মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে দেশের জনগণকে উদ্দেশ্য করে প্রধান উপদেষ্টা জাতিকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “প্রিয় দেশবাসী, শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুণী, ছাত্র-ছাত্রী, নারী-পুরুষ, নবীন-প্রবীণ—আপনাদের সকলের প্রতি আমার আন্তরিক সালাম ও শ্রদ্ধা। মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে দেশে ও বিদেশে বসবাসরত সকল বাংলাদেশিকে জানাই বিজয়ের উষ্ণ শুভেচ্ছা।”
প্রধান উপদেষ্টা স্মরণ করেন ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের নায়ক ও শহিদদের, যারা দেশকে স্বাধীনতার স্বাদ উপহার দিয়েছেন। তিনি বলেন, “গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি মহান মুক্তিযুদ্ধসহ স্বাধীনতার জন্য যারা আত্মত্যাগ করেছেন। তাঁদের অবদান আমাদের অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর প্রেরণা যোগায়।”
তিনি আরও বলেন, “মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতার নতুন সূর্য উদিত হয়েছিল, কিন্তু বিগত বছরগুলোতে তা স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদে ম্লান হয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আমরা আবারও একটি বৈষম্যহীন, দুর্নীতিমুক্ত, স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার সুযোগ পেয়েছি।”
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশের জন্য যে বিস্তৃত সংস্কার কর্মসূচি গ্রহণ করেছে, তা দেশের আপামর জনগণের অংশগ্রহণে সফলতার পথে এগোচ্ছে। তিনি দেশের তরুণদের সুরক্ষার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেন এবং সম্প্রতি সংঘটিত রাজনৈতিক সহিংসতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, “জুলাই অভ্যুত্থানের সম্মুখযোদ্ধা ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলা একটি ভয়াবহ ঘটনা। সরকার তার চিকিৎসা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে। যারা এই ষড়যন্ত্রে জড়িত, তারা যেখানেই থাকুক না কেন, কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। পরাজিত ফ্যাসিস্ট শক্তি আর কখনও ফিরে আসবে না।”
প্রধান উপদেষ্টা তরুণদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “দেশের সবাইকে জোর গলায় বলতে হবে—আমরা তরুণদের রক্ষা করব। উৎসবমুখর, শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করে আমরা সবাই মিলে দেশের ওপর আমাদের পূর্ণ দখল প্রতিষ্ঠিত করব।”
তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতা বিষয়ে জানান, “সরকার তাঁর চিকিৎসা নিশ্চিত করতে পরিবারের সঙ্গে সমন্বয় রেখে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিচ্ছে। প্রয়োজনে বিদেশেও উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে।”
প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচন ও গণভোটের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “এই নির্বাচন ও গণভোট বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পথ নির্ধারণের এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। ভোটকে শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে দেখবেন না; এটি নতুন রাষ্ট্র গঠনে আপনার সক্রিয় অংশগ্রহণ।”
তিনি দেশের সকল রাজনৈতিক দলকে আহ্বান জানান, “নির্বাচনের মাঠে একে অপরকে প্রতিযোগী হিসেবে দেখুন, শত্রু হিসেবে নয়। একটি সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে।”
প্রধান উপদেষ্টা দেশের বিচার ও পুলিশ প্রশাসনের সংস্কারকেও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে। পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ ২০২৫ এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ ২০২৫ জারি করা হয়েছে, যাতে জনগণ নিরাপদ ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রে বসবাস করতে পারে।”
শেষে তিনি দেশের সকলকে একত্রিত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “মহান মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক অনুপ্রেরণা ধারণ করে জনগণের ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়া আমাদের সম্মিলিত দায়িত্ব। আসুন, সব ধর্ম-বর্ণ-গোষ্ঠী ও লিঙ্গ নির্বিশেষে হাতে হাত রেখে শান্তি, সমৃদ্ধি ও গণতন্ত্রের পথে এগিয়ে যাই। সবাইকে আবারও মহান বিজয় দিবসের আন্তরিক শুভেচ্ছা।”











