January 30, 2026

শিরোনাম
  • Home
  • অর্থ ও বাণিজ্য
  • ইইউ বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও গণতন্ত্রের উন্নয়নে সমর্থন অব্যাহত রাখবে: মাইকেল মিলার

ইইউ বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও গণতন্ত্রের উন্নয়নে সমর্থন অব্যাহত রাখবে: মাইকেল মিলার

Image

ঢাকায় আজ শনিবার (২২ নভেম্বর ২০২৫) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলন ‘Bay of Bengal Conversation 2025’, যার আয়োজন করেছে সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ (CGS)। চতুর্থবারের মতো অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনের উদ্বোধনী দিনে PLENARY SESSION: “Beyond Non-Alignment, The Bay as the New Middle Ground”–এ বক্তা হিসেবে অংশ নেন বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অ্যাম্বাসেডর ও হেড অব ডেলিগেশন মাইকেল মিলার।

বক্তব্যে তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্ব অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং এমন পরিস্থিতিতে বহুপাক্ষিকতা কোনো বিলাসিতা নয়, বরং নিরাপত্তা, টেকসই উন্নয়ন ও বৈশ্বিক সমৃদ্ধির একমাত্র টেকসই পথ। তিনি উল্লেখ করেন যে, নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলা চাপে থাকলেও ইউরোপীয় ইউনিয়ন জাতিসংঘ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে দৃঢ় অঙ্গীকারবদ্ধ রয়েছে। ইইউ বিশ্বের মাত্র ৫.৫% জনসংখ্যা ও ১৪.৭% জিডিপি নিয়ে দাঁড়ালেও বৈশ্বিক মানবিক সহায়তার ৩০.৯% এবং উন্নয়ন সহায়তার ৪৩% প্রদান করে—যা আগামী বছর আরও বাড়বে বলে তিনি জানান।

ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই অঞ্চল বৈশ্বিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এবং ইইউ দায়িত্বশীল সহযোগিতা, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, সংযোগ ও নিরাপত্তা জোরদারে ৭০টিরও বেশি দেশের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রেখেছে। বাংলাদেশের বিষয়ে তিনি বলেন, গত ২৫ বছরে ইইউর বাজারে অগ্রাধিকারমূলক সুবিধা দেশের তৈরি পোশাক খাতকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে, কর্মসংস্থান তৈরি করেছে এবং দেশের উন্নয়ন যাত্রাকে গতিশীল করেছে।

মাইকেল মিলার দৃঢ়ভাবে উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অংশীদারত্ব একটি কৌশলগত সিদ্ধান্ত, যার কেন্দ্রে রয়েছে অধিকার, সুযোগ সৃষ্টি, গণতন্ত্র ও সম্মানজনক শ্রমপরিবেশ। তিনি জানান, ইইউ–বাংলাদেশ শিগগিরই একটি উন্নত ও বিস্তৃত Partnership and Cooperation Agreement (PCA) চূড়ান্ত করতে যাচ্ছে। তিনি আরও জানান, ইইউ বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তরকে সমর্থন করছে, নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে কাজ করছে এবং আগামি নির্বাচনের জন্য সবচেয়ে বড় পর্যবেক্ষক দল পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, নতুন যে-ই সরকার গঠন করুক, যাতে তারা চলমান সংস্কার প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখে, গণভোটে প্রতিফলিত রাজনৈতিক ঐকমত্য বাস্তবায়ন করে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করে। তিনি সতর্ক করে বলেন, “ইইউকে কখনোই taken for granted ধরা যাবে না—আমরা যেমন আপনাদের স্বার্থকে সম্মান করি, আপনাদেরও আমাদের স্বার্থকে সম্মান করতে হবে।”

শেষে তিনি বলেন, সকল বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা ও পুনর্গঠনের মাঝেও ইইউ বাংলাদেশকে সমৃদ্ধ, স্থিতিশীল ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে চায় এবং দুই অঞ্চলের সম্পর্ক শুধু স্বার্থ নয়, বরং অভিন্ন মূল্যবোধের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে। বক্তব্যের শেষে তিনি সম্মেলনের সফলতা কামনা করেন।

Scroll to Top