নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে জনগণ কোনোভাবেই ভোটাধিকার হরণ করতে দেবে না। তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, জনগণের ঐক্য ও সচেতনতার মাধ্যমেই একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করা সম্ভব।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি, ২০২৬) দিবাগত রাত ১২টার পর ময়মনসিংহ থেকে ঢাকায় ফেরার পথে গাজীপুরের ভাওয়াল রাজবাড়ী মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘ আন্দোলনের মাধ্যমে স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটেছে। এখন সময় দেশ পুনর্গঠন ও মানুষের জীবনমান পরিবর্তনের। এ লক্ষ্য অর্জনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থেকে নিরলস পরিশ্রম করার আহ্বান জানান তিনি।

ভোটারদের সতর্ক থাকার অনুরোধ জানিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, নির্বাচনের দিন প্রত্যেক ভোটার যেন নিজ নিজ ভোটকেন্দ্রে সকালের আগেই উপস্থিত থাকেন। তিনি বলেন, “১২ তারিখ ফজরের নামাজ শেষে ভোটকেন্দ্রের সামনে অবস্থান নেবেন, যাতে কেউ আগেভাগে দখল নিতে না পারে। ভোট দেওয়া শেষ হলেও কেন্দ্রের আশপাশে সতর্ক অবস্থানে থাকতে হবে।”
তিনি উল্লেখ করেন, বিগত বহু বছর ধরে মানুষ নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি। নানা কৌশলে ভোট লুটের ঘটনা ঘটেছে। এবার জনগণ সেই সুযোগ আর কাউকে দেবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

গাজীপুরবাসীর অবদানের কথা স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, ২০২৪ সালের গণআন্দোলনে এ জেলার হাজার হাজার মানুষ ঢাকায় গিয়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও স্বাধীনতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এই আত্মত্যাগ যেন বৃথা না যায়—সে ব্যাপারেও সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।
নিজের শৈশবের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধের আগের সময়গুলোতে ভাওয়াল রাজবাড়ী মাঠে তাঁর বেড়ে ওঠা ও খেলাধুলার স্মৃতি জড়িয়ে আছে। রাজবাড়ির বিপরীত পাশে লাল বাংলোতে পরিবারসহ বসবাসের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। সেই আত্মিক সম্পর্কের জায়গা থেকেই গাজীপুরবাসীর কাছে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চেয়ে নেন বিএনপি চেয়ারম্যান।
গাজীপুরের উন্নয়নে বিএনপির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, জয়দেবপুর রেল ক্রসিংয়ে ফ্লাইওভার নির্মাণ, খাল খনন, শিল্প এলাকায় ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপন, নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড এবং কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড চালু করা হবে। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আসন্ন নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীদের বিজয়ী করার আহ্বান জানান তিনি।

এ সময় গাজীপুরের পাঁচটি আসনের বিএনপি প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। তারা হলেন— গাজীপুর-১ আসনে মজিবুর রহমান, গাজীপুর-২ এ এম মনজুরুল করীম রনি, গাজীপুর-৩ এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, গাজীপুর-৪ শাহ রিয়াজুল হান্নান এবং গাজীপুর-৫ আসনে ফজলুল হক মিলন।








মহানগর বিএনপির সভাপতি শওকত হোসেন সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ জনসভায় সঞ্চালনা করেন এম মনজুরুল করীম রনি ও চৌধুরী ইশরাক আহমেদ সিদ্দিকী। সভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী সাইয়েদুল আলম বাবুলসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের একাধিক নেতা।











