March 10, 2026

শিরোনাম
  • Home
  • আন্তর্জাতিক
  • বাণিজ্য ও সংযোগ বৃদ্ধিতে বিমসটেক এফটিএ দ্রুত চূড়ান্ত করার আহ্বান

বাণিজ্য ও সংযোগ বৃদ্ধিতে বিমসটেক এফটিএ দ্রুত চূড়ান্ত করার আহ্বান

Image

ডিপ্লোম্যাটিক ডেস্কঃ

সোমবার (৯ মার্চ ২০২৬) ঢাকার শেরাটন হোটেলে এক ইফতার ও নৈশভোজের আয়োজন করেছেন বিমসটেক এর মহাসচিব ইন্দ্র মণি পান্ডে। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম ও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত। এছারাও অনুষ্ঠানে কূটনীতিক, সরকারি কর্মকর্তাসহ গণমাধ্যমের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

শামা ওবায়েদ ইসলাম তার বক্তব্যে বলেন, এই সমাবেশে অংশ নিতে পেরে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত। তিনি বিমসটেক মহাসচিবকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, পবিত্র রমজান মাসে এ ধরনের আয়োজন বন্ধুত্ব, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক অংশীদারিত্বের মূল্যবোধকে আরও সুদৃঢ় করে।

তিনি বলেন, বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন সভ্যতার মিলনস্থল হিসেবে পরিচিত। বাণিজ্য, সংস্কৃতি ও জ্ঞান-বিনিময়ের মাধ্যমে এ অঞ্চলের মানুষের মধ্যে ঐতিহাসিকভাবে গভীর সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। এই ঐতিহাসিক যোগাযোগই আজকের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য ও অভিন্ন ঐতিহ্যের ভিত্তি তৈরি করেছে।

তিনি আরও বলেন, এই ঐতিহাসিক সম্পর্কের ধারাবাহিকতাই হলো BIMSTEC, যার মাধ্যমে সদস্য দেশগুলো শান্তি, আস্থা ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে একযোগে কাজ করতে পারে।

শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, বর্তমানে বিমসটেক অঞ্চলে বিশ্বের প্রায় এক-চতুর্থাংশ মানুষের বসবাস। বিপুল সম্ভাবনাময় এই অঞ্চলে দ্রুত বিকাশমান অর্থনীতি, তরুণ জনগোষ্ঠী এবং প্রাকৃতিক সম্পদের প্রাচুর্য রয়েছে। তবে একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তন, জ্বালানি নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক রূপান্তর এবং আঞ্চলিক যোগাযোগ জোরদারের মতো চ্যালেঞ্জও রয়েছে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী Tarique Rahman-এর নেতৃত্বে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি আঞ্চলিক সহযোগিতাকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়। সার্বভৌমত্ব, জাতীয় স্বার্থ ও জনগণের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দিয়ে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পরিচালনা করে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমানে বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে বাংলাদেশ সংস্থাটিকে আরও কার্যকর ও ফলপ্রসূ করতে কাজ করছে। অর্থনৈতিক কূটনীতি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং জ্বালানি ও সংযোগ খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধিতে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।

তিনি বলেন, আঞ্চলিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে বিমসটেক ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট (এফটিএ) দ্রুত চূড়ান্ত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে সংযোগ বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা কাঠামো পুনরুজ্জীবনের ওপরও বাংলাদেশ জোর দিচ্ছে।

এদিকে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে বিমসটেক মহাসচিব ইন্দ্র মানি পান্ডে বলেন, ইফতার আয়োজনে উপস্থিত সকলকে তিনি আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। পবিত্র রমজান মাস মানুষের মধ্যে আত্মসংযম, ত্যাগ, সহমর্মিতা ও মানবিকতার শিক্ষা দেয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, উপবাস বা সংযমের চর্চা অনেক ধর্মেই রয়েছে এবং এটি মানুষের মধ্যে শৃঙ্খলা ও আধ্যাত্মিকতার বোধ জাগ্রত করে। একটি সুন্দর পৃথিবী গড়তে হলে মানুষের নিজের ভেতর থেকেই পরিবর্তন শুরু হওয়া প্রয়োজন।

বিমসটেক মহাসচিব বলেন, বর্তমান বিশ্ব নানা যুদ্ধ ও সংঘাতে অস্থির সময় পার করছে। আন্তর্জাতিক আইন ও মানবিক আইন প্রায়ই লঙ্ঘিত হচ্ছে এবং অর্থনৈতিক অস্থিরতার কারণে চরমপন্থা ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এই প্রেক্ষাপটে আঞ্চলিক সহযোগিতার গুরুত্ব আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, বঙ্গোপসাগরকে ঘিরে অবস্থিত সাতটি দেশ নিয়ে গঠিত বিমসটেক গত ২৮ বছর ধরে সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তুলেছে এবং নানা খাতে যৌথ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।

একটি অরাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে বিমসটেক মানুষের কল্যাণসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

মহাসচিব আরও বলেন, সদস্য দেশগুলোর দৃঢ় অঙ্গীকারের কারণে বিমসটেক ভবিষ্যতে এ অঞ্চলে নিরাপত্তা ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

তিনি বাংলাদেশের সরকারের দিকনির্দেশনায় বিমসটেক সচিবালয়ের ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আশাবাদ ব্যক্ত করে বক্তব্য শেষ করেন।

Scroll to Top