্রতীক দাঁড়িপাল্লা। যেখানে যে প্রতীক থাকবে, আমরা সবাই সেই প্রতীকের সঙ্গেই থাকবো।”

নারীদের নিরাপত্তা ও সম্মান প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, “যারা মায়েদের ইজ্জতে হাত দেয়, তাদের হাতে কি দেশের মা-বোনেরা নিরাপদ? সাধারণ পোশাক পরা নারীরাও আজ জামায়াতকে ক্ষমতায় দেখতে চাচ্ছে। নারীদের সম্মান করতে শিখুন।”

তিনি আরও বলেন, “জুলাইয়ের ছেলেরা এখনো ঘুমিয়ে পড়েনি। ভিন্নমতের প্রতি সম্মান দেখান, আদর্শ নিয়ে মানুষের কাছে যান। জনগণই শেষ বিচারের মালিক।”

দুর্নীতির বিষয়ে তিনি বলেন, “চাঁদাবাজিসহ সব ধরনের দুর্নীতির মূলোৎপাটন করতে চাই। এতে সৎ মানুষের ভয় পাওয়ার কিছু নেই।”

কওমি মাদ্রাসা নিয়ে গুজব প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “কওমি মাদ্রাসা বন্ধের গুজব সম্পূর্ণ মিথ্যা। দ্বীনি শিক্ষার ধারক কওমি মাদ্রাসা। আমরা কেন তা বন্ধ করবো? সরকার গঠনের সুযোগ পেলে বেফাকসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

যুব সমাজ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “জুলাইয়ে যারা জীবন দিয়েছেন, আমরা তাদের গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করি। এই তরুণরা ভাতা নয়, কর্মসংস্থান চায়। আমরা দেশটিকে যুবকদের হাতে তুলে দিতে চাই। আমাদের প্রার্থীদের ৬২ শতাংশই তরুণ—এটাই হবে তরুণ্যের বাংলাদেশ।”

ঐক্যের সরকার গঠনের অঙ্গীকার করে তিনি বলেন, “ইনশাআল্লাহ ঐক্যের সরকার গঠিত হবে। যারা আমাদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, তাদেরও আহ্বান জানাই—এই তিন শর্ত মানলে আমরা সবাইকে বুকে জড়িয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়তে চাই।”

শর্তগুলো হলো—

১) দুর্নীতি না করা এবং দুর্নীতিকে প্রশ্রয় না দেওয়া,

২) সবার জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা,

৩) জুলাই সংস্কারের সব প্রস্তাব বাস্তবায়ন।

ধর্মীয় সহাবস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এই দেশে শুধু মুসলমান নয়, অন্য ধর্মের মানুষও বসবাস করে। সবাই পূর্ণ ধর্মীয় স্বাধীনতা ভোগ করবে। রাষ্ট্র পরিচালনায় ধর্ম নয়, যোগ্যতা ও দেশপ্রেমই বিবেচ্য হবে।”

শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে একটি ভালো জাতি গড়া সম্ভব নয়। বেটার এডুকেশন মানেই বেটার নেশন। এখানে বড় ধরনের সংস্কার প্রয়োজন।”

Scroll to Top