January 29, 2026

শিরোনাম
  • Home
  • অর্থ ও বাণিজ্য
  • সরকারের নীতিগত সহায়তা পেলে এক্সেসরিজ ও প্যাকেজিং খাত দেশের অর্থনীতিতে নতুন দিগন্ত খুলবে: বিজিএপিএমইএ সভাপতি মো. শাহরিয়ার

সরকারের নীতিগত সহায়তা পেলে এক্সেসরিজ ও প্যাকেজিং খাত দেশের অর্থনীতিতে নতুন দিগন্ত খুলবে: বিজিএপিএমইএ সভাপতি মো. শাহরিয়ার

Image

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

শনিবার (১৭ জানুয়ারি, ২০২৬) রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরা (আইসিসিবি) এর হল-২ এ বিকেল ৩:০০ টায় ১৫তম গার্মেন্টস এক্সেসরিজ ও প্যাকেজিং এক্সপোজিশন ‘গ্যাপেক্সপো’-২০২৬’ এর অ্যাওয়ার্ড সিরিমনি ও সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। বিজিএপিএমইএ এর সভাপতি জনাব মো. শাহরিয়ার এর সভাপতিত্বে উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সরকারের প্রাক্তন বাণিজ্য ও “স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী এয়ার ভাইস মার্শাল (অবঃ) জনাব আলতাফ হোসেন চৌধুরী। বিশেন অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর পরিচালক জনাব আবু মোখলেছ আলমগীর হোসেন, বিটিএমএ এর সভাপতি জনাব শওকত আজিজ রাসেল এবং বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশন এর সভাপতি জনাব ফজলে শামিম এহসান।

চার দিনব্যাপী দেশের বৃহত্তম গামেন্টস এক্সেসরিজ ও প্যাকেজিংসহ এ সংশ্লিষ্ট মেশিনারিজ এর প্রদর্শনীটি যৌথভাবে আয়োজন করে বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যাকসেসরিজ অ্যান্ড প্যাকেজিং ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএপিএমইএ) এবং এএসকে ট্রেড অ্যান্ড এক্সিবিশনস প্রা. লি.। বুধবার আইসিসিবির হল-২-তে এ মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়।

সমাপনী অনুষ্ঠানে বিজিএপিএমইএর সভাপতি মো. শাহরিয়ার বলেন, “অর্থ পাচারকারী দুর্নীতিবাজরা ব্যবসায়ী নেজে ব্যাংক থেকে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে। প্রকৃত ব্যবসায়ীরা কখনো দেশের অর্থ লুট করতে পারে না।” সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে এই খাত তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাতকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল বলেন, “নিজেদের স্বয়ংসম্পূর্ণ করার কোনো বিকল্প নেই। আমরা এখন প্যাকেজিং ও এক্সেসরিজে অনেকাংশে স্বয়ংসম্পূর্ণ হলেও কিছু নীতিমালা আমাদের শিল্পকে ধংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, “ফ্রি অব কস্ট’ (এফওসি) আমদানির সুবিধা ১০০ শতাংশ করা হলে অধিকাংশ পণ্য বিদেশ থেকে আমদানি হবে, ফলে দেশীয় কারখানাগুলো টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে। স্বয়ংসম্পূর্ণতা বাড়াতে হলে বন্দরের অতিরিক্ত কর ও লেভি কমিয়ে ব্যবসায়ীদের সক্ষমতা বাড়াতে হবে।”

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাবেক বাণিজ্য ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী এবং সাবেক এয়ার ভাইস মার্শাল আলতাফ হোসেন চৌধুরী বলেন, “এই খাতের উদ্যম ও সক্ষমতা দেখে আমি আশাবাদী। গত অর্থবছরে প্যাকেজিং ও এক্সেসবিজ খাত থেকে ৭ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানি হয়েছে। সঠিক নীতিগত সহায়তা পেলে ভবিষ্যতে এই খাত পোশাক খাতকেও ছাড়িয়ে যেতে সক্ষম হবে।” তিনি বলেন, “ভবিষ্যতে সরকার গঠন করলে এই সেক্টরের সব সমস্যা সমাধানে ব্যবসায়ীদের পাশে থাকবে।”

বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের (বিইএফ) সভাপতি ফজলে শামীম এহসান বলেন, প্যাকেজিং ও এক্সেসরিজ খাতটি বাংলাদেশের অন্যতম ‘আন্ডাররেটেড’ হলেও এটি বর্তমানে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি খাত। “কাঁচামাল আমদানি করে মূল্য সংযোজনের মাধ্যমে পণ্য রপ্তানি করা আমাদের সক্ষমতারই প্রমাণ। তবে গত এক বছরে ব্যবসা-বাণিজ্য কঠিন সময় পার করেছে। সামনে অর্থনীতি ও বিনিয়োগ ত্বরান্বিত করতে একটি স্থিতিশীল ও আর্জাতিকভাবে আস্থাভাজন গণতান্ত্রিক সরকার প্রয়োজন,” যোগ করেন তিনি।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) পরিচালক আবু মোখলেছ আলমগীর হোসেন বলেন, এবারের মেলা গত বছরের তুলনায় প্রায় ৮০ শতাংশ বেশি সফল হয়েছে। “বিশ্ববাজারে ৭০০ বিলিয়ন ডলারের প্যাকেজিং মার্কেটে বাংলাদেশের অংশ বাড়াতে হলে শক্তিশালী পলিসি সাপোর্ট প্রয়োজন। ‘প্রোডাক্ট অব দ্য ইয়ার’ হিসেবে এই খাতের সমস্যাগুলো নিয়ে আমরা সেমিনার আয়োজন করব এবং এনবিআরের সঙ্গে আলোচনা করে বন্ডসহ অন্যান্য সুবিধা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেব,” বলেন তিনি।

রপ্তানি বাণিজ্য বহুমুখীকরণ ও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বিজিএপিএমইএ অন্যান্য বছরের মতো এবারও আয়োজন করে ১৫তম গ্যাপেক্সপো-২০২৬। এ বছর গ্যাপেক্সপোতে ১ হাজার ৫০০টি স্টলে বিজিএপিএমইএর সদস্যসহ দেশি-বিদেশি ৩৫০টি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। ভারত, চীন, পাকিস্তান, তাইওয়ান, অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি ও দুবাইসহ বিভিন্ন দেশের কোম্পানিগুলো মেলায় অংশগ্রহণ করে। মেলায় গার্মেন্টস অ্যাকসেসরিজ ও প্যাকেজিং শিল্পের আধুনিক মেশিনারি, কাঁচামাল এবং দেশীয়ভাবে উৎপাদিত পণ্য প্রদর্শন করা হয়। লক্ষাধিক দর্শনার্থীর উপস্থিতিতে মেলাটি ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যে কার্যকর সংযোগ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

সমাপনী দিনে মেলায় অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্য থেকে বেস্ট স্টল (জেনারেল) ক্যাটাগরীতে ১ম হয়েছে কসমো গ্রুপ, ফগ্যভাবে ২য় হয়েছে মাইক্রো ট্রিমস লি. এবং রাজন ট্রিমস লি. এবং যুগ্যভাবে ৩য় হয়েছে আর-প্যাক (বাংলাদেশ) লি. এবং জেশান গ্রুপ। অপরদিকে, বেস্ট স্টল (গ্রীণ কনসেপ্ট) ক্যাটাগরীতে ১ম হয়েছে কাজী প্রিন্টিং এন্ড এক্সেনবিজ লি., ২য় হয়েছে এক্সপো এক্সেসরিজ লি. এবং ৩য় হয়েছে ব্যাঙ্কর পাল্প এন্ড পেপার কর্পোরেশন। এছাড়াও বিজিএপিএমইএ ইনস্টিটিউট অব প্যাকেজিং এন্ড এক্সেসরিজ (বিপা)-তে ট্যাক্স, ভ্যাট ও আয়কর সংক্রান্ত ট্রেনিং কার্যক্রমে বাংলাদেশ ট্যাক্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (বিটিটিআই) এসোসিয়েট পার্টনার হিসেবে বিজিএপিএমইএ-কে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করার জন্য উক্ত প্রতিষ্ঠানের সিইও জনাব শ্যামল চন্দ্র সরকারকে সম্মানসূচক ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানের শেষে বিজিএপিএমইএ এর সহ-সভাপতি (অর্থ) জনাব মোজাহারুল হক শহীদ গ্যাপেক্সপো-২০২৬ মেলাকে সাফল্যমন্ডিত করার জন্য মেলা কমিটির চেয়ারম্যান, এসোসিয়েশনের সভাপতিসহ পরিচালনা পরিষদের সকল সদস্যবৃন্দ, প্রাক্তন সভাপতিবৃন্দসহ এসোসিয়েশনের সকল স্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ধন্যবাদ আপন করেন। এছাড়াও তিনি প্রিন্ট এবং ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সকল সাংবাদিক ভাই-বোনদেরও ধন্যবাদ জানান। কেননা প্রিন্ট এবং ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় গ্যাপেক্সপো-২০২৬নহ এর কনকারেন্ট ইভেন্ট গার্মেন্টটেক বাংলাদেশ-২০২৬ মেলা আয়োজন সংক্রান্ত সংবাদ প্রচারের মাধ্যমে মেলার দর্শনার্থী বাড়াতে সহযোগিতা করেছে। এছাড়াও তিনি বিভিন্ন ধরণের ৩০টি স্পন্সর কোম্পানি যার এ মেলায় স্পনসরের মাধ্যমে মেলাকে সাফল্যমন্ডি করেছে তাঁদেরকেও ধন্যবাদ জানান।

Scroll to Top