মহান বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে যুক্তরাজ্য বিএনপি’র উদ্যোগে লন্ডনের সিটি প্যাভিলিয়নে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫ (যুক্তরাজ্য সময়) আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান।

বিজয় দিবসের এই অনুষ্ঠানটি একদিকে ছিল প্রবাসী বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়, অন্যদিকে এটি রূপ নেয় তারেক রহমানের এক ধরনের বিদায়ী অনুষ্ঠানে। প্যাভিলিয়ন ছিল কানায় কানায় পূর্ণ; তিল পরিমাণ ঠাঁই ছিল না।
বক্তব্যে তারেক রহমান প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতি ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশে এখনো ষড়যন্ত্র থেমে নেই এবং সামনে সময় সহজ নয়। তিনি বলেন, “আমি এক বছর আগেও বলেছিলাম সামনে কঠিন সময়। ষড়যন্ত্র থেমে নেই এবং এই নির্বাচনও খুব সহজ নয়। আজ আবারও বলছি—সামনের সময় খুব সুবিধার না। কাজেই সবাইকে সজাগ ও ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। ঐক্যবদ্ধ থাকলেই দেশ গড়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে এবং জবাবদিহিমূলক বাংলাদেশ গড়ে তোলা যাবে।”

যুক্তরাজ্যের উদাহরণ টেনে তারেক রহমান বলেন, এই দেশে জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা রয়েছে বলেই মানুষ ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হয় না। অথচ বাংলাদেশের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্যতা থেকে বঞ্চিত। তাই বাংলাদেশের মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দিতে হলে ঐক্যবদ্ধ থাকার কোনো বিকল্প নেই। তিনি এ প্রসঙ্গে বলেন, “United we stand, divided we fall”—এই কথাটি সকলকে মনে রাখতে হবে।
বক্তব্যের শুরুতেই তিনি প্রবাসীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং বিভিন্ন সময় নেতা-কর্মীদের শান্ত থাকার অনুরোধ জানান। সকলের কাছে দোয়া চেয়ে তিনি জানান, আগামী ২৫ ডিসেম্বর তিনি দেশে ফিরবেন। একই সঙ্গে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া কামনা করেন।

এ সময় তিনি উপস্থিত নেতাকর্মীদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানিয়ে বলেন, “২৫ ডিসেম্বর আমার দেশে ফেরার দিন দয়া করে কেউ এয়ারপোর্টে যাবেন না। এয়ারপোর্টে গেলে হট্টগোল তৈরি হবে এবং এতে দেশ ও দলের সুনাম ক্ষুণ্ন হতে পারে।” তিনি আরও বলেন, যারা তার এই অনুরোধ রাখবেন, তিনি ধরে নেবেন তারা দল ও দেশের সম্মানকে প্রাধান্য দেন।
অনুষ্ঠানের শেষ দিকে দেড় মিনিটের একটি ভিডিও প্রদর্শন করা হয়, যেখানে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক গণ-অভ্যুত্থান এবং নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ের কথা তুলে ধরা হয়।

তারেক রহমান তার বক্তব্যে একটি সুখী ও কল্যাণকর রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে তার “দেশ গড়ার পরিকল্পনা” তুলে ধরেন। এতে ফ্যামিলি কার্ড, ফার্মার্স কার্ড, স্বাস্থ্য কার্ড, বেকারত্ব নিরসনসহ বিভিন্ন বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
আগামী নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি কোনো এক্সপেরিমেন্ট বা অভিজ্ঞতার বিষয় নয়, বরং একটি বড় পরিবর্তনের সুযোগ। এই সুযোগকে সৎভাবে কাজে লাগাতে হবে। প্রবাসীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যেভাবে তারা আন্দোলনে ভূমিকা রেখেছেন, একইভাবে সঠিক দলকে নির্বাচিত করতে সহযোগিতা করাও এখন বড় দায়িত্ব।
প্রবাসীদের অবদানের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে প্রবাসীদের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এই অবদান কোনোভাবেই খাটো করে দেখার সুযোগ নেই।











