কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (Artificial Intelligence) যুগে বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নিয়ে Youth Council of Bangladesh-এর উদ্যোগে এক গুরুত্বপূর্ণ প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (২১ ডিসেম্বর ২০২৫) রাজধানীর আমারি হোটেল, গুলশান, ঢাকায় আয়োজিত এই আলোচনা সভার শিরোনাম ছিল “Education of Bangladesh: in the Age of Artificial Intelligence”।

ইয়ুথ কাউন্সিল অব বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট কাজী ফুয়াদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল শাহাদাত বিন জামান।

তিনি বলেন, “কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শুধু একটি প্রযুক্তি নয়, এটি আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা, কর্মসংস্থান কাঠামো এবং নেতৃত্বের ধারণাকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করছে। আজকের এই আলোচনা তরুণদের ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।”
প্যানেল আলোচনায় দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, কর্মসংস্থান উপযোগী দক্ষতা, ডিজিটাল বৈষম্য এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গঠনে তরুণদের প্রস্তুতির বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়।

প্যানেল আলোচনায় বক্তব্য দিতে গিয়ে ন্যাশনালিস্ট ডেমোক্রেটিক মুভমেন্ট (NDM)-এর চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ বলেন, “বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো আমাদের মানবসম্পদ। কিন্তু স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও আমরা দক্ষ ও মূল্য সংযোজিত মানবসম্পদ তৈরি করতে পারিনি। এখনও আমরা মূলত কম দক্ষ শ্রমশক্তি রপ্তানি করছি, যার ফলে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে আমাদের সুযোগ সীমিত হয়ে যাচ্ছে।”
তিনি বলেন, কেন্দ্রীয়করণের কারণে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা স্থবির হয়ে পড়েছে। “একটি ২০ কোটির দেশের হাজার হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সবকিছু কেন্দ্র থেকে নিয়ন্ত্রণ করা বাস্তবসম্মত নয়। কাঠামোগত সংস্কার ছাড়া এআই দিয়ে শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন সম্ভব নয়।”

বিএনপির উপদেষ্টা ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ড. মাহদি আমিন বলেন, “জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও চীনের মতো দেশে বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে। কিন্তু সেখানে যেতে আমাদের তরুণদের সবচেয়ে বড় বাধা ইচ্ছার অভাব নয়—ভাষা দক্ষতা ও কাজের উপযোগী প্রশিক্ষণের ঘাটতি।”
তিনি বলেন, বিএনপি বিশ্বাস করে শিক্ষার মূল শক্তি শিক্ষকরা। “এই কারণেই আমরা ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাবলেট’ নীতি নিয়ে কাজ করতে চাই, যাতে শিক্ষকরা নিয়মিত শিখতে পারেন এবং শিক্ষার্থীদের আরও মানসম্মত শিক্ষা দিতে পারেন। প্রযুক্তি শিক্ষকের বিকল্প নয়—এটি শিক্ষকদের শক্তিশালী করে।”
শিখো-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (CEO) শাহির চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের শিক্ষা সংকট মূলত ব্যাপ্তি ও সম্পদের সীমাবদ্ধতার ফল। “বাংলাদেশে ৪ কোটি ২০ লাখ শিক্ষার্থী, ৬ লাখ ৮০ হাজার শিক্ষক এবং ১ লাখ ৩৫ হাজারের বেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে যা অনেক উন্নত দেশের মোট জনসংখ্যার চেয়েও বড়। অথচ শিক্ষায় সরকারি ব্যয় জিডিপির মাত্র ১.৬-১.৭ শতাংশ, ফলে প্রচলিত পদ্ধতিতে এই চাহিদা পূরণ করা সম্ভব নয়।”
শাফকাত রাব্বী বলেন, “এআই আমাদের চাকুরী রিপ্লেস করবে না, আমরা যদি এআই সম্পর্কে আরও ট্রেইন করতে পারি তাহলে এআই দিয়ে আমাদের আরও চাকুরী তৈরি হবে।”

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শুধু একটি প্রযুক্তি নয়, এটি আমাদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং নেতৃত্বের ধরন বদলে দিচ্ছে। আজকের এই আলোচনা তরুণদের জন্য ভবিষ্যৎ প্রস্তুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও চীনের মতো দেশে বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ থাকলেও ভাষা দক্ষতা ও কাজের উপযোগী প্রশিক্ষণের ঘাটতির কারণে তা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না।
আলোচকরা বলেন, আমাদের শিক্ষক ক্ষমতায়নের বিষয়ে মনোযোগ দিতে হবে। এই কারণেই ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাবলেট’ নীতি নিয়ে আমরা কাজ করতে চাই—যাতে শিক্ষকরা নিয়মিত শিখতে পারেন এবং আরও মানসম্মত শিক্ষা দিতে পারেন। প্রযুক্তি শিক্ষকের বিকল্প নয়—এটি শিক্ষকদের শক্তিশালী করে।
প্যানেল আলোচনায় শিক্ষানীতি সংস্কার, ডিজিটাল বৈষম্য, কর্মসংস্থান উপযোগী দক্ষতা এবং তরুণদের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গঠনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
Youth Council of Bangladesh মনে করে, এ ধরনের আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই করে গড়ে তোলা সম্ভব।











