নারী ও শিশুর কল্যাণে ইউনিসেফের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্ব দিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ


বাংলাদেশে নারী ও শিশুর উন্নয়ন, সুরক্ষা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে জাতিসংঘের শিশু তহবিল—ইউনিসেফের (UNICEF) সঙ্গে দীর্ঘদিনের সহযোগিতা আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, এমপি।

রবিবার (১৮ অক্টোবর, ২০২৬) ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে বাংলাদেশ সফররত ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক ক্যাথরিন রাসেলের সঙ্গে এক সংলাপে তিনি এ গুরুত্বারোপ করেন। বৈঠকে নারী ও শিশুর উন্নয়ন, মাতৃ ও শিশুমৃত্যু হ্রাস, মানসম্মত শিক্ষা, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, শিশুর সুরক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশের উন্নয়নযাত্রায় ইউনিসেফ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে। সরকার এমন একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়তে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যেখানে নারী ও শিশুর মর্যাদা, সমান সুযোগ এবং প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত হবে।
নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন প্রসঙ্গে তিনি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘কৃষক কার্ড’-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে বিশেষ করে নারীপ্রধান পরিবারগুলোকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেন তিনি। এ ছাড়া স্কুল ফিডিং কর্মসূচি, বিনামূল্যে পাঠ্যবই বিতরণ এবং মেয়েদের স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষার সুযোগের বিষয়েও আলোচনা করেন প্রতিমন্ত্রী।
স্বাস্থ্য খাতে বাংলাদেশের অগ্রগতি তুলে ধরে শামা ওবায়েদ ইসলাম মাতৃ ও শিশুমৃত্যুর হার কমানোর ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্যের কথা বলেন। স্বাস্থ্যসেবা আরও শক্তিশালী করতে সরকারের স্বাস্থ্য বাজেট প্রায় দ্বিগুণ করার বিষয়টিও তিনি উল্লেখ করেন। পাশাপাশি শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং পর্যায়ক্রমে শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার সরকারি অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরেন।
বাল্যবিবাহ, অনলাইন সহিংসতা ও শিশুর সুরক্ষা
বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে শুধু আইনগত পদক্ষেপ নয়, এর পেছনে থাকা দারিদ্র্য, সামাজিক রীতিনীতি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ঝরে পড়া এবং মেয়েদের সীমিত সুযোগের মতো আর্থসামাজিক কারণগুলো মোকাবিলার ওপর গুরুত্ব দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
বৈঠকে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে নারী ও শিশুদের ঝুঁকি, নারীর প্রতি সহিংসতা, অনলাইন সহিংসতা এবং কিশোর অপরাধের বিষয়েও আলোচনা হয়।
অনলাইন সহিংসতা ও অভিযোগের দ্রুত প্রতিকার নিশ্চিত করার প্রসঙ্গে তিনি নিউইয়র্কে মেটা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তাঁর সাম্প্রতিক বৈঠকের কথা উল্লেখ করেন। বাংলাদেশে মেটার একটি স্থানীয় কার্যালয় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে অভিযোগ নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া আরও কার্যকর করার বিষয়ে আলোচনার কথাও জানান তিনি। একই সঙ্গে কিশোর অপরাধ মোকাবিলায় সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ তুলে ধরেন।
রোহিঙ্গা শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, পুষ্টি ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ইউনিসেফের সহযোগিতার প্রশংসা করেন শামা ওবায়েদ ইসলাম।
বাংলাদেশের অগ্রগতির প্রশংসা ইউনিসেফের
ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক ক্যাথরিন রাসেল তাঁকে আতিথ্য দেওয়ার জন্য পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। তিনি শিশুমৃত্যু ও শিশুর খর্বাকৃতি হওয়ার হার কমানো, বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বৃদ্ধি, জন্মনিবন্ধন সম্প্রসারণ এবং নিরাপদ পানীয় জল ও স্যানিটেশন সুবিধার উন্নয়নে বাংলাদেশের অগ্রগতির প্রশংসা করেন।
সরকারের সঙ্গে বিদ্যমান সহযোগিতার কথা উল্লেখ করে ক্যাথরিন রাসেল নারী ও শিশুর কল্যাণে ইউনিসেফের অব্যাহত সমর্থনের আশ্বাস দেন।
বৈঠকের শেষ পর্যায়ে বাংলাদেশ সফরের জন্য ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালককে ধন্যবাদ জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। মাতৃ ও শিশুর স্বাস্থ্য, মানসম্মত শিক্ষা, কিশোরীদের ক্ষমতায়ন, শিশুর সুরক্ষা এবং জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধির মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে ইউনিসেফের সঙ্গে আরও শক্তিশালী ও ফলাফলভিত্তিক অংশীদারত্ব গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
বৈঠকে ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালকের সঙ্গে সংস্থাটির বাংলাদেশ প্রতিনিধি গিলিয়ান মেলসপ, উপপ্রতিনিধি ইমানুয়েল আব্রিউ এবং শিশু সুরক্ষা বিশেষজ্ঞ শাবনাজ জাহেরীন উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশের পক্ষে পররাষ্ট্রসচিব রাষ্ট্রদূত আসাদ আলম সিয়াম এবং মহাপরিচালক কাজী এহসানুল হক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেন।











