April 5, 2026

শিরোনাম
  • Home
  • শিক্ষাঙ্গন
  • পাবলিক পরীক্ষা, চাকরি, শিক্ষক নিয়োগ বা যে কোনো নিয়োগ পরীক্ষায় নকল করলে শাস্তি হবে: শিক্ষা মন্ত্রী

পাবলিক পরীক্ষা, চাকরি, শিক্ষক নিয়োগ বা যে কোনো নিয়োগ পরীক্ষায় নকল করলে শাস্তি হবে: শিক্ষা মন্ত্রী

Image

ডেস্ক রিপোর্টঃ

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, পাবলিক পরীক্ষা, চাকরি, শিক্ষক নিয়োগ বা যে কোনো নিয়োগের পরীক্ষায় নকল করলে শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। এ বছর পরীক্ষায় যেসব বিদ্যালয়ের পাসের হার শূন্য হবে, গ্রেস পিরিয়ড হিসেবে তাদের এমপিও বাতিল করা হবে না। প্রত্যেক কেন্দ্রে সিসিটিভি রাখতে হবে। এ সিসিটিভি স্থায়ী থাকবে, যাতে ক্লাসের লেখাপড়া মনিটর করা যায়। কোচিং সেন্টার পর্যায়ক্রমে বন্ধ করা হবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘ইন-হাউজ’ কোচিং চালু করার মাধ্যমে। এই ইন-হাউজ কোচিংয়ে যে ছাত্র যে বিষয়ে দুর্বল, সেই বিষয়ে পাঠদান করা হবে।

শনিবার (০৪ এপ্রিল, ২০২৬) কুমিল্লায় এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা ২০২৬ উপলক্ষে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের কেন্দ্র সচিবদের সাথে পরীক্ষায় নকল প্রতিরোধ বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড কুমিল্লার চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. শামসুল ইসলাম।

মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে “আগামীর বাংলাদেশ” গড়ার যে ভিশন গ্রহণ করা হয়েছে, তার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে শিক্ষা। এই লক্ষ্য অর্জনে নকলমুক্ত, সুশৃঙ্খল ও মানসম্পন্ন শিক্ষা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা অপরিহার্য।

শিক্ষা মন্ত্রী অতীত অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, ২০০১-২০০৬ মেয়াদে নকলবিরোধী কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে শিক্ষার গুণগত মান দৃশ্যমানভাবে বৃদ্ধি পেয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীকালে বিভিন্ন কারণে সেই ধারাবাহিকতা ব্যাহত হয়। তিনি বলেন, “আমরা আবার সেই সঠিক পথে ফিরতে চাই, যেখানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং প্রশাসন সম্মিলিতভাবে একটি সৎ ও জবাবদিহিমূলক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলবে।”

সভায় নকল প্রতিরোধে ১৯৮০ সালের পাবলিক পরীক্ষা আইন আধুনিকায়নের বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব পায়। মন্ত্রী জানান, প্রযুক্তির অগ্রগতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে আইনটি সংশোধন করা হচ্ছে, যাতে ডিজিটাল মাধ্যমে নকলসহ সকল ধরনের অসদুপায় প্রতিরোধ করা যায়। নতুন প্রস্তাবনায় কেন্দ্র সচিব, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান এবং সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার বিধান সংযোজন করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, কোনো পরীক্ষাকেন্দ্রে নকলের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট সকলকে আইনের আওতায় আনা হবে এবং প্রয়োজনে পরীক্ষা-পরবর্তী খাতা মূল্যায়নেও র‌্যান্ডম চেকিং চালু করা হবে।

মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার অবদানের কথাও গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, তাঁর সময়েই শিক্ষা খাতে শৃঙ্খলা ও নীতিনিষ্ঠা প্রতিষ্ঠার ভিত্তি সুদৃঢ় করা হয়েছিল, যা বর্তমান সংস্কার কার্যক্রমের পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করছে।

সভায় কুমিল্লা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. জসীম উদ্দিন, কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া, কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী, কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল কালাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল মান্নান, কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এবং মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. ইউসুফ মোল্লা, স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দসহ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট বোর্ডগুলোর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার কেন্দ্র সচিবগণ উপস্থিত ছিলেন।

Scroll to Top