March 15, 2026

শিরোনাম
  • Home
  • অন্যান্য খবর
  • ঈদের আগেই শ্রমিকদের বেতন-বোনাস পরিশোধের নির্দেশ শ্রমমন্ত্রীর

ঈদের আগেই শ্রমিকদের বেতন-বোনাস পরিশোধের নির্দেশ শ্রমমন্ত্রীর

Image

ডেস্ক রিপোর্টঃ

শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী দেশের সব শিল্প-কারখানার শ্রমিকদের বকেয়া বেতন ও ঈদ বোনাস ঈদের ছুটির আগেই পরিশোধ করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, কোনো অবস্থাতেই যেন শ্রমিকদের প্রাপ্য পাওনা নিয়ে কোনো জটিলতা সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

শুক্রবার (১৩ মার্চ ২০২৬) রাজধানীর বেইলি রোডে শ্রমমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের অফিস কক্ষে তৈরি পোশাক (আরএমজি) ও নন-আরএমজি খাতে শ্রম অসন্তোষ নিরসনে করণীয় নির্ধারণে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের সভায় তিনি এ নির্দেশনা দেন।

মন্ত্রী বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ শিল্প-কারখানার তালিকা সংসদীয় এলাকা ভিত্তিক প্রস্তুত করে সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যদের কাছে দেওয়া হবে। তারা সরাসরি কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে শ্রমিকদের বকেয়া বেতন ও বোনাস দ্রুত পরিশোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও ইউসিবিএল, ট্রাস্ট ও প্রিমিয়ার ব্যাংকসহ যেসব ব্যাংক ঋণ প্রদানে গড়িমসি করছে, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত ঋণের ব্যবস্থা নিশ্চিত করারও নির্দেশ দেন তিনি।

শ্রমমন্ত্রী আরও বলেন, কিছু শ্রমিক নেতা অহেতুক শ্রমিকদের উসকানি দিয়ে শিল্পখাতে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করছেন। এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রশাসনকে সজাগ থাকতে হবে। একই সঙ্গে পলাতক মালিকদের এবং তাদের প্রতিষ্ঠানের একটি তালিকা প্রস্তুত করার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, এসব কারখানায় যেন কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সেদিকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

সভায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদি আমিন বলেন, সরকার গঠনের ১৮০ দিনের মধ্যে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বন্ধ কারখানাগুলো পুনরায় চালু করা হবে। তিনি জানান, শ্রমিকদের সমস্যা সমাধানে কঠোর নজরদারি চালানোর জন্য প্রধানমন্ত্রীর সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে।

সভায় বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান জানান, ঢাকা ও চট্টগ্রামে চালু থাকা ২ হাজার ১২৭টি কারখানার মধ্যে ১ হাজার ৯৬৪টি (৯২.৩৪ শতাংশ) কারখানা ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন পরিশোধ করেছে এবং ১ হাজার ৫৩৫টি (৭২.১৭ শতাংশ) কারখানা ঈদের বোনাস দিয়েছে। তিনি বলেন, মার্চ মাসের বেতন পরিশোধ বাধ্যতামূলক নয়; তবে যেসব কারখানার সামর্থ্য রয়েছে তারা তা দিতে পারে। এ বিষয়ে শ্রমিকদের অনেককে উসকানি দেওয়া হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, দেশের ৮৩৪টি কারখানার মধ্যে ৫১২টি কারখানা ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন দিয়েছে এবং ৬০৪টি কারখানা ঈদের বোনাস পরিশোধ করেছে। অধিকাংশ কারখানা বেতন-বোনাস পরিশোধ করায় বড় ধরনের শ্রমিক অসন্তোষ সৃষ্টি হবে না বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদার বলেন, একটি আপদকালীন তহবিল গঠন করা গেলে সেই অর্থ ব্যবহার করে শ্রমিকদের বেতন-বোনাস সংক্রান্ত সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধান করা সম্ভব হবে।

সভায় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মো. সালাউদ্দিন, ঢাকা-২০ আসনের সংসদ সদস্য মো. তমিজ উদ্দিন, গাজীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মজিবুর রহমান, গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এম মনজুরুল করিম রনি, গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য এস এম রফিকুল ইসলাম এবং গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য ফজলুল হক মিলনসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

Scroll to Top