January 29, 2026

শিরোনাম
  • Home
  • অর্থ ও বাণিজ্য
  • ১ ফেব্রুয়ারি থেকে সব টেক্সটাইল মিল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধের ঘোষণা বিটিএমএর

১ ফেব্রুয়ারি থেকে সব টেক্সটাইল মিল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধের ঘোষণা বিটিএমএর

Image

বিজনেস ডেস্কঃ

দেশের সুতা উৎপাদনকারী মিলগুলোকে রক্ষায় সরকারের ‘কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায়’ আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সব টেক্সটাইল মিল বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ)।

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বিটিএমএ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল এই ঘোষণা দেন। এ সময় সংগঠনের জ্যেষ্ঠ নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে বিটিএমএ সভাপতি বলেন, ‘আগামী ১ তারিখ থেকেই ফ্যাক্টরি বন্ধ। আমরা বন্ধ তো করবই, ব্যাংকের টাকা ফেরত দেওয়ার সক্ষমতা নেই।’

দেশীয় টেক্সটাইল শিল্পকে সুরক্ষা প্রদান এবং স্পিনিং খাতের অস্তিত্ব রক্ষায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক গৃহীত সিদ্ধান্ত অনতিবিলম্বে বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস এসোসিয়েশন (বিটিএমএ)।

সংবাদ সম্মেলনে বিটিএমএ’র প্রেসিডেন্ট শওকত আজিজ রাসেল বলেন, দেশের প্রাইমারি টেক্সটাইল সেক্টর দীর্ঘদিন ধরে বহুমুখী সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বন্ড সুবিধার মারাত্মক অপব্যবহার, গ্যাস ও বিদ্যুতের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধি, ব্যাংক সুদের হার ১৬ শতাংশে উন্নীত হওয়া, রপ্তানিতে নগদ প্রণোদনা হ্রাস এবং টাকার অবমূল্যায়নের ফলে ওয়ার্কিং ক্যাপিটালের সংকট—সব মিলিয়ে শিল্পটি আজ অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে।

তিনি জানান, এসব বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা শেষে বাংলাদেশ কাস্টমস ট্যারিফের HS Heading 52.05, 52.06 ও 52.07-এর আওতাভুক্ত ১০–৩০ কাউন্টের কটন সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহারের সুপারিশ করে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সেই সুপারিশ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) পাঠালেও এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

বিটিএমএ প্রেসিডেন্ট বলেন, বর্তমানে প্রতিবেশী দেশসহ বিভিন্ন দেশ থেকে বন্ড সুবিধার অপব্যবহারের মাধ্যমে শুল্কমুক্ত সুতা আমদানি করা হচ্ছে। ফলে দেশীয় মিলগুলো চরম ক্ষতির মুখে পড়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৬০টি স্পিনিং মিল বন্ধ হয়ে গেছে, আর যেগুলো চালু আছে সেগুলোও গড়ে ৫০ শতাংশ সক্ষমতায় চলছে। বর্তমানে প্রায় ১২ হাজার ৫০০ কোটি টাকার সুতা অবিক্রিত অবস্থায় পড়ে আছে।

তিনি আরও বলেন, বিটিএমএ দেশের প্রাইমারি টেক্সটাইল খাতের সর্ববৃহৎ সংগঠন। এর ১,৮৬৯টি সদস্য মিল রয়েছে, যেখানে স্পিনিং, উইভিং এবং ডাইং-প্রিন্টিং-ফিনিশিং মিল অন্তর্ভুক্ত। এ খাতে বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ২৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বেসরকারি খাতে একক বৃহত্তম বিনিয়োগ। দেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮৫ শতাংশ আসে টেক্সটাইল ও অ্যাপারেল খাত থেকে, যার প্রায় ৭০ শতাংশ যোগান দেয় বিটিএমএ সদস্য মিলগুলো।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি তৈরি পোশাক খাতের কিছু উদ্যোক্তার সাম্প্রতিক বক্তব্যকে “ভ্রান্ত ও বিভ্রান্তিকর” উল্লেখ করে বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সুপারিশে কোনো নতুন শুল্ক আরোপ বা সেফগার্ড ডিউটির প্রস্তাব নেই। শুধুমাত্র যেসব সুতা দেশীয়ভাবে শতভাগ উৎপাদন সম্ভব, সেগুলোকে বন্ড সুবিধার বাইরে রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, এই সংকট অব্যাহত থাকলে ব্যাংকিং খাত মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বে, খেলাপি ঋণ বাড়বে এবং প্রাইমারি টেক্সটাইল সেক্টরে সরাসরি কর্মরত প্রায় ২৫ লাখ শ্রমিকসহ পরোক্ষভাবে নির্ভরশীল প্রায় ১ কোটি মানুষের জীবিকা হুমকির মুখে পড়বে।

বিটিএমএ প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, আসন্ন এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী সময়ে রপ্তানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা ধরে রাখতে হলে ৪০–৫০ শতাংশ স্থানীয় মূল্য সংযোজন নিশ্চিত করতে হবে। দেশীয় স্পিনিং শিল্প দুর্বল হলে ভবিষ্যতে গার্মেন্টস খাত পুরোপুরি আমদানিনির্ভর হয়ে পড়বে, যা রপ্তানি প্রতিযোগিতা, লিড টাইম এবং বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হবে।

সংবাদ সম্মেলন থেকে তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকদের প্রতি আহ্বান জানান—দেশীয় শিল্প, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান রক্ষার স্বার্থে ১০–৩০ কাউন্টের কটন সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাস্তবায়ন করার জন্য।

Scroll to Top