ডিপ্লোম্যাটিক ডেস্কঃ
দীর্ঘ ১৪ বছর পর বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে সরাসরি বিমান চলাচল পুনরায় শুরু হলো। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের উদ্বোধনী ফ্লাইটের মাধ্যমে ঢাকা–করাচি সরাসরি রুটে ফ্লাইট পরিচালনা শুরু হয়, যা দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে করাচির জিন্নাহ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া উদ্বোধনী ফ্লাইটটি ছিল যাত্রীতে পূর্ণ। এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ফ্লাইটটি বিদায় জানান বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপদেষ্টা এইচ. ই. স্ক. বশির উদ্দিন, বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার মি. ইমরান হায়দার, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইওসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন উপদেষ্টা বলেন, ঢাকা–করাচি রুট চালু হওয়ায় দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি পাবে, পর্যটন সম্প্রসারিত হবে এবং জনগণের মধ্যে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে। তিনি জানান, পর্যায়ক্রমে এই রুটে ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ানো হবে এবং ভাড়া কমিয়ে সাধারণ মানুষের জন্য ভ্রমণ আরও সহজ ও সাশ্রয়ী করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, বাংলাদেশের মানুষ পাকিস্তানের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বৈচিত্র্যময় খাবার উপভোগ করতে দেশটি ভ্রমণ করবেন।

পাকিস্তানের হাইকমিশনার মি. ইমরান হায়দার তাঁর বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং পাকিস্তানের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ শাহবাজ শরিফের দূরদর্শী নেতৃত্বে দুই দেশের মধ্যে সংযোগ জোরদারের যে অভিন্ন লক্ষ্য নির্ধারিত হয়েছে, এই সরাসরি ফ্লাইট তারই বাস্তব প্রতিফলন। তিনি উল্লেখ করেন, গত বছরের আগস্টে পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিনেটর মুহাম্মদ ইসহাক দারের ঢাকা সফরের সময় উভয় দেশ সরাসরি ফ্লাইট পুনরায় চালুর বিষয়ে সম্মত হয়। আজ সেই সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন দুই দেশের যুবসমাজ, শিক্ষা, সংস্কৃতি, ব্যবসা, পারিবারিক ও জনগণ-থেকে-জনগণের সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে বাংলাদেশ সরকার, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।











