সম্পাদক, মোহাম্মদ সজীবুল-আল-রাজীবঃ
মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীরউত্তম-এর ৯০তম জন্মবার্ষিকী আজ সোমবার, ১৯ জানুয়ারি। দিনটি উপলক্ষে দেশজুড়ে তাঁর বর্ণাঢ্য জীবন, দেশপ্রেম ও অবিস্মরণীয় অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হচ্ছে।
জিয়াউর রহমান ১৯৩৬ সালের ১৯ জানুয়ারি বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। নেতৃত্বহীন ও দিশাহীন জাতির জন্য তিনি হয়ে ওঠেন সাহসী পথপ্রদর্শক। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্নে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে তিনি বাঙালি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধে উদ্বুদ্ধ করেন। মুক্তিযুদ্ধে তাঁর দৃঢ় নেতৃত্ব ও সাহসিকতা জাতির ইতিহাসে অনন্য অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত।
মুক্তিযুদ্ধে জিয়াউর রহমান ছিলেন অন্যতম সেক্টর কমান্ডার এবং পরবর্তীতে জেড ফোর্সের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। যুদ্ধক্ষেত্রে অসামান্য বীরত্ব ও অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে ‘বীরউত্তম’ খেতাবে ভূষিত করা হয়, যা তাঁর দেশপ্রেম ও আত্মত্যাগের প্রতীক।
স্বাধীনতার পর তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। কুমিল্লায় ব্রিগেড কমান্ডার হিসেবে নিয়োগের পর ১৯৭২ সালে সেনাবাহিনীর ডেপুটি চিফ অব স্টাফ হন। ধারাবাহিক পদোন্নতির মাধ্যমে ১৯৭৩ সালে ব্রিগেডিয়ার, একই বছরের শেষে মেজর জেনারেল এবং ১৯৭৫ সালের ২৫ আগস্ট লেফটেন্যান্ট জেনারেল পদে উন্নীত হয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান নিযুক্ত হন।
রাষ্ট্র পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা ছিল তাৎপর্যপূর্ণ। ১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল তিনি বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর ১৯ দফা কর্মসূচির ভিত্তিতে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি গঠন করেন, যা দেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে নতুন ধারার সূচনা করে।
১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সেনাবাহিনীর কিছু বিপথগামী সদস্যের হাতে তিনি নিহত হন। তাঁর শাহাদাতে সেদিন শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়ে গোটা জাতি। কোটি কোটি মানুষের অশ্রুতে বাংলার আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে ওঠে, আর বিশ্ববাসীও গভীর শোক প্রকাশ করে।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জীবন ও কর্ম আজও জাতির প্রেরণার উৎস। স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রের প্রশ্নে তাঁর অবদান ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।











