দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও রপ্তানি খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে পূর্বাচলের স্থায়ী ভেন্যু বাংলাদেশ–চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে আজ উদ্বোধন হয়েছে ৩০তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা।


উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার ৩০তম সংস্করণ দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। তিনি বলেন, “এই মেলা শুধু পণ্যের প্রদর্শনী নয়; এটি বাংলাদেশের নতুন উদ্যোগ, উদ্ভাবন ও বাণিজ্যিক অগ্রগতির প্রতিফলন।”

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে বৈশ্বিক বাণিজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। রপ্তানি পণ্যের উন্নয়ন ও বহুমুখীকরণ, নতুন আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ, অর্থনৈতিক কূটনীতি জোরদার এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণের মাধ্যমে টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনই আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার মূল উদ্দেশ্য।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণ ও সম্ভাবনা বিবেচনায় সরকার প্রতি বছর একটি পণ্যকে ‘বর্ষপণ্য’ ঘোষণা করে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালের ‘Product of the Year’ হিসেবে ‘পেপার অ্যান্ড প্যাকেজিং প্রোডাক্টস’ ঘোষণা করা হয়।

এবারের মেলায় পরিবেশ সুরক্ষার লক্ষ্যে পলিথিন ব্যাগ ও সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বিকল্প হিসেবে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব শপিং ব্যাগ সরবরাহ করা হবে।

মেলার লে-আউট প্ল্যান অনুযায়ী দেশীয় ও বিদেশি প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন ক্যাটাগরির ৩২৪টি প্যাভিলিয়ন, স্টল ও রেস্টুরেন্ট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান এবং এফবিসিসিআই-এর প্রশাসক মো. আব্দুর রহিম খান।
উল্লেখ্য, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ঘোষিত জাতীয় শোকের কারণে মেলার উদ্বোধন ১ জানুয়ারির পরিবর্তে ৩ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়।











