January 29, 2026

শিরোনাম
  • Home
  • আন্তর্জাতিক
  • ইতিহাস, সংস্কৃতি ও মানবিক বন্ধনে বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে: ড. ফাওজুল কবির খান

ইতিহাস, সংস্কৃতি ও মানবিক বন্ধনে বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে: ড. ফাওজুল কবির খান

Image

ডিপ্লেমেটিক ডেস্কঃ

ভারতের ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে ঢাকাস্থ ইন্ডিয়ান হাইকমিশন রাজধানীর হোটেল রেডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেনে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে আগত আমন্ত্রিত অতিথিদের স্বাগত জানান বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা ও তাঁর সহধর্মিণী মিসেস ভানু ভার্মা।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ; সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান। এছাড়াও অনুষ্ঠানে কূটনৈতিক, সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন পর্যায়ের বিশিষ্ট ব্যক্তি, ব্যবসায়ী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেন, ভারতের ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবস উদযাপন আমাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। তিনি উপস্থিত সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান এবং বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ঐতিহাসিক ভিত্তির কথা তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতের জনগণের অবদান বাংলাদেশের জনগণ কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করে। ভৌগোলিক নৈকট্য, অভিন্ন ইতিহাস ও অভিন্ন আকাঙ্ক্ষার ওপর ভিত্তি করেই দুই দেশের সম্পর্ক গড়ে উঠেছে।

ড. ফাওজুল কবির খান আরও বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক বহুমাত্রিক এবং উভয় দেশই জনগণের কল্যাণ ও উন্নয়নের স্বার্থে এই অংশীদারিত্ব আরও জোরদারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পারস্পরিক আস্থা ও সম্মানের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে এ সম্পর্ক আরও গভীর হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, কিছু চ্যালেঞ্জ থাকলেও অতীতে উভয় দেশ সেগুলো সফলভাবে মোকাবিলা করেছে এবং ভবিষ্যতেও সম্মিলিত প্রচেষ্টায় তা অতিক্রম করা সম্ভব।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা বলেন, ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবস উদযাপনের এই বিশেষ আয়োজনে সবাইকে স্বাগত জানাতে পেরে তিনি আনন্দিত। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ১৯৫০ সালের ২৬ জানুয়ারি ভারত তার সংবিধান গ্রহণের মাধ্যমে একটি সার্বভৌম প্রজাতন্ত্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে এবং ন্যায়বিচার, স্বাধীনতা, সমতা ও শিক্ষার আদর্শে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়।

হাইকমিশনার বলেন, গত ৭৬ বছরে ভারত একটি দরিদ্র দেশ থেকে বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র ও অন্যতম বৃহৎ অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে। এই যাত্রায় বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ সহযাত্রী। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময়কার ত্যাগ ও আত্মত্যাগ দুই দেশের সম্পর্ককে বিশেষ উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

তিনি আরও বলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, সংগীত, শিল্প ও সংস্কৃতি দুই দেশের জনগণের মধ্যে গভীর সাংস্কৃতিক বন্ধন সৃষ্টি করেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সংযোগ, বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও বিস্তৃত হয়েছে, যা জনগণ ও ব্যবসায়িক সম্পর্ককে ঘনিষ্ঠ করেছে।

প্রণয় ভার্মা সীমান্তপাড়ি জ্বালানি সহযোগিতা, বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন, জ্বালানি পাইপলাইন, ফার্মাসিউটিক্যাল ও ডিজিটাল সেবাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতার উদাহরণ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে উদ্ভাবন, প্রযুক্তি ও টেকসই উন্নয়নের ভিত্তিতে দুই দেশ আরও শক্তিশালী অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে সক্ষম।

বক্তব্যের শেষে তিনি বাংলাদেশের জনগণের শান্তি, সমৃদ্ধি ও সাফল্য কামনা করেন এবং একটি গণতান্ত্রিক, স্থিতিশীল, শান্তিপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের পাশে ভারতের অব্যাহত সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

Scroll to Top