বিজনেস ডেস্কঃ
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশের ব্যবসায়ীদের প্রধান সমস্যা হলো তহবিলের নিরাপত্তাহীনতা, সম্পদের সুরক্ষার অভাব এবং পর্যাপ্ত রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার ঘাটতি। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে লাল ফিতার জটিলতা, যা ব্যবসা ও শিল্প বিকাশে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি, ২০২৬) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ‘সমৃদ্ধির সংলাপ: বাংলাদেশের শিল্প ও বাণিজ্যের জন্য কৌশলগত ভাবনা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের শতাধিক ব্যবসায়ী ও কূটনৈতিক প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে জামায়াত আমির বলেন, “আপনারা লাখো মানুষের জীবিকা নিশ্চিত করেন। তাই আপনাদের রক্ষা করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। ব্যবসা ও শিল্পকে শিশুর মতো আগলে রাখতে হবে।” তিনি আরও বলেন, অবৈধভাবে বিদেশে পাচার করা অর্থ সম্মানের সঙ্গে দেশে ফিরিয়ে আনলে রাষ্ট্র সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আরও সম্মান দেবে। এর উদ্দেশ্য কাউকে অপমান করা নয়, বরং জাতির কল্যাণ নিশ্চিত করা।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা সরকার গঠন করলে অবৈধভাবে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য আহ্বান জানানো হবে। যারা সম্মানের সঙ্গে সেই অর্থ ফেরত দেবেন, রাষ্ট্র তাদের মর্যাদা দেবে।”
ব্যাংকিং খাত ও শেয়ারবাজারের মধ্যে ঘনিষ্ঠ আর্থিক সম্পর্কের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এই দুই খাতকে একসঙ্গে বিশ্লেষণ করার সুযোগ তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়েই তিনি পেয়েছেন। “একসময় বাংলাদেশের অর্থনীতি মোটামুটি সুস্থ ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে একের পর এক সংকট দেখা দেয়—শেয়ারবাজার চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে, ব্যাংকিং খাতও সংকটে পড়ে,”—বলেন তিনি।
দেশের সার্বিক উন্নয়নের জন্য তিনটি খাতকে সমান্তরালভাবে উন্নত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে জামায়াত আমির বলেন, এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো মানবসম্পদ উন্নয়ন বা হিউম্যান ইন্ডাস্ট্রি। “মানবসম্পদ যথাযথভাবে উন্নয়ন না হলে কোনো শিল্পই কার্যকরভাবে পরিচালিত হতে পারে না। মানুষের মেধা, যোগ্যতা, বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতা ও পরিশ্রম—এই চারটির সমন্বয় ঘটলে কোনো ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্ত হন না,”—যোগ করেন তিনি।
ব্যবসায়িক সফলতার জন্য ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার আলোকে চারটি বিষয়কে অপরিহার্য উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ব্যবসার ক্ষেত্রে সহি নিয়ত থাকতে হবে, উদ্দেশ্য হতে হবে সৎ ও ন্যায়সঙ্গত। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যবসা সম্পর্কে ন্যূনতম জ্ঞান ও কারিগরি ধারণা, সংকটে ঘুরে দাঁড়ানোর মানসিকতা ও সাহস থাকতে হবে। শুধু মালিক হয়ে অফিসে বসে থাকলে চলবে না, নিজেকে সক্রিয়ভাবে কাজে যুক্ত করতে হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
মতবিনিময় সভায় ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স (আইসিসি) বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমান, এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি মীর নাসির হোসেন, এ কে আজাদ ও মো. জসিম উদ্দিন, বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আনোয়ার উল আলম চৌধুরী পারভেজ, মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তফা কামাল, বিকেএমইএর সাবেক সভাপতি ফজলুল হক, বারভিডা সভাপতি আবদুল হকসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে ‘বাংলাদেশের জন্য ব্যবসাবান্ধব অর্থনৈতিক নীতি প্রণয়ন’ বিষয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব বিজনেস অ্যান্ড ইকোনমির অধ্যাপক এ কে এম ওয়ারেসুল করিম।
এ ছাড়া সভায় জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহেরসহ দলটির অন্যান্য নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।











