January 29, 2026

শিরোনাম
  • Home
  • অন্যান্য খবর
  • সিআইডির ভূয়সী প্রশংসা ও ভবিষ্যতে সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেছেন প্রধান উপদেষ্টা

সিআইডির ভূয়সী প্রশংসা ও ভবিষ্যতে সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেছেন প্রধান উপদেষ্টা

Image

অনলাইন ডেস্কঃ

বুধবার (৭ জানুয়ারি, ২০২৬) বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি জনাব মো. ছিবগাত উল্লাহ, বিপিএম, পিপিএম এর নেতৃত্বে একটি বিশেষ প্রতিনিধি দল প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস এর সঙ্গে রাষ্ট্রীয় অতিথিভবন যমুনায় সাক্ষাৎ করেন।

সাক্ষাতকালে প্রধান উপদেষ্টা রায়েরবাজার কবরস্থানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের অজ্ঞাত মরদেহ উত্তোলন, ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ ও শনাক্তকরণে সিআইডির ভূমিকার জন্য ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, এই কার্যক্রম দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, সত্য উদঘাটন এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় একটি ঐতিহাসিক ও দৃষ্টান্তমূলক উদ্যোগ।

প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, রায়েরবাজারে বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা ১১৪ জন শহীদের মরদেহ থেকে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় শনাক্তের উদ্যোগ নিখোঁজ পরিবারগুলোর জন্য ন্যায়ের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। এই ধরনের কাজ অন্যান্য সংস্থা ও সংশ্লিষ্টদেরও অনুপ্রাণিত করবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তিনি আরও বলেন, সিআইডির ফরেনসিক সক্ষমতা ও কলেবর বৃদ্ধি, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার, ময়নাতদন্ত এবং ডিএনএ প্রোফাইলিংয়ে পেশাদারিত্বকে সমর্থন করতে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। তিনি উল্লেখ করেন, সিআইডির এই ফরেনসিক কার্যক্রম দেশের মানবাধিকার রক্ষা, নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধান এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।

সাক্ষাতকালে সিআইডি প্রধান জনাব মো. ছিবগাত উল্লাহ, বিপিএম, পিপিএম প্রধান উপদেষ্টাকে অবহিত করেন যে, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে এবং স্বরাষ্ট্র ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সার্বিক সহযোগিতায় রায়েরবাজার কবরস্থানে অস্থায়ী মর্গ স্থাপন করে গত ৭ ডিসেম্বর থেকে ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত মোট ১১৪টি অজ্ঞাত মরদেহ উত্তোলন, ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ সম্পন্ন করা হয়েছে।

তিনি জানান, এ পর্যন্ত নিখোঁজ স্বজনের সন্ধানে ৯টি পরিবার ডিএনএ নমুনা প্রদান করেছে, যার মধ্যে ৮ জন শহীদের পরিচয় ডিএনএ প্রোফাইলিংয়ের মাধ্যমে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। শনাক্ত হওয়া শহীদদের প্রত্যেকেই বুলেটবিদ্ধ অবস্থায় নিহত হয়েছেন। ঘটনাস্থলেই ফরেনসিক ল্যাব স্থাপন করে নমুনা সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ পরিচালনার মাধ্যমে সিআইডির ফরেনসিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

সিআইডি প্রধান আরও জানান, কার্যক্রমের স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের দিকনির্দেশনায় মিনেসোটা প্রটোকল অনুসরণ করে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। এর ফলে ভবিষ্যতে বিচারিক ও অনুসন্ধানমূলক কার্যক্রমের জন্য প্রয়োজনীয় ফরেনসিক প্রমাণ সংরক্ষণ করা সম্ভব হয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এই উদ্যোগ প্রমাণ করে যে সত্যকে কখনো চাপা দেওয়া যায় না। নিহতদের নাম ও পরিচয় ফিরে আসবে এবং তাদের আত্মত্যাগ জাতির ইতিহাসে চিরদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তিনি এই কার্যক্রমকে নিখোঁজ পরিবারগুলোর দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান এবং রাষ্ট্রের নৈতিক দায়বদ্ধতার প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করেন।

এই সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমে সিআইডি ছাড়াও ঢাকা মেডিকেল কলেজসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকবৃন্দ, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি), ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি), ঢাকা জেলার বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণ, জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন এবং অন্যান্য বিবিধ সংস্থা ও ব্যক্তি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ ও সহযোগিতা করেছেন। সিআইডি প্রধান জনাব মো. ছিবগাত উল্লাহ, বিপিএম, পিপিএম এই সকল প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিকে আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছেন।

সাক্ষাত শেষে সিআইডি প্রধান ও তাঁর প্রতিনিধি দল প্রধান উপদেষ্টাকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান এবং সরকারের সহযোগিতায় ভবিষ্যতে আরও কার্যকর ও পেশাদারভাবে দায়িত্ব পালনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

উল্লেখ্য, জুলাই–আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের সময় যেসব পরিবারের সদস্যরা আন্দোলনে অংশ নিয়ে নিখোঁজ হয়েছেন, তাদেরকে সিআইডির হটলাইন নম্বর ০১৩২০০১৯৯৯৯-এ যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ জানানো হচ্ছে।

Scroll to Top