April 6, 2026

শিরোনাম
  • Home
  • আন্তর্জাতিক
  • যুক্তরাজ্য-বাংলাদেশ বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করতে ঢাকা সফর করছেন যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য দূত

যুক্তরাজ্য-বাংলাদেশ বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করতে ঢাকা সফর করছেন যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য দূত

Image

কূটনৈতিক ডেস্ক:

যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য দূত, রাইট অনারেবল ব্যারনেস উইন্টারটন অফ ডনকাস্টার, ডিবিই, দীর্ঘস্থায়ী এবং পারস্পরিকভাবে লাভজনক যুক্তরাজ্য-বাংলাদেশ বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বকে শক্তিশালী ও প্রসারিত করতে এই সপ্তাহে ঢাকা সফর করছেন।

ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশের নতুন নির্বাচিত সরকার গঠনের পর এক গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তাঁর এটি তৃতীয় বাংলাদেশ সফর। এই সফর বাণিজ্য, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, উচ্চশিক্ষা, বিমান চলাচল এবং প্রতিরক্ষা খাতে সহযোগিতা গভীর করার ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যের অঙ্গীকারকে তুলে ধরে।

এই সফরকালে ব্যারনেস উইন্টারটন পারস্পরিকভাবে লাভজনক প্রবৃদ্ধির জন্য অভিন্ন অগ্রাধিকার নিয়ে আলোচনা করতে এবং বাংলাদেশের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য ও দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক অংশীদার হিসেবে যুক্তরাজ্যের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করতে ঊর্ধ্বতন মন্ত্রী এবং অন্যান্য সরকারি ও সামরিক কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক করবেন।

বাণিজ্য দূত দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং বাণিজ্যিক সম্পর্ক শক্তিশালী করার উপায় অন্বেষণ করতে বাংলাদেশে কর্মরত যুক্তরাজ্যের কোম্পানিগুলোর প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী নেতার সাথেও সাক্ষাৎ করবেন।

এছাড়াও, ব্যারনেস উইন্টারটন যুক্তরাজ্যের ‘ডেভেলপিং কান্ট্রিজ ট্রেডিং স্কিম’ (ডিসিটিএস) ব্যবহার করে যুক্তরাজ্যে রপ্তানিকারী বাংলাদেশি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো পরিদর্শন করবেন। ডিসিটিএস বিশ্বের অন্যতম উদার বাণিজ্য অগ্রাধিকার প্রকল্প। এটি বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোকে নিম্নলিখিত উপায়ে সহায়তা করার জন্য তৈরি করা হয়েছে:

বিভিন্ন ধরনের পণ্যের জন্য শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা প্রদান
রপ্তানিকারকদের যোগ্যতা অর্জন সহজ করার জন্য পণ্যের উৎপত্তিস্থলের নিয়মাবলী সরলীকরণ
পোশাকের বাইরে রপ্তানির বৈচিত্র্যকরণে উৎসাহিত করা
কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদী, টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করা

ডিসিটিএস-এর শুল্কমুক্ত সুবিধার সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী হলো বাংলাদেশ, যা ব্রিটিশ ভোক্তাদের কাছে প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে উচ্চমানের পণ্য সরবরাহ করে এবং বাংলাদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়তা করে।

বাণিজ্য দূত ব্যারনেস উইন্টারটন বলেন:
“যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের মধ্যে একটি শক্তিশালী, ঐতিহাসিক অংশীদারিত্ব রয়েছে এবং আমাদের দেশগুলো ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক থেকে ক্রমাগত উপকৃত হচ্ছে। আমি উভয় দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সমৃদ্ধিকে সমর্থন করে এমন নতুন সুযোগ চিহ্নিত করার জন্য সরকারি নেতা, ব্যবসায়ী এবং উদ্যোক্তাদের সাথে আলোচনায় বসতে আগ্রহী।”

ব্রিটিশ হাই কমিশনার সারা কুক বলেছেন:

যুক্তরাজ্য-বাংলাদেশ সম্পর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে যৌথ প্রবৃদ্ধি ও সমৃদ্ধি, এবং এক বছরে ব্যারনেস উইন্টারটনের তৃতীয় সফর এটাই প্রতিফলিত করে যে আমরা এই অঙ্গীকারকে কতটা গুরুত্বের সাথে দেখি। বাংলাদেশ যখন এক নতুন ও সম্ভাবনাময় অধ্যায়ে প্রবেশ করছে, তখন এই সফর আমাদের অংশীদারিত্বকে আরও সুদৃঢ় করবে।

যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্তম রপ্তানি বাজার এবং একটি অগ্রণী উন্নয়ন ও বিনিয়োগ অংশীদার। এই সফর বাংলাদেশের আরও বৈচিত্র্যময়, স্থিতিশীল এবং উচ্চ-মূল্যের অর্থনীতির দিকে রূপান্তরে সহায়তা করার জন্য যুক্তরাজ্যের অঙ্গীকারকে পুনঃনিশ্চিত করে।

Scroll to Top