বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতির অন্যতম শীর্ষ নেত্রী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর, ২০২৫) জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া এক ভাষণে তিনি তাঁর মৃত্যুতে তিনদিনের রাষ্ট্রীয় শোক এবং জানাজার দিনে একদিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছেন।
ভাষণের শুরুতে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, দেশের পুরো জাতি আজ গভীর শোক ও বেদনায় নিস্তব্ধ। বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে জাতি এক মহান অভিভাবককে হারিয়েছে উল্লেখ করে তিনি তাঁর পরিবারের সদস্য, রাজনৈতিক সহকর্মী এবং অগণিত কর্মী-সমর্থকের প্রতি সমগ্র জাতির পক্ষ থেকে আন্তরিক সমবেদনা জানান।
তিনি মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করে বলেন, যেন তিনি সবাইকে এই গভীর শোক কাটিয়ে ওঠার শক্তি দান করেন এবং বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত নসিব করেন।
ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক পরম মহিমান্বিত ব্যক্তিত্ব। গণতন্ত্র, বহুদলীয় রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তাঁর ভূমিকা ইতিহাসে অম্লান হয়ে থাকবে। স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে তাঁর আপসহীন নেতৃত্ব বারবার জাতিকে গণতন্ত্রহীন পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের পথ দেখিয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, দেশ ও জাতির প্রতি বেগম খালেদা জিয়ার অবদান জাতি চিরকাল শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন, গণমুখী নেতৃত্ব এবং স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অবিচল ভূমিকা অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে। এমন একজন দূরদর্শী ও নিখাদ দেশপ্রেমিক নেত্রীর শূন্যতা পূরণ হওয়ার নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শোকাবহ এই সময়ে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, সবাই যেন ঐক্যবদ্ধ থাকে এবং কেউ যেন অস্থিতিশীলতা বা নাশকতার অপচেষ্টা চালাতে না পারে, সে বিষয়ে সজাগ থাকে। তিনি শোক পালনের সব কর্মসূচিতে শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য সবার প্রতি বিনীত অনুরোধ জানান।
ভাষণের শেষাংশে তিনি বলেন, শোকের এই সময়ে আবেগ সংযত রেখে ধৈর্যের পরিচয় দেওয়া এবং জানাজাসহ সকল আনুষ্ঠানিকতা পালনে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সহযোগিতা করা অত্যন্ত জরুরি।
মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে দেশবাসীর জন্য ধৈর্য, শক্তি ও ঐক্য কামনা করে তিনি ভাষণ শেষ করেন।











