January 29, 2026

শিরোনাম
  • Home
  • রাজনীতি
  • জামায়াত সরকার গঠনের সুযোগ পেলে প্রতি জেলায় সরকারি মেডিকেল কলেজ স্থাপন করা হবে: ডা. শফিকুর রহমান

জামায়াত সরকার গঠনের সুযোগ পেলে প্রতি জেলায় সরকারি মেডিকেল কলেজ স্থাপন করা হবে: ডা. শফিকুর রহমান

Image

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সরকার গঠনের সুযোগ পেলে দেশের প্রতিটি জেলায় একটি করে সরকারি মেডিকেল কলেজ স্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন দলটির আমীর ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, “আল্লাহর মেহেরবানিতে আমরা যদি সরকার গঠন করতে পারি, তবে কোনো ধরনের বৈষম্য করা হবে না। আল্লাহকে ভয় করে দেশ পরিচালনা করা হবে।”

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বিকেলে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের বড় মাঠে অনুষ্ঠিত ১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জনসভায় সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঠাকুরগাঁও জেলা আমীর বেলাল উদ্দিন প্রধান।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, উত্তরবঙ্গকে বাংলাদেশের শস্যভাণ্ডার বলা হয়। দেশের মোট খাদ্য উৎপাদনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এ অঞ্চলেই উৎপাদিত হলেও দুর্নীতি ও দুঃশাসনের কারণে এখানকার মানুষ যুগের পর যুগ বৈষম্যের শিকার হয়েছে। ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে কৃষকদের। সঠিক পরিকল্পনা ও ইনসাফভিত্তিক শাসন থাকলে উত্তরবঙ্গ আজ বাংলাদেশের কৃষির রাজধানীতে পরিণত হতো।

তিনি বলেন, কৃষকদের যদি সহজ শর্তে এবং বিনা সুদে ঋণ দেওয়া হতো, তাহলে তিনগুণ ফসল উৎপাদন সম্ভব ছিল। ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা থাকলে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পেত এবং মধ্যস্বত্বভোগীরা তাদের ফসল লুটে নিতে পারত না। কৃষিপণ্যের অপচয় রোধে দেশের বিভিন্ন স্থানে আধুনিক সংরক্ষণাগার নির্মাণ করা হবে।

ঠাকুরগাঁওবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে জামায়াত আমীর বলেন, “এবার শুধু একটি দলকে নয়, মুক্তিকামী মানুষের ১০ দলীয় ঐক্যের ঠিকানাকে ভোট দিন। আমরা একা বাংলাদেশ গড়তে পারব না। ঐক্যবদ্ধ জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেই ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গড়ে তুলতে হবে।”

তিনি বলেন, আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়তে হলে তিনটি শর্ত মানতে হবে—
এক. কেউ দুর্নীতি করতে পারবে না এবং দুর্নীতিবাজদের আশ্রয় দেওয়া যাবে না।
দুই. গরিব-ধনী, নারী-পুরুষ, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার জন্য ন্যায়ের ভিত্তিতে বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
তিন. বিচার বিভাগে কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ করা যাবে না; বিচার বিভাগ সম্পূর্ণ স্বাধীন থাকবে।

ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, “৫৪ বছরের পচাগলা রাজনীতি ও বৈষম্য পরিবর্তন করতে হলে সকল ধরনের গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বলতে হবে।” তিনি বলেন, যারা চাঁদাবাজদের সমর্থন করে না, নিজেরাও চাঁদাবাজিতে জড়িত নয় এবং চাঁদাবাজদের রুখে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ—তাদেরই জনগণকে নির্বাচিত করতে হবে।

দেশবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, সরকার গঠনের সুযোগ পেলে উত্তরবঙ্গকে গৌরবের কৃষির রাজধানীতে রূপান্তর করা হবে। সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা হবে, যাতে শিল্পের বিকাশ ঘটে এবং কৃষিভিত্তিক পণ্য বিশ্ববাজারে পৌঁছাতে পারে। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটানো হবে এবং যুবকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রতিটি ঘরকে একটি করে ইন্ডাস্ট্রিতে রূপান্তর করা হবে।

তিনি বলেন, চাকরিতে প্রবেশের আগে শিক্ষার্থীদের দক্ষ করে তুলতে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা ব্যয় করা হবে। “আমরা বেকারভাতা দিতে চাই না, কাজ দিতে চাই। বেকারভাতা অপমানজনক—আমরা সম্মানের চাবি তুলে দিতে চাই,” বলেন তিনি।

জনসভায় আমীরে জামায়াত ঠাকুরগাঁওয়ের তিনটি সংসদীয় আসনে ১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন। তারা হলেন—ঠাকুরগাঁও-১ আসনে মো. দেলোয়ার হোসেন, ঠাকুরগাঁও-২ আসনে মাওলানা আব্দুল হাকিম এবং ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে মাস্টার মিজানুর রহমান। এ সময় তাদের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দেওয়া হয়।

জনসভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মাওলানা আবদুল হালিম, এনসিপির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) ও পঞ্চগড়-১ আসনের এমপি প্রার্থী সারজিস আলম, জাগপার সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধানসহ ১০ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন শরিক দলের নেতৃবৃন্দ।

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা বলেন, দুর্নীতিবাজ ও চাঁদাবাজদের কারণে দেশের উন্নয়ন বারবার বাধাগ্রস্ত হয়েছে। বিভিন্ন ঘটনায় জনগণ ন্যায়বিচার পায়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারিকে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

জনসভায় আরও বক্তব্য দেন এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক গোলাম মর্তুজা, জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট হেলাল উদ্দিন, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় পাঠাগার সম্পাদক সোহেল রানা, রাকসু ভিপি মোস্তাকুর রহমান (জাহিদ), সনাতন ধর্মাবলম্বী নেতা যতীশ বাবু, এনসিপি ঠাকুরগাঁও জেলা আহ্বায়ক রকিবুল আলম এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের জেলা সভাপতি সাঈদ আহমেদ সাইফী।

Scroll to Top