February 23, 2026

শিরোনাম
  • Home
  • আন্তর্জাতিক
  • বাংলাদেশ এর সাথে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদারের আশাবাদ ব্যক্ত করলো রাশিয়া

বাংলাদেশ এর সাথে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদারের আশাবাদ ব্যক্ত করলো রাশিয়া

Image

ডিপ্লোম্যাটিক ডেস্কঃ

ঢাকায় অবস্থিত রাশিয়ান এমব্যাসি রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) রুশ সেনা দিবস ও ফাদারল্যান্ডের রক্ষক দিবস উপলক্ষে এক সংবর্ধনার আয়োজন করে। আয়োজনে কূটনীতিক, সামরিক কর্মকর্তা, সরকারি প্রতিনিধিসহ বিশিষ্ট অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি রাশিয়া-বাংলাদেশ প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ধারাবাহিকতা ও ঐতিহাসিক বন্ধুত্বের প্রতিফলন হিসেবে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন রাশিয়ান দূতাবাসের মিলিটারি, এয়ার ও নেভাল অ্যাটাশে কর্নেল পাভেল ইভাশিননিকভ। তিনি দিবসটির ঐতিহাসিক তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, ১৯১৮-১৯১৯ সালে রুশ সেনাবাহিনীর প্রাথমিক বিজয়ের মধ্য দিয়ে এ দিবসের সূচনা হলেও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের মহান দেশপ্রেমিক যুদ্ধে নাৎসি জার্মানির বিরুদ্ধে বিজয় এ দিবসকে বিশেষ মর্যাদা দেয়। তিনি উল্লেখ করেন, এই দিনটি শুধু সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের সম্মান জানানোর দিন নয়, বরং দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্বের কথাও স্মরণ করিয়ে দেয়।

কর্নেল ইভাশিননিকভ বলেন, রুশ ফেডারেশনের সশস্ত্র বাহিনী বর্তমানে একটি আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও যুদ্ধ-অভিজ্ঞ বাহিনী, যা উন্নত অস্ত্রব্যবস্থাসহ হাইপারসনিক প্রযুক্তিতে সজ্জিত। জটিল আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে রাশিয়ার জাতীয় সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও শান্তিপূর্ণ উন্নয়ন নিশ্চিত করতে এ বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তিনি চলমান বিশেষ সামরিক অভিযানে রুশ সেনাদের সাহসিকতা, পেশাদারিত্ব ও দৃঢ়তার কথাও উল্লেখ করেন।

দ্বিপাক্ষিক সামরিক সহযোগিতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বাংলাদেশ রাশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সম্মানিত অংশীদার। সম্প্রতি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের মস্কো সফর দুই দেশের মধ্যে গভীরতর সংলাপের প্রমাণ বহন করে। একইভাবে কৌশলগত সামরিক মহড়া “জাপাদ”-এ বাংলাদেশের কন্টিনজেন্ট ও পর্যবেক্ষকদের অংশগ্রহণ পারস্পরিক আস্থা ও বোঝাপড়া বৃদ্ধিতে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, যৌথ প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা বিনিময় ভবিষ্যতে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা জোরদারে সহায়ক হবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সহকারী নৌপ্রধান (স্টাফ) রিয়ার অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ মুসা। তিনি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় চট্টগ্রাম বন্দরে মাইন অপসারণে সোভিয়েত নৌবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, সে সময়ের সহযোগিতা দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্ব ও সংহতির ভিত্তি রচনা করে, যা পরবর্তীতে উচ্চপর্যায়ের সফর ও সামরিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে আরও বিস্তৃত হয়েছে।

রিয়ার অ্যাডমিরাল মুসা বলেন, বাংলাদেশ রাশিয়ার সঙ্গে প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্বকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। বিগত বছরগুলোতে উচ্চপর্যায়ের সফর, পেশাগত বিনিময়, নৌ মহড়া, রক্ষণাবেক্ষণ প্রদর্শনী ও যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ বৈঠকের মাধ্যমে সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় হয়েছে। ২০১৮, ২০২৩ এবং গত বছর রুশ নৌবাহিনীর জাহাজ বাংলাদেশ সফর করেছে, যা পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়েছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ভবিষ্যতে যৌথ মহড়া, প্রতিরক্ষা সেমিনার, পেশাগত প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা উন্নয়ন কর্মসূচির মাধ্যমে সহযোগিতা সম্প্রসারণের সম্ভাবনা রয়েছে। প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি সহযোগিতা ও প্রযুক্তি হস্তান্তর উদ্যোগ জোরদার করা গেলে তা উভয় দেশের জাতীয় নিরাপত্তা ও সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে স্থানীয় একটি অর্কেস্ট্রা রুশ ও বাংলাদেশি সামরিক সংগীত পরিবেশন করে। প্রাণবন্ত পরিবেশে অতিথিরা দুই দেশের ঐতিহ্যবাহী সামরিক সুর উপভোগ করেন, যা রাশিয়া ও বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রতীক হিসেবে প্রতিফলিত হয়।

Scroll to Top