নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের ভোটে বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় এলে সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করা হবে। জলাবদ্ধতা নিরসন, নগর ও গ্রামাঞ্চলের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নয়ন এবং পরিবেশ সুরক্ষায় এই কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি ২০২৬) রাজধানীর বনানী চেয়ারম্যানবাড়ি মাঠে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় বনানী সোসাইটি আয়োজিত দোয়া মাহফিল ও মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান উপস্থিত ছিলেন।
তারেক রহমান বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচি একসময় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বড় ভূমিকা রেখেছিল। কিন্তু পরবর্তীকালে একের পর এক খাল ভরাট ও দখলের কারণে আজ ঢাকা শহরসহ সারাদেশে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, “আগামী নির্বাচনে জনগণের ভোটে বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে সমগ্র বাংলাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ শীর্ষক উদ্যোগের বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, জলাবদ্ধতা, পরিবেশ দূষণ, শিক্ষা সংস্কার, যুব সমস্যা ও স্বাস্থ্যখাতের সংকট মোকাবিলায় বিএনপির একটি সুস্পষ্ট ও সমন্বিত পরিকল্পনা রয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে জলাবদ্ধতা সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে সংশ্লিষ্ট এলাকার বিদ্যমান খালগুলো পুনরুদ্ধারে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঢাকার পরিবেশ ও সবুজায়ন প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘদিন পর দেশে ফিরে এসে তিনি দেখেছেন ঢাকায় সবুজ কমে গেছে এবং শহরটি আগের তুলনায় অনেক বেশি শুষ্ক হয়ে পড়েছে। তিনি জানান, বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ রোপণের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। প্রতিটি উপজেলায় সরকারি-বেসরকারি নার্সারি সম্প্রসারণ করে পরিবেশবান্ধব বনায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের একটি টিম দীর্ঘ দুই বছর গবেষণা করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের জন্য উপযোগী গাছের তালিকা প্রস্তুত করেছে, যা দেশের পরিবেশ ভারসাম্য রক্ষায় সহায়ক হবে।
ঢাকার ভয়াবহ যানজট প্রসঙ্গে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তারেক রহমান বলেন, রাজধানী থেকে বের হওয়াটাই এখন যুদ্ধের মতো। এই সমস্যা থেকে উত্তরণে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। তিনি বলেন, উন্নত গণপরিবহন ব্যবস্থা চালু করতে পারলে যানজট অনেকাংশে কমানো সম্ভব। মেট্রোরেলের পাশাপাশি মনোরেল চালু করে বনানী, মোহাম্মদপুরসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে মেট্রোরেলের সঙ্গে সংযুক্ত করার প্রস্তাবও দেন তিনি।
শিক্ষা ও যুব উন্নয়ন প্রসঙ্গে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, ক্রীড়াকে পেশার মর্যাদায় নিয়ে আসতে শিক্ষাব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কার আনা হবে। প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য অন্তত একটি খেলা ও একটি সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকা বাধ্যতামূলক করা হবে। বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি মাধ্যমিক স্তরে ফরাসি, জার্মান, ম্যান্ডারিন, আরবি ও জাপানিজ ভাষার মতো তৃতীয় ভাষা শিক্ষার সুযোগ চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
ডিজিটাল অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, পেপালের মতো আন্তর্জাতিক পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং দেশের আইটি পার্কগুলোকে সক্রিয় করা হবে। এসব পার্কে ফ্রি ওয়াই-ফাই ও ফ্রি ওয়ার্কিং স্পেস দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
স্বাস্থ্যখাতের সংকট তুলে ধরে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, ঢাকা শহরে এখনো কোনো কেন্দ্রীয় অ্যাম্বুলেন্স সিস্টেম নেই এবং মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনারও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। তিনি বলেন, প্রতিদিন ঢাকায় উৎপন্ন প্রায় ৭ হাজার টন কঠিন বর্জ্যকে জ্বালানিতে রূপান্তর ও রিসাইক্লিংয়ের মাধ্যমে পরিবেশ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে বিএনপির।
বক্তব্যের শেষাংশে তারেক রহমান বলেন, “আমি আপনাদের সঙ্গে ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’-এর যে বিষয়গুলো শেয়ার করেছি, সেগুলো বাস্তবায়ন করতে পারলে বাংলাদেশে সত্যিকারের পরিবর্তন আনা সম্ভব। এ জন্য সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।”
তিনি দাবি করেন, পানি, পরিবেশ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও তরুণদের কর্মসংস্থান নিয়ে বিএনপির মতো সুস্পষ্ট ও নির্দিষ্ট পরিকল্পনা অন্য কোনো রাজনৈতিক দল এখনো জনগণের সামনে উপস্থাপন করতে পারেনি।











