January 29, 2026

শিরোনাম
  • Home
  • অর্থ ও বাণিজ্য
  • সঠিক নীতি সহায়তা পেলে প্যাকেজিং শিল্প থেকে ৫০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি সম্ভব: আমীর খসরু

সঠিক নীতি সহায়তা পেলে প্যাকেজিং শিল্প থেকে ৫০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি সম্ভব: আমীর খসরু

Image

বিজনেস ডেস্কঃ

সঠিক নীতি সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশের প্যাকেজিং শিল্প থেকে ৫০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি অর্জন করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি, ২০২৬) রাজধানীর বসুন্ধরার আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি (আইসিসিবি)–তে অনুষ্ঠিত গার্মেন্ট টেকনোলজি বাংলাদেশ (জিটিবি) ২০২৬–এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত যদি ৫০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানির সক্ষমতা অর্জন করতে পারে, তাহলে যথাযথ নীতি সহায়তা ও প্রয়োজনীয় গুরুত্ব পেলে প্যাকেজিং শিল্পও একই লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবে।”

তিনি আরও বলেন, বিএনপি আগামী সরকার গঠন করতে পারলে প্যাকেজিং ও অ্যাকসেসরিজ খাতের টেকসই উন্নয়নে প্রয়োজনীয় নীতিগত সংস্কার, প্রণোদনা এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে।

চার দিনব্যাপী জিটিবি ২০২৬ যৌথভাবে আয়োজন করেছে এএসকে ট্রেড অ্যান্ড এক্সিবিশনস প্রাইভেট লিমিটেড এবং বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যাকসেসরিজ অ্যান্ড প্যাকেজিং ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএপিএমইএ)।

অনুষ্ঠানে আমীর খসরু বলেন, বৈশ্বিক প্যাকেজিং বাজার অত্যন্ত বৃহৎ হলেও বাংলাদেশে অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ, নীতিগত জটিলতা ও আমলাতান্ত্রিক প্রতিবন্ধকতার কারণে উদ্যোক্তারা নানাভাবে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন। “একই সঙ্গে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় গড়ে ওঠা গোষ্ঠীকেন্দ্রিক ব্যবসায়িক কাঠামো প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। আমরা সব ধরনের ব্যবসার জন্য সমান সুযোগ ও ন্যায্য প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে চাই,” বলেন তিনি।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান বৈশ্বিক বাজারে অনেক ক্ষেত্রে পণ্যের চেয়েও প্যাকেজিং ভোক্তাদের সিদ্ধান্তে বড় ভূমিকা রাখছে, যা এই খাতকে অত্যন্ত সম্ভাবনাময় করে তুলেছে।

তৈরি পোশাক ও সংশ্লিষ্ট খাতের টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য শ্রমনির্ভর উৎপাদনের বাইরে গিয়ে প্রযুক্তিনির্ভর, স্মার্ট ও পরিবেশবান্ধব উৎপাদন ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, দেশের অ্যাকসেসরিজ শিল্প স্থানীয় পোশাক কারখানার চাহিদা পূরণে সম্পূর্ণ সক্ষম। তিনি স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত অ্যাকসেসরিজ আমদানিতে নিরুৎসাহিত করতে সরকারের কার্যকর নীতিগত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।

বিজিএপিএমইএ সভাপতি মো. শাহরিয়ার বলেন, নীতিগত সহায়তা ও রপ্তানি প্রণোদনার অভাবে বাংলাদেশ প্রায় ৭০০ বিলিয়ন ডলারের বৈশ্বিক প্যাকেজিং বাজারের বড় অংশ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বর্তমানে খাতটির সরাসরি রপ্তানি প্রায় ১.৬ বিলিয়ন ডলার এবং প্রচ্ছন্ন (ডিমড) রপ্তানি ৭.৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি হলেও নীতিগত প্রতিবন্ধকতার কারণে কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হচ্ছে না।

তিনি বলেন, চীন, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশগুলো যেখানে প্যাকেজিং রপ্তানিতে ৪ থেকে ১৭ শতাংশ পর্যন্ত নগদ প্রণোদনা দেয়, সেখানে বাংলাদেশে সরাসরি রপ্তানিতে এখনো কোনো নগদ প্রণোদনা নেই, যা আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় খাতটিকে পিছিয়ে দিচ্ছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান, বিজিএমইএর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সেলিম রহমান এবং বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি)–এর চেয়ারম্যান আবদুল হাই সরকার।

জিটিবি ২০২৬–এ আধুনিক গার্মেন্টস যন্ত্রপাতি, অ্যাকসেসরিজ, প্যাকেজিং সল্যুশন, সুতা ও কাপড় প্রদর্শন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে অনুষ্ঠিত হচ্ছে গ্যাপএক্সপো ২০২৬ এবং বাংলাদেশ ইয়ার্ন ফ্যাব্রিকস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ ২০২৬।

এবারের প্রদর্শনীতে ১৫টিরও বেশি দেশের ৪৫০টির বেশি ব্র্যান্ড অংশ নিয়েছে, যেখানে রয়েছে প্রায় ১,৫০০টি স্টল—যা বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় গার্মেন্ট প্রযুক্তি প্রদর্শনী হিসেবে বিবেচিত।

এএসকে ট্রেড অ্যান্ড এক্সিবিশনস প্রাইভেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক টিপু সুলতান ভূঁইয়া বলেন, “প্রযুক্তিগত রূপান্তর এখন আর ঐচ্ছিক নয়। জিটিবি উদ্যোক্তাদের জন্য বৈশ্বিক উদ্ভাবন ও আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার একটি অনন্য প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে।”

প্রদর্শনীটি প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত চলবে এবং শেষ হবে ১৭ জানুয়ারি।

Scroll to Top