অনলাইন ডেস্কঃ
জাতি গঠনে নারী: নীতি, সম্ভাবনা ও বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ শীর্ষক এক নীতি সংলাপে নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া দেশের টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। তিনি বলেন, দেশের জন্য ও দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করার আন্তরিকতা সবার মধ্যে থাকা উচিত।

রোববার (১৮ জানুয়ারি, ২০২৬) রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট (কেআইবি) মিলনায়তনে আয়োজিত “Shaping the Nation: Policy, Possibility & the Future of Bangladesh” শীরোনামের আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। এটি ছিল বাংলাদেশের নীতিনির্ধারণ পর্যায়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের প্রথম সরাসরি বক্তব্য।
বক্তব্যের শুরুতে আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে জাইমা রহমান বলেন, সমাজে ভিন্ন ভিন্ন মত, অভিজ্ঞতা ও দৃষ্টিভঙ্গি থাকা স্বাভাবিক। কিন্তু ভিন্নতার মধ্য দিয়েই একে অপরের কথা শোনা ও আলোচনা করাই গণতন্ত্রের প্রকৃত সৌন্দর্য। দেশের কল্যাণে সবাই একসঙ্গে ভাবছে বলেই এমন একটি আলোচনা সম্ভব হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
নিজের বক্তব্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তিনি এমন কেউ নন যার কাছে সব প্রশ্নের উত্তর বা সব সমস্যার সমাধান আছে। তবে নিজের অবস্থান থেকে সমাজ ও দেশের জন্য কিছু করার আন্তরিকতা থাকলে পরিবর্তন সম্ভব। তিনি বলেন, আজকের এই আলোচনায় তিনি মূলত শুনতে, শিখতে এবং ভবিষ্যতে একসঙ্গে কাজ করার মানসিকতা নিয়ে অংশ নিয়েছেন।
নারীদের উন্নয়ন ও অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে ব্যারিস্টার জাইমা রহমান বলেন, জনসংখ্যার অর্ধেক অংশকে পিছনে রেখে বাংলাদেশ কখনোই টেকসই উন্নয়নের পথে এগোতে পারে না। দেশের সামগ্রিক অগ্রগতির জন্য নারীদের সক্রিয় ও অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন অর্থনীতিবিদ ড. ফাহমিদা খাতুন। তিনি বলেন, নারীদের উন্নয়নের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা হলো অর্থায়নে প্রবেশাধিকার বা একসেস টু ফাইন্যান্স। বিশেষ করে ক্ষুদ্র নারী উদ্যোক্তারা ঋণ পেতে নানামুখী সমস্যার সম্মুখীন হন। এ বিষয়ে ভবিষ্যৎ সরকারগুলোর বিশেষ মনোযোগ প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন। পাশাপাশি তিনি বলেন, স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের পর নারীরা নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারেন।
সমাজকর্মী ও উদ্যোক্তা তামারা আবেদ বলেন, নারীদের শুধু জনসংখ্যার অংশ হিসেবে না দেখে মানবসম্পদ বা হিউম্যান ক্যাপিটাল হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। নারীদের মধ্যে যে লুকায়িত সম্ভাবনা রয়েছে, তা কাজে লাগাতে পরিকল্পিত নীতি ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।











